ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোড ম্যাপ নিয়ে এগুচ্ছে সরকার, থাকবে না দলীয় প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন
  • তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন
  • বিএনপি থেকে দাড়াতে পারে একাধিক প্রার্থী
  • অন্যান্য দলগুলোও নিচ্ছে প্রস্তুতি

বাংলাদেশের সামনে কড়‍া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ধারনা করা হচ্ছে সরকার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বর্তমান সরকার যে সে পথেই হাঁটছে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমেই পরিস্কার করে দিয়েছে।

এই নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে রাজনৈতিক দলের নেতারা আর দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না; বরং তাদের স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, যযা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ নিয়ে এগোচ্ছে। মূলত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে এই নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান এবং জুন-জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে এই সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া বর্ষা মৌসুম নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সব দিক বিবেচনায় রেখে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর পরবর্তী ধাপে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সর্বশেষ পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এই প্রস্তুতিতে নড়েচড়ে বসছে আগ্রহী প্রার্থীরা। দলীয় প্রতীক এবং দলীয় সমর্থন না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রচুর প্রার্থীতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও অনেক নেতাকর্মী এরই মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন এবং জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। বসে নেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও।

দলগুলো ভিতরে ভিতরে মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রার্থীতা পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। গুঞ্জন উড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থীতাদের নিয়েও। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যে প্রশাসন বসানো হয়েছে তারাই স্ব স্ব পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। যেমন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে সরকার দলীয় সমর্থন পেতে পারে বর্তমানে থাকা দুই প্রশাসক আব্দুস সালাম ও মিল্টন।  এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন হাবিব উন নবী খান সোহেল, ইশরাক হোসেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে তিনজনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন, ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান।

বিএনপি ছাড়াও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ মোট পাঁচটি সিটিতে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং জামায়াতে ইসলামীও দ্রুতই প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। ওই সময় জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামোটি বহাল রাখা হয়েছিল; কেবল যেসব ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে নতুনভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোড ম্যাপ নিয়ে এগুচ্ছে সরকার, থাকবে না দলীয় প্রতীক

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন
  • তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন
  • বিএনপি থেকে দাড়াতে পারে একাধিক প্রার্থী
  • অন্যান্য দলগুলোও নিচ্ছে প্রস্তুতি

বাংলাদেশের সামনে কড়‍া নাড়ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ধারনা করা হচ্ছে সরকার আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বর্তমান সরকার যে সে পথেই হাঁটছে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমেই পরিস্কার করে দিয়েছে।

এই নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে রাজনৈতিক দলের নেতারা আর দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না; বরং তাদের স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে, যযা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ নিয়ে এগোচ্ছে। মূলত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে এই নির্বাচনী পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান এবং জুন-জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার ফলে এই সময়ের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এছাড়া বর্ষা মৌসুম নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সব দিক বিবেচনায় রেখে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর পরবর্তী ধাপে দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সর্বশেষ পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এই প্রস্তুতিতে নড়েচড়ে বসছে আগ্রহী প্রার্থীরা। দলীয় প্রতীক এবং দলীয় সমর্থন না থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রচুর প্রার্থীতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও অনেক নেতাকর্মী এরই মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন এবং জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। বসে নেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও।

দলগুলো ভিতরে ভিতরে মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রার্থীতা পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু করে দিয়েছে। গুঞ্জন উড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থীতাদের নিয়েও। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যে প্রশাসন বসানো হয়েছে তারাই স্ব স্ব পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনাই বেশি। যেমন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে সরকার দলীয় সমর্থন পেতে পারে বর্তমানে থাকা দুই প্রশাসক আব্দুস সালাম ও মিল্টন।  এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন হাবিব উন নবী খান সোহেল, ইশরাক হোসেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে তিনজনের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন, ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান।

বিএনপি ছাড়াও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাম বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ মোট পাঁচটি সিটিতে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং জামায়াতে ইসলামীও দ্রুতই প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। ওই সময় জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের কাঠামোটি বহাল রাখা হয়েছিল; কেবল যেসব ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ৫৪টি জেলা পরিষদে নতুনভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।