ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সরকার ও ব্যবসায়ীরা এক সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমবার আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’

তিনি বলেন, দীর্ঘসময় ধরে খোলামেলা আলোচনার মধ্যদিয়েই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিন বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন। এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। জবাবে রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সরকার ও ব্যবসায়ীরা এক সঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে আগামী ৪/৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা সবাই স্বীকার করছি যে, অনেক সমস্যা আছে। সরকার নিশ্চয়ই এতটুকু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস হয়নি। এর মধ্যেই আমরা কয়েকবার বসেছি। প্রথমবার আপনাদের সঙ্গেই বসেছিলাম, পরে ফোরামের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

আগের বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেসবের অনেকগুলোরই সমাধান হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন করে বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যত বেশি বসতে পারব, তত বেশি আপনাদের সমস্যাগুলো জানতে পারব এবং সেগুলোর সমাধান করতে পারব।’

তিনি বলেন, দীর্ঘসময় ধরে খোলামেলা আলোচনার মধ্যদিয়েই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে। এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিন বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান। এ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তারা চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যা পর্যালোচনা করে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় এখনও প্রক্রিয়াধীন। এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা। জবাবে রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।