ইন্দোনেশিয়ান অ্যাথলেটদের জন্য লোভনীয় পুরস্কার ঘোষনা, স্বর্ণ জিতলেই পাবে ৩ বিলিয়ন রুপি
- আপডেট সময় : ০২:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান গেমস যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মুখিয়ে আছেন ক্রীড়াবিদরা তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পদক জিতার। এশিয়ার এই শীর্ষস্থানীয় বহু-ক্রীড়া ইভেন্টে সেরা ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়াবিদরাও তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছেন। ২০২৪ সাল থেকেই এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করে ইন্দোনেশিয়া। আয়োজক দেশ জাপান ছাড়াও চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ্য তাদের।
বিশাল লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে ইন্দোনেশিয়ান ক্রীড়াবিদদের বিদায় জানালেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো। তিনি সরাসরি উপস্থিতি থেকে ক্রীড়াবিদদের বিদায় সংবর্ধনা দেন এবং সেরা ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।
অনুপ্রেরণা হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন প্রতিটি স্বর্ণ পদকের জন্য তিন বিলিয়ন রুপি প্রদানের।
জাকার্তার স্টেট প্যালেসে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ইন্দোনেশিয়ান দলকে বিদায় জানানোর সময় প্রেসিডেন্ট বলেন, “সি-গেমসে স্বর্ণপদকের জন্য ১ বিলিয়ন রুপিয়াহ বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু এটি এশিয়ান গেমস। এখানে স্বর্ণপদকের জন্য ৩ বিলিয়ন রুপিয়াহ দেওয়া হবে।”
স্বর্ণপদক জয়ীদের বোনাসের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট জানান যে, সরকার রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয়ী এবং তাদের কোচদেরও সহায়তা প্রদান করবে। তিনি তাদের পেশাগত পদোন্নতির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক জয়ীদের ক্ষেত্রেও আমরা পদোন্নতির বিষয়টি দ্রুত করব। অনেকে অভিযোগ করেন, ‘স্যার, বছরের পর বছর ধরে আমার কোনো পদোন্নতি হয়নি।’ কোচদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।”
প্রেসিডেন্টের মতে, কৃতিত্ব ও সেবার যথাযথ স্বীকৃতি ও পুরস্কার পাওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যারা জাতিকে গর্বিত করেছেন, তাদের সম্মানিত করতে রাষ্ট্রের কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়।
তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “কার্পণ্য করবেন না। তারা যদি ভালো কিছু করে থাকেন, তবে আমাদের উচিত তাদের সম্মানিত করা।”
প্রেসিডেন্ট একজন অশ্বারোহী ক্রীড়াবিদের কথাও উল্লেখ করেন, যিনি পূর্ববর্তী সি-গেমসের ঠিক কয়েক দিন আগে পাঁজরের চোটে পড়া সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই ক্রীড়াবিদ নিজের জায়গায় অন্য কাউকে প্রতিস্থাপন করতে রাজি হননি কারণ তিনি দেশের সম্মানের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন; শেষ পর্যন্ত তিনি তার দলকে পদক জয়ে সহায়তা করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই ব্যক্তিটি নিরাপদ বা সহজ পথ বেছে নিতে চাননি। তিনি দেশের সম্মানের কথা ভেবেছিলেন। এটি এমন একটি উদাহরণ যা আমাদের গর্বিত করে।”
প্রেসিডেন্ট আরও জানান যে, ওই ক্রীড়াবিদ ইন্দোনেশিয়ান সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তার সাহসিকতা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট টিএনআই (TNI – ইন্দোনেশিয়ান সামরিক বাহিনী)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের তাকে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, আইচি-নাগোয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল ইন্দোনেশিয়ান ক্রীড়াবিদ একই মানসিকতা ও উদ্দীপনা বজায় রাখবেন। তিনি একটি প্রার্থনার মাধ্যমে তার বক্তব্য শেষ করেন।
তিনি বলেন, “শুভকামনা রইল। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যেন সর্বদা আপনাদের শক্তি ও সর্বোত্তম ফলাফল অর্জনের সামর্থ্য দান করেন।”




















