ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কক্সবাজার সৈকতের প্যারাসাইলিং থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু, কিছুই হয়না রাইডার মালিকদের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে শৌভিক রায় (২৮) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় সি স্পোর্টস পরিচালিত প্যারাসাইলিং পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। সে ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া একই বছর ২০ মে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন।একই বছরের আরেক ঘটনায় এক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং চলাকালে সমুদ্রে পড়ে আহত হন।

অর্থাৎ প্রতিবছর প্যারাসেইলিংয়ে কিছু না কিছু দূর্ঘটনা ঘটেই থাকে। এরপর এ নিয়ে কিছুদিন তোড়জোড় থাকে। কিছুদিন বন্ধ রাখা হয় প্যারাসেইলিং রাইডার। কিন্তু যারা দূর্ঘটনার কবলে পড়েন তাদের সবই চলে যায়। রাইডারে চড়তে গিয়ে আগেই টাকা পরিশোধ করা হয়। আর দূর্ঘটনা ঘটলে হয়ত মৃত্যু, নতুবা জীবন ফিরে পেলেও শরীরে বড় একটি খতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে কিছুই হয় না প্যারাসেইলিং এর প্রতিষ্ঠানের মালিকের মতো রাইডার মালিকদের। বর্হিবিশ্বেও্ এ ধরনের রাইডার রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক রাইডারে পর্যটকদের জন্য ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কারণ এধরনের রাইডারগুলোই হচ্ছে বিপদজনক। তাতে যিনি এ ধরনের রাইডারে চড়েন তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এবং রাইডারের মালিকরা বিপদমুক্ত থাকেন। শুধু প্যারাসেইলিংয়েই নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেক রাইডারে ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা থাকাটা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কক্সবাজার সৈকতের প্যারাসাইলিং থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু, কিছুই হয়না রাইডার মালিকদের

আপডেট সময় : ০৯:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে শৌভিক রায় (২৮) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় সি স্পোর্টস পরিচালিত প্যারাসাইলিং পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শৌভিক খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক ঝাউগাছের ডগায় আটকে দীর্ঘ সময় ঝুলে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। সে ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া একই বছর ২০ মে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটক দম্পতি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে আহত হন।একই বছরের আরেক ঘটনায় এক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং চলাকালে সমুদ্রে পড়ে আহত হন।

অর্থাৎ প্রতিবছর প্যারাসেইলিংয়ে কিছু না কিছু দূর্ঘটনা ঘটেই থাকে। এরপর এ নিয়ে কিছুদিন তোড়জোড় থাকে। কিছুদিন বন্ধ রাখা হয় প্যারাসেইলিং রাইডার। কিন্তু যারা দূর্ঘটনার কবলে পড়েন তাদের সবই চলে যায়। রাইডারে চড়তে গিয়ে আগেই টাকা পরিশোধ করা হয়। আর দূর্ঘটনা ঘটলে হয়ত মৃত্যু, নতুবা জীবন ফিরে পেলেও শরীরে বড় একটি খতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে কিছুই হয় না প্যারাসেইলিং এর প্রতিষ্ঠানের মালিকের মতো রাইডার মালিকদের। বর্হিবিশ্বেও্ এ ধরনের রাইডার রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক রাইডারে পর্যটকদের জন্য ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কারণ এধরনের রাইডারগুলোই হচ্ছে বিপদজনক। তাতে যিনি এ ধরনের রাইডারে চড়েন তার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এবং রাইডারের মালিকরা বিপদমুক্ত থাকেন। শুধু প্যারাসেইলিংয়েই নয়, বাংলাদেশের প্রত্যেক রাইডারে ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা থাকাটা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো নজরদারি নেই। একের পর এক দুর্ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।