ভারতীয় শিক্ষার্থী না আসায় প্রভাব পড়েছে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে!
- আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষর্থীদের ভর্তির আগ্রহ কমে গেছে। গত তিন বছরের পরিসংখ্যান বলছে, মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তি সংখ্যা গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৭৪ জন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮ জন।
কর্মকর্তা ও মেডিকেল কলেজ মালিকেরা জানান, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
দেশের চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, ভারতের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়া, এবং সেখানে মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে জানান মেডিকলেজ মালিকেরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক। বাংলাদেশের ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রত্যেকটিকে মোট আসনের ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসব কলেজে মোট ৬ হাজার ২৭৮টি আসন ছিল। সেখানে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ ছিল। কিন্তু ভর্তি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৯৮ জন।
সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে সার্কভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ১২৫টি এবং অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯৯টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে সার্কভুক্ত দেশ থেকে ১০৬ জন এবং ‘অন্যান্য অঞ্চল’ কোটায় মূলত ফিলিস্তিনের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৮ থেকে ৭২ শতাংশই ছিল ভারতীয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এই হার ৪৪ শতাংশে নেমে আসে।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ৯৯২ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৪৩২ জনই ছিলেন ভারতীয়। গত শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ১৫৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ভারতীয় ৫০৭ জন।
২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে ভারতে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল ৩৮৭টি। ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে ৮১৯টি হয়েছে। একই সময়ে স্নাতক পর্যায়ের আসন ৫১ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ২৯ হাজার এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭৮ হাজার করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডিমড ইউনিভার্সিটির (সরকার কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পাওয়া প্রতিষ্ঠান) ৫০ শতাংশ আসনের ফি সরকারি মেডিকেল কলেজের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
অন্যদিকে বাংলাদেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে এই সুযোগ সুবিধা নেই। তবে দুস্থ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কোটায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসনের পাঁচ শতাংশ দুস্থ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, এ সব শিক্ষার্থীকে টিউশন ফি ছাড়াই এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭০টির বেশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৬ হাজার ৩০০টি এমবিবিএস আসন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩১৫ জন শিক্ষার্থী দুস্থ ও মেধাভিত্তিক কোটায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ভর্তি পরীক্ষায় অর্জিত নম্বর ও মেধাক্রমের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাশিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকার দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থা চালু রেখেছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি নেওয়া হয় না, তবে অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
তবে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দুস্থ ও মেধাভিত্তিক কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত সংখ্যা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর আরও নির্ভুলভাবে জানা যাবে। বর্তমানে আসনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রায় ৩১৫ জন শিক্ষার্থী এ সুবিধার আওতায় ভর্তি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।



















