ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মমতার সরকারকে দুষলেন শুভেন্দু অধিকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই মৃত্যু নিয়েও পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে গেছে দোষারোপের দোষারোপের রাজনীতি৷ এর জন্য সরকারী দলের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী দায়ী করছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারকে৷

তাদের সময়কার সরকারের গাফিলতি ও উদাসীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে শহরে অপরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অগ্নি-নির্বাপক নিয়মকানুন এবং ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবনগুলোতে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে মর্মান্তিক অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ে আমি ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। সেখানে বর্তমানে আমরা উদ্ধার অভিযান ও ঘটনার তদন্তের ওপর নজর রাখছি। কিন্তু যা হয়েছে সেটির বাস্তবতা আমাদের আজ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সাবেক সরকার যে কি ধরনের ভয়াবহ গাফিলতি করেছে আজ এ ঘটনা আমাদের সেটিই মনে করে দেয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে শহর ও রাজ্যের অবকাঠামোগুলো কোনো ধরনের সরকারি তদারকি ছাড়াই গড়ে উঠতে দেওয়া হয়েছে। সাবেক সরকারের আমলে অনেক অবকাঠামো তৈরি হতে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে হোটেল চালানো এবং অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলোতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করা হয়েছে।’

শুভেন্দু জানান, এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের মির্জা গালিব স্ট্রিটের  ‘শিখা ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে আট বাংলাদেশিসহ ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন, তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেরার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২) এবং দেবাশিসের শশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহমেদ বাবু এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ৯ জনের শরীরে বড় ধরনের পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মমতার সরকারকে দুষলেন শুভেন্দু অধিকারী

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই মৃত্যু নিয়েও পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়ে গেছে দোষারোপের দোষারোপের রাজনীতি৷ এর জন্য সরকারী দলের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী দায়ী করছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারকে৷

তাদের সময়কার সরকারের গাফিলতি ও উদাসীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে শহরে অপরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অগ্নি-নির্বাপক নিয়মকানুন এবং ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবনগুলোতে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে মর্মান্তিক অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ে আমি ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। সেখানে বর্তমানে আমরা উদ্ধার অভিযান ও ঘটনার তদন্তের ওপর নজর রাখছি। কিন্তু যা হয়েছে সেটির বাস্তবতা আমাদের আজ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। সাবেক সরকার যে কি ধরনের ভয়াবহ গাফিলতি করেছে আজ এ ঘটনা আমাদের সেটিই মনে করে দেয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে শহর ও রাজ্যের অবকাঠামোগুলো কোনো ধরনের সরকারি তদারকি ছাড়াই গড়ে উঠতে দেওয়া হয়েছে। সাবেক সরকারের আমলে অনেক অবকাঠামো তৈরি হতে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে হোটেল চালানো এবং অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলোতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করা হয়েছে।’

শুভেন্দু জানান, এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের মির্জা গালিব স্ট্রিটের  ‘শিখা ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে আট বাংলাদেশিসহ ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন, তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়া সদর উপজেরার আরুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২) এবং দেবাশিসের শশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহমেদ বাবু এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ৯ জনের শরীরে বড় ধরনের পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে