টিস্যু পেপারের চুক্তি থেকে তিন পাতার চিরকুট, গুড বাই মেসি
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
শুরুটা ছিলো ট্র্যাজেডি৷ কোন এক ছোট গল্পের মতো৷ আর্জেন্টিনার ছোট্ট শহর রোজারিও, ১৯৮৭ সালের ২৪ জুনে তার জন্ম ৷ বেড়ে উঠার শুরুতেই মেসি আক্রান্ত হলেন হরমোন জনিত রোগে৷ বয়সের সাথে শরীরটাও তার স্বাভাবিক গতিতে বেড়ে উঠছিল না৷ দুশ্চিন্তা গ্রস্থ বাবা- মা৷ ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যয় মিটানোর সামর্থ নেই তাদের৷ তবে উপর ওয়ালা তার পায়ে যে যাদু দিয়েছে তা চিনতে ভুল করেন নি বার্সেলোনার তৎকালীন পরিচালক কার্লেস রেক্সাস৷ অতটুকুন বয়সে বল পায়ে মেসির নৈপুন্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তার জাদুকরী ড্রিবলিং নজর কাড়লো বার্সার এই পরিচালকের৷ এ যেন রতনে রতন চিনলেন৷
রেক্সাস প্রতিশ্রুতি দিলেন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের। রাজি হলেন পিতামাতা। হাতের কাছে ছিলো না কোনো কাগজ। বাধ্য হয়ে টিস্যু পেপারে সারতে হলো চুক্তি। ব্যস! ছেলেটার জায়গা হলো বার্সেলোনার আতুড়ঘর খ্যাত লা মাসিয়ায়। মেসি হয়ে গেলেন বার্সার! টিস্যু পেপারে করা সে চুক্তিতে লেখা ছিল, ‘বার্সেলোনায় ১৪ ডিসেম্বর, ২০০০ সালে মিনগেলা, হোরাশিও আর বার্সার ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাসের উপস্থিতিতে পূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কে লিওনেল মেসিকে সই করানোর ব্যাপারে একমত হওয়া গেল।’
সেই পথ চলায় মেসি থামলেন ফুটবল দুনিয়ায় ঝড় তুলে৷ ফুটবলের রেকর্ডের খাতায় প্রতিনিয়ত ইতিহাস লিখে জীবন্ত কিংবদন্তী রুপে৷ বার্সোলনায় কাটিয়ে দিলেন ফুটবলের ক্যারিয়ারের প্রথম তিনটি ধাপ৷
সেই দিন টিস্যু পেপারে নীল কালিতে চুক্তি লেখা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে সেই টিস্যু নিলামে বিক্রি হয়েছিল ১১ কোটি টাকায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতার বার্সেলোনা থেকে তার বিদায়৷ এরপর পিএসজি হয়ে পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে৷ ধারনা করা হয়েছিল ওটাই ছিলো মেসির জাতীয় দলের হয়ে গুডবাই৷ কিন্তু পড়ন্ত বেলাতেও তার ক্ষুরধার ফুটবল ২০২৬ বিশ্বকাপে বাচিয়ে রেখেছিল৷ ফাইনালে স্পেনের কাছে এক গোলে হেরে যায় মেসির আর্জেন্টিনা৷ সেদিন মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা ভিজে গিয়েছিল মেসির চোখের জলে৷ সেদিন ফুটবলকে বিদায় না বললেও সমর্থকরা ঠিকই বুজে নিয়েছিলেন ফুটবলের এক নক্ষত্রের বিদায হয়ে গেল৷
মেসির সেই আত্মপ্রকাশটা ঘটলো ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট। টিস্যু পেপার থেকে তিন পাতার চিরকুটে। অমরত্বের স্বীকৃতি পাওয়া গল্পটাকে মেসি মিলিয়ে দিলেন আরেকবার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এবারে তিনপাতার একটি চিরকুট লিখলেন নিজের হাতে। সেই ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
তাতে লিখা, ‘আমি শপথ করে বলছি, আমি সবসময় আমার সবকিছু দিয়েছি, শুধু শেষ কয়েক বছর নয়, যখন সবকিছু জেতা হয়েছিল, তখনও নয়; আমি সবসময় এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি এবং আমার সবকিছু দিয়েছি, তাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং ফুটবলের মাধ্যমে তাদের আর্জেন্টাইন হতে গর্বিত করার জন্য।’
অথচ মেসির জীবনটা থেমে যেতে পারত রোজারিওতেই, কিন্তু থেমে থাকেনি। টিস্যুতে শুরু হওয়া চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়েছে। বার্সেলোনা থেকে মেসি গিয়েছেন পিএসজিতে। এখন সেই গন্তব্য ইন্টার মায়ামিতে। আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে সুঁই-সুঁতোর বন্ধনটাও আলাদা করার সময় চলে এসেছে। তাইতো চিরকুটে লিখা চিঠিতেই মেসি জানিয়ে দিলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, এটাই সেই মুহূর্ত।’
বয়স বাড়ছে, সময়ও ফুরিয়ে আসছে, ৩৯ পেরিয়ে গেছেন। কিন্তু কমেনি তার জৌলুস, কমেনি ক্ষিপ্রতা, কমেনি জাদুকরী ড্রিবলিংয়ের মুগ্ধতা। কিশোর, তরুণ কিংবা যুবক থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ভদ্রলোক এখনো রাত জাগেন। কণ্ঠে ধ্রুপদির সুর তোলা পিটার ড্রুরি সেই কথাটাও যেন অম্বরত্বের স্বীকৃতি, ‘দ্য লিটল বয় ফ্রম রোজারিও, হ্যাজ জাস্ট পিচড আপ ইন হ্যাভেন..।’









