বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের উড়ন্ত সূচনা, শেষ মূহুর্তের গোলে কানাডার স্বস্তি
- আপডেট সময় : ০৯:০২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
বিম্বকাপের দ্বিতীয় দিনের দুই ম্যাচের একটিতে জয় ও অন্যটিতে ড্র হয়। ঘরের মাঠে বসুনিয়া হার্জেগবিনিয়ার ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ মূহুর্তে ড্র নিয়ে স্বস্তিতে মাঠ ছাড় কানাডা।
এদিকে ঘরের মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে ফুটবলে উড়ে যায় প্যারাগুয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফি স্টেডিয়ামে শনিবার বিশ্বকাপে গ্রুপ ডি’র ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। জোড়া গোল করেছেন যুক্ত্রয়াষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ম্যাচ। এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ৩-০ গোলেই জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৯৬ বছর পর আবারও ৪-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মিনিটেই পিএসজির অনুকরণে কিক-অফ থেকে লম্বা বল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে তারা। তৃতীয় মিনিটে ওয়েস্টন ম্যাককেনির পাস থেকে ফোলারিন বালোগুন সুযোগ পেলেও তার শট সহজেই সামলে নেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিল।
সাফল্য পেতেও দেরী হয়নি, সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাককেনির দারুণ আক্রমণাত্মক মুভে বল যায় ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের কাছে। মিলানের এই তারকা দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ম্যাককেনিকে বল ফেরত দেন। ম্যাককেনির বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটান প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া। নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই আত্মঘাতি গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। হুলিও এনসিসো ১৪ মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন, তবে বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের ধার বজায় রাখে। ১৬ মিনিটে বালোগুন ও সের্হিনিও ডেস্টের সমন্বিত আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গুসতাভো গোমেজ বিপদ সামাল দেন।
২৮ মিনিটে বালোগুন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। তবে মাত্র তিন মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক গিলকে পরাস্ত করেন বালোগুন। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এর আগে ২৮ মিনিটেও গোল করেছিলেন ফোলারিন। তবে অফ সাইডের কারণে সেটি বাতিল করে দেওয়া হয়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও প্যারাগুয়ে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি। উল্টো ৪৩তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি, তবে অসাধারণ সেভে দলকে বাঁচান গিল।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় গোল। ৪৫+৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের নিখুঁত পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে গোল করেন ফোলারিন বালোগুন। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের কাছে। পুলিসিক একটি অ্যাসিস্ট করেন, ম্যাককেনি আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বালোগুন জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়কে পরিণত হন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে প্যারাগুয়ে। কিন্তু তাদের একের পর এক আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল। অবশেষে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় দলটি। মাওরিচিওর গোলে ব্যবধান কমায় প্যারাগুয়ে। এরপর আবারও প্যারাগুয়ের রক্ষণে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোলের দেখা পায় তারা। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন গিওভ্যানি রেইনা। এরপরই রেফারি শেষ বাঁশি বাজান। আর উড়ন্ত শুরু পায় স্বাগতিকরা।





















