সিন্দুক নয়, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার নিরাপত্তা: তথ্য ও প্রযুক্তিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৫১ বার পড়া হয়েছে
দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি তথ্যভান্ডার সুরক্ষায় সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোনো বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তাদের কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ককে হ্যাকারমুক্ত রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে হাজার মাইলের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার চেয়েও রাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সবাই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, র্যানসমওয়্যার, আর্থিক প্রতারণা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকিও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
তিনি বলেন, একসময় নিরাপত্তা বলতে বোঝানো হতো ব্যাংকের ভল্ট, শিল্পকারখানার সিন্দুক কিংবা রাষ্ট্রীয় সীমান্ত পাহারা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তথ্য। এই তথ্য সুরক্ষিত রাখতে না পারলে অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবা—সবকিছুই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা, ব্যাংকিং কার্যক্রম, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাণিজ্য এখন প্রযুক্তিনির্ভর। তাই প্রযুক্তিগত নিরাপত্তায় বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।
তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরি, নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট, আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না; নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, বহুমাত্রিক পরিচয় যাচাই (মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) এবং সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি জানান, সরকার দেশের সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগও কেবল মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময়ের বিষয় নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।’
এ সময় বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে প্রচলিত ধারণায় আটকে না রেখে সময়োপযোগী ও আধুনিক চিন্তার মাধ্যমে দেশের কাজে লাগানোর এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার একটি বড় অংশ হবে আনসার বাহিনীর তৈরি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। অ্যানালগ ও ডিজিটাল পদ্ধতির পার্থক্য অনুধাবন করে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে ডিজিটাল নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য তিনি বাহিনীর নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানান।
প্রযুক্তির চলমান পরিবর্তনের ধারাকে ‘ডাইনামিক’ বা গতিশীল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগতকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তার ক্ষেত্রে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তা না হলে আজ যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন।’
তিনি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ প্ল্যাটফর্মটিকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ. এম. সাজ্জাদ মাহমুদ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











