ইকুয়েডরকে উড়িয়ে ৪০ বছর পর কোয়ার্টারে মেক্সিকো
- আপডেট সময় : ০১:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
Mexico's Raul Jimenez (9) celebrates with teammates after scoring their second goal during the World Cup round of 32 soccer match between Mexico and Ecuador in Mexico City, Tuesday, June 30, 2026. (AP Photo/Silvia Izquierdo)
স্বপ্নের যাত্রা অব্যাহত রেখে শেষ ষোলোয় উঠেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। বজ্রঝডের কবলে পড়ে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া শেষ ৩২–এর ম্যাচে তারা ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। এর ফলে ৪০ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।
এ নিয়ে নিজেদের সর্বশেষ ৭ ম্যাচেই জিতেছে মেক্সিকো, ২০২৬ সালে ১২ ম্যাচ খেলে জয় ১০টিতে।
এ ছাড়া ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির পর মেক্সিকো প্রথম দল হিসেবে টানা চার জয় পেয়েছে কোনো গোল হজম না করেই। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে তাদের দাপুটে জয়ের পর শেষ ষোলোয় তারা লড়বে ইংল্যান্ড-গণতান্ত্রিক কঙ্গোর মাঝে বিজয়ী দলের সঙ্গে, ৬ জুলাই।

কিক অফের শুরু থেকেই নিজেদের গুচিয়ে নেয় সহস্বাগতিক আয়োজকরা৷ সে সুযোগে প্রথমার্ধেই ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকো দুটি গোল পেয়ে যায়। ম্যাচের ২২ মিনিটে দলটির হয়ে প্রথম গোল করেছিলেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। রবের্তো আলভারাদোর দুর্দান্ত এক পাস থেকে বল পান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে স্টেডিয়ামে প্রথম উল্লাসের জোয়ার আনেন তিনি৷
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল জিমেনেজ। কিনিয়োনেসের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসের কম্বিনেশনে ইকুয়েডরের ডি-বক্সের কোণ থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান জিমেনেজ।
যদিও শুরুর চাপ সামলে ধীরে ধীরে ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। পাল্টা আক্রমণে গঞ্জালো প্লাতার দ্রুতগতির মুভ থেকে জন ইয়েবোয়া নিজের মার্কারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শট নেন। তবে সেটি পোস্টের বাইরের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফলে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। মেক্সিকো কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ২২ মিনিটে, আর তাতেই আজতেকা স্টেডিয়াম জুড়ে শুরু হয় উল্লাস।

ইকুয়েডরের হাই-প্রেস ভেঙে নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন রবার্তো আলভারাদো। সেই পাস ধরে উইলিয়ান পাচোকে শক্তির লড়াইয়ে হারিয়ে নিজের শরীর ঘুরিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এটি ছিল চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল। এর মাত্র নয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। কিনিয়োনেসের সঙ্গে ওয়ান-টুস পাস বিনিময়ের পর হিমেনেস দুর্দান্ত এক শটে জালের ওপরের প্রান্তে বল জড়ান। জাতীয় দলে এটি তার ৪৭তম গোল, আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা থেকে ৫ গোলের দূরত্বে।
বাকি সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শিরোপার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল উত্তর আমেরিকার এই পরাশক্তি।
পক্ষান্তরে লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডর আসর থেকে ছিটকে গেল৷
ম্যাচ শেষে দুই কোচের প্রতিক্রিয়া:
• মেক্সিকো কোচ: “ছেলেরা আজ মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। নকআউটের চাপ সামলে যেভাবে তারা ২-০ গোলের জয় ছিনিয়ে এনেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে আমাদের লক্ষ্য আরও অনেক দূর, কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য এখন থেকেই নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে।”
• ইকুয়েডর কোচ: “হারটি অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রথমার্ধে গোল হজম করার পর আমরা ম্যাচে ফেরার অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ভাঙা সম্ভব হয়নি। কিছু ভুলের খেসারত দিতে হলো আমাদের। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরব।”











