ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আলোচিত হত্যা মামলা। ২০১১ সালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার অজুহাতে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির আইনি কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় পলাতক থাকা অন্যতম অভিযুক্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কুশীলব ও পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতেই নতুন করে এই উদ্যোগ।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মোজাফফরের ভূমিকা

১৯৮১ সালের ২৯ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার কোন্দল ও বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যান। সফরসূচি অনুযায়ী প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান তিনি। ৩০ মে ভোররাতে একদল সেনা কর্মকর্তা সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে।

ইতিহাস ও মামলাসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেন নিজেই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যা নিশ্চিত করার পর তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোন করে জানান—‘The President has been killed.’

 ৪৫ বছরের আত্মগোপন

হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সামরিক অভিযানে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর গ্রেপ্তার হন এবং পরে নিহত হন। এছাড়া ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তদন্তে উঠে এসেছে, মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন (বিশেষ করে ১৯৯৭-৯৮ সালে)। পরবর্তী সময়ে পরিচয় গোপন করে সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ডিবির হাতে তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম স্পর্শকাতর এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আপডেট সময় : ১২:১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনরুজ্জীবিত হতে যাচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আলোচিত হত্যা মামলা। ২০১১ সালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ার অজুহাতে চট্টগ্রামের একটি আদালত মামলাটির আইনি কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেছিল। তবে দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় পলাতক থাকা অন্যতম অভিযুক্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কুশীলব ও পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতেই নতুন করে এই উদ্যোগ।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মোজাফফরের ভূমিকা

১৯৮১ সালের ২৯ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার কোন্দল ও বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে চট্টগ্রামে যান। সফরসূচি অনুযায়ী প্রথম দিনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান তিনি। ৩০ মে ভোররাতে একদল সেনা কর্মকর্তা সার্কিট হাউসে হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করে।

ইতিহাস ও মামলাসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেন নিজেই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যা নিশ্চিত করার পর তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোন করে জানান—‘The President has been killed.’

 ৪৫ বছরের আত্মগোপন

হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী সামরিক অভিযানে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর গ্রেপ্তার হন এবং পরে নিহত হন। এছাড়া ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তদন্তে উঠে এসেছে, মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন (বিশেষ করে ১৯৯৭-৯৮ সালে)। পরবর্তী সময়ে পরিচয় গোপন করে সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দিয়ে থাকেন। অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ডিবির হাতে তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম স্পর্শকাতর এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।