কপাল পড়া সেনেগাল, দুই গোল এগিয়ে থেকে বেলজিয়ামের কাছে হারলো ৩-২ গোলে
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / ৬১ বার পড়া হয়েছে
প্রায় নিশ্চিত বিদায়ের সুর বেজে উঠেছিল বেলজিয়ামে। সেখান থেকেই ঘুরে দাড়িয়ে পেল এক অবিশ্বাস্য জয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরে বেলজিয়াম। এরপর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি গোল বেলজিয়ামকে নিয়ে যায় শেষ ষোলতে। দুই গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল নাটকীয়ভাবে হেরে যায় ২-৩ গোলের ব্যবধানে। এমন ম্যাচেও হেরে যেতে হয়! এমন আক্ষেপ তাদের অনেকদিন পুড়াতেই পারে।
অথচ ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলে যান সেনেগালের অদম্য ফুটবলাররা। বিরতির আগেই এক গোল করে লুকাকুর বেলজিয়ামকে নাস্তানোবুধ করে ছাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধেই নেমেই আরেক গোল। ৫১ মিনিটেই দুই গোল করা সেনেগাল আশি মিনিট পার করে দেয় জয়োধ্বনি দিয়ে। কিন্তু বিধির কি লিলা খেলা, সেই সেনেগালেই কিনা বেজেছে বিদায়ের বিহগল। রাজ্যের হতাশা আর চোখের পানিতে মাঠ ছাড়ে তারা।
অন্যদিকে ধর্যধরে প্রতিআক্রমনে গোলের নিশানা খুজতে থাকা বেলজিয়াম পৌছালো তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে। ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে দূর্দান্তভাবে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে দলটির। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে গড়ায়। আর এই সময়টাতেই ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যায়, ১২৫ মিনিটে। এখানেও বেলজিয়ামের ভাগ্যটা হয়ে উঠে সুপ্রশন্ন। পেয়ে যায় পেনাল্টি। যেখান থেকে সাধারণত দূর্ভাগ্য ব্যতিত কোন গোল মিস হয় না। ট্রাজেডি নেমে আসে সেনেগালের কপালে। ম্যাচজুড়ে দেখা স্বপ্নে জয়ে নেমে আসে হতাশার মেঘ।
সেনেগালকে প্রথম গোল উপহার দিয়েছিলেন এম দিয়ারা। ২৪ মিনিটের সময় তিনি গোলটি করেন। এরপর ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন আই. সার। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে লকুাকু এবং ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে, ৮৯ মিনিটে ওয়াই টিলেমান্স গোল করে সমতায় ফেরান। ২-২ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময় বেলজিয়ামকে বিজয়ের পথে নিয়ে যান দলের দ্বিতীয় গোল দাতা এম টিলেমান্স। যা কিনা দূ:স্বপ্নের মতোই। বেলজিয়াম ওই গোলেই পৌছে যায় শেষ ষোলতে। স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় সেনেগালের।

অথচ দুই গোল পিছিয়ে থাকা বেলজিয়ামের প্রত্যাবর্তনটা ছিল অনেকটাই অনিশ্চিত। ম্যাচের চার মিনিট বাকি থাকতে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটিকে নিয়ে ম্যাচ জয়ের বিকল্প কিই বা ভাবা যায়! এটা ক্রিকেট নয় যে অনিশ্চয়তা খেলা। এগারজন খেলোয়াড়ের পায়ের খেলা ফুটবল। সেখানে যে কোন উপায় সময় ক্ষেপন করাটাই হতে পারত শ্রেয়। কিন্তু সেনেগালের ফুটবলাররা এতোটাই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলেছে যে তাদের জিততেও তো হবে, সেটাই যেন ভুলে গেছে। এখানে অসতর্কতার বড় খেসারত দিতে হলো এই আফ্রিকান দলটিকে।
কিন্তু কি আর করা, সিয়াটলে বড় বিপদ যে তাদের জন্যই অপেক্ষায় ছিলো! অথচ ম্যাচ জুড়ে বিপদে থাকা বেলজিয়াম ছিল উত্তাল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের উপর দাড়িয়ে। এক পলকেই যেন সব শেষ।












