ব্রাজিলের নাটকীয় জয়, প্যারাগুয়ের মহাকাব্যিক অঘটন, টাইব্রেকারে মরক্কোর উল্লাস
- আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপ ফুটবলের নক আউট মানেই একটি দলের উল্লাস, আরেকটি দলের ব্যাদনায় বিধুর। এই পর্বের উত্তেজনাই থাকে ভিন্ন। দিনের সেরা দলটিই পায় সফলতা। ততবে ভাগ্যবলে কিছু কথা থেকে যায়। প্রত্যাশিত দলটি যখন মাঠের লড়াইয়ে হেরে গিয়ে বিদায় নেয় তখন হয়ে অঘটন। তেমনি একটি অঘটন ঘটালো প্যারাগুয়ে, বাংলাদেশ সময় গতরাতে। পরাশক্তি জার্মানিকে তারা ৪-৩ গোলে টাইব্রেকারে পরাজিত করে।এই বিজয়ে দেশটিতে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। একই দিন নক আউট পর্বের আরেকটি ম্যাচের ফলাফলও টাইব্রেকার নিষ্পত্তি হয়। মরক্কোর কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায় নেদারল্যান্ডস। তবে এদিন ব্রাজিল জিতেছে অনেকটা দাপুটে ফুটবল উপহার দিয়ে। যদিও তারা শুরুতে পিছিয়ে ছিলো। দারুণ ছন্দে ফিরে তারা জাপানকে শেষ ২-১ গোলে পরাজিত করে। তবে টুর্নামেন্টে সবার আগে শেষ ষোলতে উঠেছিলো কানাডা। আগের দিন রাতে স্বাগতিক দলটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে শেষ ষোলতে জায়গা করে নেয়।
ব্রাজিল ২-১ জাপান
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দুর্দান্ত সংগঠিত ফুটবল খেলে জাপান প্রথমার্ধেই কাইশু সানুর গোলে ২৯ মিনিটের সময় এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এশিয়ার দলটি ব্রাজিলের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখে।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। বলের দখল বাড়িয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু করে ব্রাজিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনের সুফল আসে, যখন অভিজ্ঞ কাসেমিরো ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরান। এরপরও জাপান লড়াই চালিয়ে গেলেও যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোল ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ব্রাজিলিয়ান শিবির, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে জাপানের ফুটবলাররা।


ম্যাচ জয়ের নায়ক গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি, হেরে যাওয়ায় মাথানত করে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপান কোচ
কোচদের প্রতিক্রিয়া
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, “আমরা বিশ্বাস হারাইনি। ধৈর্য ধরে খেলেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তন ফল দিয়েছে। নকআউটে এমন জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।”
জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু বলেন, “হারলেও এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সাথে ব্যবধান কমিয়ে এনেছি। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত।”
প্যারাগুয়ে ১ (৪)-১ (৩) জার্মানি (টাইব্রেকার)
দিনের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের শুরুতে হুলিও এনসকিসোর গোলে ৪২ মিনিটের এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। পরে ৫৪ মিনিটের সময় কাই হাভার্টজ এর গোলে সমতায় ফিরে জার্মানি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি গোল করলেও ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়, যা ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্তে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় প্যারাগুয়ে। জার্মানির ইতিহাসে এটি প্রথম বিশ্বকাপ টাইব্রেকার পরাজয়।


ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের উল্লাস ও হতাশাগ্রস্থ্ জার্মানি দল
কোচদের প্রতিক্রিয়া
প্যারাগুয়ে কোচ গুস্তাভো আলফারো বলেন, “এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি আমাদের বিশ্বাসের জয়। খেলোয়াড়রা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছে এবং ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।”
জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান বলেন, “ফলাফল মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা থাকলেও দায় আমাদেরই নিতে হবে।”
মরক্কো ১ (৩)-১ (২) নেদারল্যান্ডস (টাইব্রেকার)
আরেকটি রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ৭২ মিনিটের সময় কডিগাকসোর গোলে এগিয়ে গেলেও হাল ছাড়েনি মরক্কো। ৯০ মিনিট প্লাস সময়ে ইসসা ডিওপ এর গোলে স্বস্তি ফিরে মরক্কোতে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময় এই ব্যবধানের কোন পরিবর্তন না হওয়ায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে।
যা ছিলো গোলরক্ষকের দৃঢ়তা এবং শুটারদের স্নায়ু নিয়ন্ত্রণের বিষয়। যা থেকে মরক্কোকে স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও নকআউটে নিজেদের শক্ত মানসিকতার পরিচয় দিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

কোচদের প্রতিক্রিয়া
মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, “এই দল কখনও হাল ছাড়ে না। আমাদের ফুটবলাররা হৃদয় উজাড় করে খেলেছে। টাইব্রেকারে যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।”
নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান বলেন, “এভাবে বিদায় নেওয়া খুবই হতাশাজনক। ম্যাচে আমাদের সুযোগ ছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারিনি। মরক্কোকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”











