বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি থেকে সরে দাঁড়ালো ফিফা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪২ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি থেকে সরে দাড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আজ সকালে ফিফার একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজে তা পরিস্কার করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে , বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে ফিফা আর কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পর থেকেই অর্থ লোভ চেপে বসেছে ফিফা সভাপতির। বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা উঠতে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়। সেখান থেকে পিচু হটার পর ফিফা সভাপতি জয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভিতর চেপে বসেছে ভিন্ন উপায়ে অর্থ আয়ের। সে ভূতটা চেপেছে বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির। এ নিয়েও ফূটবল দুনিয়ায় রীতি মতো সমালোচনার ঝড় বেয়ে যায়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ৪০ মিলিয়ন ডলারের অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ব্যাপারে মতামত দেয়ার ডেডলাইন ছিল। চিঠি পাওয়া মাত্রই ইউরোপের দেশগুলো ফুঁসে উঠে। ফিফার প্রস্তাব নাকচের পাশাপাশি বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেয় উয়েফা। এরপরেই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কনফেডারেশন কনকাকাফও একই সিদ্ধান্ত নেয়। ৯৫ দেশের এমন অবস্থানের পর ফিফা একটি বিবৃতি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে ফুটবল বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে এবং মিডিয়ার অপপ্রচারকে দায়ী করে।
ফিফার অনুদানের ওপর মূলত নির্ভরশীল এশিয়া ও আফ্রিকা। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন যখন উয়েফা এবং কনকাফের সঙ্গে একমত পোষণ করে উদ্বেগ জানায়, তখন আর কিছু করার ছিল না ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। তাই এক বিবৃতিতে ফুটবল ঐক্যের স্লোগান দিয়ে নিজের প্রকল্প থেকে পিছু হটেছেন।
একদিন আগে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পের পক্ষে নানা যুক্তি দিলেও আজ সুর নরম করে ফিফা সভাপতি বলছেন, ‘এই উদ্যোগ কেবল তখনই এগিয়ে নেওয়া হবে, যদি ফিফার অধিকাংশ সদস্য পক্ষে থাকে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন, ফিফা কাউন্সিল, মহাদেশীয় কনফেডারেশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।’
তীব্র সমালোচনা ও বয়কট অবস্থানের পর ফিফা সভাপতির উপলব্ধি, ‘সবার মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, এই প্রকল্প এমন ধরনের বিভক্তির সৃষ্টি করেছে। যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, এর মূল উদ্দেশ্যের জন্য আর কল্যাণকর নয়। সে কারণে এই প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’
ইনফান্তিনোর এই প্রজেক্টে ফিফার সঙ্গে কনফেডারেশনের দূরত্ব হয়েছে। ফুটবল বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত। বিষয়টি অনুধাবন করে ইনফান্তিনো বলছেন, ‘আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে আমি সব সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আবারও একত্রিত করার চেষ্টা করব। আমাদের সবার অভিন্ন স্বার্থ। ফুটবলকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র, বিশেষ করে যেসব দেশে সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’
(মন্তব্য করুন : খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল রেখে এবং আপত্তিজনক নয়। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ডেইলি ঢাকা মেট্রো ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।)














