মরিয়মের রেখে যাওয়া চিরকুটে মিলছে যে বার্তা
- আপডেট সময় : ০৮:২১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
তিনি মরিয়ম৷ দাদার সমান পুরুষকে বিয়ে করে দেশ জুড়ে ছিলেন আলোচিত৷ আবার সেই পুরুষটি যখন বিরোধীদলীয় জামায়াতে ইসলামের মনোনিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য৷ হোটেল থেকে শুরু এই জুটির দেশ জুড়ে পরিচিতি৷ সংসদ ভবনের ন্যামফ্লাটে যার শেষ পরিনতি৷ পূর্বের রস- গল্পের ঝড়- ঝাপটা শেষ না হতেই আবারো নতুন করে আলোচিত৷ এখনো ঠিক করে হাতের মেহেদীর রং শুকায়নি৷ এরই মধ্যে মরিয়মের মৃত্যুর সংবাদ৷ ন্যামফ্লাটের তৃতীয় তালায় মরিয়মের ঝুলন্ত লাস পেয়েছে পুলিশ৷ প্রাথমিক ধারনায় বলা হচ্ছে আত্মহত্যা৷ কিন্তু মরিয়মের বাবা-মায়ের দাবি হত্যা করা হয়েছে৷ তবে কোনটি সঠিক? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সে সত্য খোঁজার চেষ্টা করছে৷ চারদিনের রিমান্ডে সাংসদ গাজী নজরুল৷ ১দিনের রিমান্ডে তার প্রথম স্ত্রী৷
এদিকে হত্যার নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে মরিয়মের হাতের লেখায় রেখে যাওয়া কিছু চিরকুট৷
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড থেকে শুরু করে সাদা কাগজ—কোথাও লাল, কোথাও কালো কালির আঁচড়। তার লেখায় প্রতিটি পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে যেন একটি সম্পর্কের অজানা গল্প। কখনো সেখানে ভালোবাসার উষ্ণতা, কখনো অভিমানের ভার, আবার কখনো বিশ্বাস হারানোর গভীর ক্ষত। কিছু পাতায় ফুটে উঠেছে হারিয়ে যাওয়ার বেদনা, কোথাও আছে না-পাওয়ার আক্ষেপ; আর কোথাও ভেঙে পড়ার পরও নিজেকে সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা।
এমপি গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা চিরকুট গুলো যেন সেই সম্পর্কের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী। অক্ষরের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে ভালোবাসা, টানাপোড়েন, প্রতারণার অভিযোগ ও বিশ্বাসভঙ্গের কষ্ট। কোথাও রয়েছে গভীর অসহায়ত্বের প্রকাশ, আবার কোথাও সব হারিয়েও আত্মসম্মান আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়—চিরকুটগুলোর পাতায় পাতায় মিশে আছে আবেগ, ক্ষত আর না-বলা অনেক কথা।

শেষ বিদায়ের আগে এক চিরকুটে মরিয়ম নিজেকে পরাজয়ের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শেষে শান্ত অথচ কঠিন স্বরে সতর্ক করে বলেছেন— ‘আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো, কারণ, তোমাকে আমি বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো—আমাকে ঠকিয়ে তুমি জিততে পেরেছো।’ ‘আমি ধ্বংসের শেষে দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও, এই হাসিই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ!’

একই সময়ের আরেক চিঠিতে মরিয়ম নিজের বিশ্বাস ভঙ্গের কথা বলে প্রিয়তম স্বামীকে উপহাস করেছেন বিপক্ষের সেনাপতি হিসেবে। তিনি লিখেছেন
‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তাকর সাথে। জিততে পারিনি। জিতবই বা কেমনে? যুদ্ধের শেষপ্রান্তে গিয়ে দেখি—তুমি ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি!
বিদায়কালের আগে তিনি আরও কিছু কথা হৃদয় নিংড়ে লিখেছেন শাদা কাগজের বুকে। তিনি আক্ষেপ করে লিখেন, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে, কলমে, অধিকারে ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা। অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ।’
মরিয়ম লিখেন, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ, ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়। ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ না হয় অপূর্ণ।’
কিছু আক্ষেপ, নীরবে হৃদয় ফুঁড়ে বেরোনো ব্যথা
অভিমান ঝেরে কড়া নরম অথচ ধারালো ভাষায় তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই। তা না হলে, যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই।’
দ
ভালোবাসা হেলা সহে না কভু…
মরিয়মের নোটবুকের অন্য এক পৃষ্ঠায় দেখা যায়- রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগের কিছু আমল। যা থেকে তার প্রতি বিপুল আগ্রহ ও অনুরাগ ফুটে ওঠে-
মরিয়ম লিখেছেন-
ঘুমানোর আগে ৬টি আমল
কালেমা
দুরুদ শরীফ ২১ বার
ঘুমের দোয়া—আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া
আয়াতুল কুরসি
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ২১ বার
আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার
ইয়া আরহামার রহিমিন ১১ বার
অনন্তের পথে পাড়ি—যে ঘুমের নেই কোনো ভোর-
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাতটা চল্লিশ মিনিটের দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান। জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাটে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরে, সোমবার মধ্যরাতে রাজধানী শেরেবাংলা নগরের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।























