এশিয়ান গেমসে কাটেনি বৃষ্টি আতঙ্ক, আয়োজনের শুরুতে হতাশা, লক্ষ্যহীন যাত্রায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১০৫ বার পড়া হয়েছে
বিশতম এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর মাত্র সাতদিন বাকি। বাংলাদেশ ২৬০ কন্টিজেন্টের একটি অংশ জাপানের আইচি-নাগোয়া সিটিতে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে এশিয়ার ৪৫টি দেশের প্রায় তিন থেকে সাড়ে হাজার ক্রীড়াবিদের পদচারনায় জাপানের তৃতীয় বৃহত ইন্ডিয়াস্ট্রিয়াল শহরটি কিছুটা মুখরিত হয়ে উঠারই কথা। যদিও গত ৮ সেপ্টেম্বর ভেন্যুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিলো এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ। অতিবৃষ্টি আর আচমকা বন্যার পানিতে ডুবে গিয়েছিল পুরো শহর। অবশ্য সিটি মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী তাতে গেমসে কোন ধরনের প্রভাব ফেলছে না। কিন্তু পৃথিবী দেখলো জাপানের মতো একটি উন্নত দেশের হাল-হকিকত। দেখা গেছে দশদিন আগে কিভাবে গেমসের প্রধান ভেন্যু আইচি-নাগোয়া শহর পানিতে ডুবে গেলো। সে আতঙ্ক এখনো সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

এরপর তো রয়েছে আবাসন ব্যবস্থায় জটিলতা। জাপান সরকার পয়সা বাঁচাতে গিয়ে অনেকটা গোটা দেশজুড়ে আয়োজন করেছে এশিয়ান গেমস। যা কিনা কাভার করা ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে মিডিয়া কর্মীদের জন্য দূ:স্বাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।
প্রধান ভেন্যু পালোমা মিজুহো স্টেডিয়াম (Paloma Mizuho Stadium)। এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটিতেই গেমসের জমকালো উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রায় পুরো দেশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের আয়োজন। ৪৫টি দেশের ক্রীড়াবিদদের রাখা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। কাউকে রিভারক্রুজে, কাউকে হোটেল কাউকে আবার হোস্টেলে।
একেকটা ভেন্যু থেকে একেকটা ভেন্যুর দূরত্ব কোথাও ৪০/৫০ কিলোমিটার,আবার কোথাও সাড়ে তিনশত কিলোমিটারও। অথচ পৃথিবী জুড়ে দেখা যায় গেমস ভেন্যু হয়ে থাকে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার ভিতর। যা কাভার করা মিডিয়াকর্মী থেকে শুরু করে পর্যটকদের জন্য খুবই আরামদায়ক হয়। অথচ এশিয়ান গেমসের আয়োজকরা আয়োজনের জন্য স্লোগানটি দিয়েছিলেন-`এক এশিয়ার কল্পনা করুন‘।
আর গেমসের অফিসিয়াল থিম সং হলো- BEYOND THE SKY’ যার বাংলা অর্থ হচ্ছে `আকাশের ওপারে‘। গেমস ভেন্যুটিও যেন সত্যিকার অর্থ আকাশের ওপারেই! জাপানিজদের কমিটমেন্টের সাথে কাজের এতোটা অমিল, তা হতাশাই বটে।
প্রায় ৫ হাজার এথলেটদের যে শহর জায়গা দিতে পারবে না সেখানে কেনই বা এমন একটি বৃহত আয়োজন। এর আগে জাপানে দুবার এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায়। তখন এতোটা বিড়ম্বনায় এ্যথলেট,মিডিয়া কর্মী এবং পর্যটকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। কিন্তু আইচি-নাগোয়া শহরে শুরুতেই যেন ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠলো। সমালোচকরা এখনি তাই মুখ খুলতে শুরু করেছেন, জাপান সরকার এমন একটি আয়োজনের দায়িত্ব না নিলেও পারতো। দেশটির তৃতীয় বৃহত ইন্ডাস্ট্রিয়াল শহর বলেই হয়ত থিম সং তৈরি করা হয়েছে সেই আলোকে। যার মূল ভাবটাতেই অ্যাথলেটদের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম, লড়াই এবং জয়ের মানসিকতাকে এই উদ্দীপনামূলক ও শক্তিশালী গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

প্রমোদতরীতে রাখা হয়েছে বাংলাদেশে আট ইভেন্টের ক্রীড়াবিদদের
কিন্তু গান দিয়ে যতই উদ্দীপনা তৈরি চেষ্টা করা হোক না কেন, গেমস ভিলেজেই সবার মেজাজটা নড়বড়ে করে দিয়েছে। আয়োজকদের মনে রাখা উচিত ছিলো শুধূ অ্যাথলেটদের জন্যই এই আয়োজন নয়, সেখানে মিডিয়া কর্মীদের আবাসন, পর্যটক দর্শকদের জন্যও সুবিধাদি থাকা জরুরি। যারা একই জায়গায় অবস্থান করে পুরো গেমস উপলব্ধি করতে পারবে।
এদিকে প্রধান গেমস ভেন্যু পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় এক কিলোমিটার আশপাশে ১-২ ঘন্টা ইন্টারন্টে বন্ধ থাকারও ঘোষনা দেয়া হয়েছে আয়োজক কমিটি থেকে। যা নিয়ে রাজ্যের সমালোচনা চলছে। জাপানের রাজা-রানীর নিরাপত্তার জন্যই নাকি এই ব্যবস্থাপনা। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার জন্য দশ হাজার জাপানী পুলিশও বাড়তি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জাপানের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সবার মধ্যে কানাঘুষা চলছে,তাহলে জাপানেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয়!

তবে সবার মধ্যে এই মুহুর্তে বড় আতঙ্ক বিরাজ করছে, আবারও যদি আচমকা বন্যা এবং বৃষ্টি নেমে আসে। তখন গেমসের কি হবে? তাহলে কি বন্ধ হয়ে পড়বে গেমস! এবারের গেমসে প্রায় ৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ১৪০৭টি পদকের জন্য ৪৩টি ডিসিপ্লি/ক্রীড়ায় মোট ৪৬৯ টি ইভেন্ট অংশে অংশ নিচ্ছে।
এবোরের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ থেকেও স্বাধীনতা উত্তোর সবচে বড় কন্টিজেন্টটি অংশ নিচ্ছে, ২২ ইভেন্টে ২৬০ জন। যেখানে ১৮৭ জনই ক্রীড়াবিদ। যদিও অতি কষ্টে তিন থেকে পাাঁচটি পদক পেলেও পেতে পারে জেনেও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের এমন বিশাল বহর পাঠানোটা যেন গরীবের ঘোড়া রোগের মতোই। তারেক রহমানের সরকার যখন আর্থিক দৈন্যতায় ভুগছে তখন কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে শুধু জাপান ভ্রমন বিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়।এটা যেন সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানের বিপরীত মেরুতে অবস্থান। অনেক সংসঠক আছেন যারা ঠিক করে কথাও বলতে পারেন না,তারাও কিন্তু যাচ্ছেন এশিয়ান গেমসে। লক্ষ্যহীন এশিয়ান গেমসে এতো বড় কন্টিজেন্ট দেখে সমালোচকরা নানা ধরনে টিপ্পুনি দিচ্ছেন।

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট দলের আবাসন
লক্ষ্যহীন যাত্রায় এই ২৬০ জনের পিছনে সরকারের না হলেও তিনকোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু এদের প্রশিক্ষণে পিছনে দেড় কোটি টাকার ব্যয় করতেও ঘাম ছুটে যায়। অথচ অন্যান্য দেশ তাদের ক্রীড়াবিদদের একটি পদকের আশায় বছরকে বছর প্রশিক্ষণে আবদ্ধ রাখেন। গেমসে কখনোই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন অ্যাথলেট পাঠাচ্ছেন না। জাপানের পাশবর্তী দেশ উত্তর কোরিয়া চীন এশিয়ান গেমস থেকে ৩৯টি পদক জিতেছিলো। এবার ৯৫জন অ্যাথলেট পাঠিয়ে তারা আরো বেশি পদক জেতার প্রত্যাশা করছেন। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট আর কাবাডি ছাড়া কোন পদক জেতার স্বপ্নই দেখছে না। তাও আবার সবগুলো হতে পারে ব্রোঞ্জপদক।
আইচি-নাগোয়ায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস
জুন থেকে জুলাই মাস সময়টাই হচ্ছে জাপানের বর্ষাকাল। এই সময়ে পূর্ব এশীয় মৌসুমী বায়ুর (Monsoon) প্রভাবে নাগোয়ায় টানা মেঘলা আকাশ এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই দুই মাসে গড়ে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এরপর আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত জাপানে টাইফুন বা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব থাকে, যার পিক সময় হলো সেপ্টেম্বর। টাইফুনের কারণে এখানে তীব্র ঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) ও নদী ভাঙনের সৃষ্টি করে। নাগোয়ায় গড়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত (প্রায় ২১৯ মিমি) হয় এই সেপ্টেম্বর মাসেই।
গত ৮ সেপ্টেম্বরের অতিবৃষ্টি এবং আচমক বন্যা দেখা দেয় আইচি-নাগোয়া শহরে। এতে কয়েকটি ইনডোর ভেন্যুর ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছিল এবং কিছু ভেন্যুর ছাদে ফাটল ধরে পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস
- ১১ সেপ্টেম্বর (আজ) থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার): এই তিনদিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং দুপুরের পর হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টি (Thundershowers) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (বৃষ্টির সম্ভাবনা ৪৪% – ৯০%)। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° থেকে ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে।
- ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার): এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ফুটবল দলগুলোর জাপানে পৌঁছানো এবং অনুশীলনের এই সময়ে ভারী বজ্রঝড় ও বৃষ্টির (Thunderstorms) প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে (বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৬০% – ৮৫%)। এই সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমে সর্বোচ্চ ২৮° থেকে ৩০° সেলসিয়াসে নামতে পারে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) থেকে ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার): ১৯ সেপ্টেম্বর গেমসের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনসহ এই সময়টাতেও আকাশ আংশিক মেঘলা ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকবে (প্রায় ৬০%)। এই দিনগুলোতে তাপমাত্রা আবার কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩১° থেকে ৩৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে।
- বৃষ্টির সম্ভাবনা: বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৬০%। দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা (Partly Cloudy) থাকবে এবং কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
- আর্দ্রতা ও বাতাস: বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি (প্রায় ৮০%) থাকার কারণে কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে এবং দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে মৃদু বাতাস প্রবাহিত হবে।




















