ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ান গেমস ভেন্যু নিয়ে তীব্র সমালোচনা,সর্বকালের সবচেয়ে বাজে আবাসন

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১০০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে বড় কোন প্রকল্পের শ্রমিকদের জন্য বানানো সাময়িক কোন আবাসন। বাংলাদেশে পদ্মসেতু, যমুনা সেতু তৈরির সময় বিদেশী কোম্পানীদের শ্রমিকদের সাময়িক আবাসনের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তাই বলে এশিয়ান গেমসের মতো একটি সম্মানীয় ক্রীড়াযজ্ঞের জন্যও সেই একই ব্যবস্থাপনা? আইচি-নাগোয়া পৌছার পর বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা এমন দৃশ্যে কিংকর্তব্য বিমুঢ়। জাপানের মতো একটি উন্নত দেশের এমন আয়োজনে গোটা এশিয়াই হতাশ। অসন্তোষ প্রকাশ করছে সবাই।

শনিবার জাপানে এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার আগেই তাই আয়োজক জাপানকে নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। গেমসে অংশগ্রহনকারী হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের জন্য তৈরি করা কাঠের কন্টেইনার-ঘরগুলো নিয়ে চলছে তীব্র অসন্তোষ। কোরিয়া বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জং জে-ইয়ং এএফপি( এএফপি) সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে, এই আবাসন ব্যবস্থাটি ছিল “সর্বকালের সবচেয়ে বাজে”। “যেসব ক্রীড়াবিদের উচ্চতা দুই মিটারের (৬ ফুট ৭ ইঞ্চি) বেশি, তারা বিছানায় পা-ও সোজা করে শুতে পারছেন না। বিষয়টি অযৌক্তিক।”

নাগোয়া শহর এবং বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এই গেমসটিতে বিছানার সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উদ্বেগ ছিল। এতে ১৭ হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন—যা প্রাথমিক প্রত্যাশা অনুযায়ী ১৫ হাজার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

প্রায় ২ হাজার অতিথিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী এই কন্টেইনারগুলো নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বাস্কেটবল দলের এক সদস্য নিজের কক্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যাতে দেখা যায় পাইপ চুঁইয়ে পানি পড়ছে এবং মেঝে ভিজে গেছে; ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন: “দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।”

গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যার কারণে ক্রীড়াবিদদের সাময়িকভাবে ওই কন্টেইনারগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতার কয়েকটি ভেন্যু বা ক্রীড়াস্থলেও পানি চুঁইয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বাস্কেটবল কর্মকর্তা জং এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে এই উদ্বেগের বিষয়টি গেমসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যেও রয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই ঘরগুলোর আদলে অনুরূপ কাঠামো তৈরি করেছে যাতে তাদের ক্রীড়াবিদরা সেখানে থাকার সাথে অভ্যস্ত হতে পারেন। ক্রীড়াবিদদের থাকার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজস্ব ‘কন্টেইনার হাট’ বা কন্টেইনার-ভিত্তিক অস্থায়ী আবাস তৈরি করেছে ভারত।

সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া কর্মকর্তারা এই ব্যবস্থাকে গেমসের ইতিহাসে “সবচেয়ে বাজে” আবাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে এখানকার বিছানাগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট।

আবাসন ব্যবস্থাপক ইউতা মাতসুও রয়টার্সকে বলেছেন যে, আয়োজকরা “ক্রীড়াবিদদের প্রতিনিধিদলের অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়ে পুরোপুরি অবগত”। তিনি জানান, “ক্রীড়াবিদদের জন্য পরিবেশ উন্নত করতে তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান গেমস ভেন্যু নিয়ে তীব্র সমালোচনা,সর্বকালের সবচেয়ে বাজে আবাসন

আপডেট সময় : ০৯:১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে বড় কোন প্রকল্পের শ্রমিকদের জন্য বানানো সাময়িক কোন আবাসন। বাংলাদেশে পদ্মসেতু, যমুনা সেতু তৈরির সময় বিদেশী কোম্পানীদের শ্রমিকদের সাময়িক আবাসনের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে। কিন্তু তাই বলে এশিয়ান গেমসের মতো একটি সম্মানীয় ক্রীড়াযজ্ঞের জন্যও সেই একই ব্যবস্থাপনা? আইচি-নাগোয়া পৌছার পর বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা এমন দৃশ্যে কিংকর্তব্য বিমুঢ়। জাপানের মতো একটি উন্নত দেশের এমন আয়োজনে গোটা এশিয়াই হতাশ। অসন্তোষ প্রকাশ করছে সবাই।

শনিবার জাপানে এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার আগেই তাই আয়োজক জাপানকে নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। গেমসে অংশগ্রহনকারী হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের জন্য তৈরি করা কাঠের কন্টেইনার-ঘরগুলো নিয়ে চলছে তীব্র অসন্তোষ। কোরিয়া বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জং জে-ইয়ং এএফপি( এএফপি) সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে, এই আবাসন ব্যবস্থাটি ছিল “সর্বকালের সবচেয়ে বাজে”। “যেসব ক্রীড়াবিদের উচ্চতা দুই মিটারের (৬ ফুট ৭ ইঞ্চি) বেশি, তারা বিছানায় পা-ও সোজা করে শুতে পারছেন না। বিষয়টি অযৌক্তিক।”

নাগোয়া শহর এবং বৃহত্তর আইচি প্রিফেকচারে আয়োজিত এই গেমসটিতে বিছানার সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উদ্বেগ ছিল। এতে ১৭ হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন—যা প্রাথমিক প্রত্যাশা অনুযায়ী ১৫ হাজার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

প্রায় ২ হাজার অতিথিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তৈরি এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী এই কন্টেইনারগুলো নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া বাস্কেটবল দলের এক সদস্য নিজের কক্ষের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যাতে দেখা যায় পাইপ চুঁইয়ে পানি পড়ছে এবং মেঝে ভিজে গেছে; ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন: “দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।”

গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যার কারণে ক্রীড়াবিদদের সাময়িকভাবে ওই কন্টেইনারগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতার কয়েকটি ভেন্যু বা ক্রীড়াস্থলেও পানি চুঁইয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বাস্কেটবল কর্মকর্তা জং এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে এই উদ্বেগের বিষয়টি গেমসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যেও রয়েছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই ঘরগুলোর আদলে অনুরূপ কাঠামো তৈরি করেছে যাতে তাদের ক্রীড়াবিদরা সেখানে থাকার সাথে অভ্যস্ত হতে পারেন। ক্রীড়াবিদদের থাকার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজস্ব ‘কন্টেইনার হাট’ বা কন্টেইনার-ভিত্তিক অস্থায়ী আবাস তৈরি করেছে ভারত।

সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া কর্মকর্তারা এই ব্যবস্থাকে গেমসের ইতিহাসে “সবচেয়ে বাজে” আবাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে এখানকার বিছানাগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ছোট।

আবাসন ব্যবস্থাপক ইউতা মাতসুও রয়টার্সকে বলেছেন যে, আয়োজকরা “ক্রীড়াবিদদের প্রতিনিধিদলের অসন্তোষ ও উদ্বেগের বিষয়ে পুরোপুরি অবগত”। তিনি জানান, “ক্রীড়াবিদদের জন্য পরিবেশ উন্নত করতে তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”