ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভিনিসিয়ুসের গোলে লজ্জা এড়ালো ব্রাজিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ৬৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চোখ বড় বড় করেই টিভির পর্দায় দেখছিলেন সবাই, এটা কি ব্রাজিল খেলছে নাকি অন্য কোন দল। ভোর রাতে ঘুমের ঘোর কাটেনি ঠিক মতো। প্রিয় দল ব্রাজিলের খেলা বলে কথা। তাই খেলা মিস না হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দা টাঙিয়ে বেশ মজলিসের আড্ডার মতোই গিট্টু মেরে বসেছিলেন ফুটবল ভক্তরা। ম্যাচের আগে সমর্থকদের বাধভাঙ্গা উচ্ছাস, ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতবে!  কিন্তু কিক অফের শুরু থেকেই সবার মধ্যে হতাশার বিষন্ন ছায়া ঘিরে বসেছে। মরক্কোর চাপে দিক বিদিক ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের টিপ্পনি হজম করাটা যে কতোটা কষ্টের, সেটা শাহজাহান পুরের শিল্পী হোটেলের গলিতে বড় পর্দায় দেখতে আসা ব্রাজিল সমর্থকদের চেহারায় ফুটে উঠেছিলো স্বচ্ছ আলোর মতো।

আমেরিকার নিউজার্সির ম্যাটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর ছোট পাসের নান্দনিক ফুটবলের সামনে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই যেন খুজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল। ব্যস্ যা হওয়ার, ২১ মিনিটেই গোল আদায় করে ব্রাজিলকে আরো চাপের মুখে ঠেলে দেয় মরক্কো। ইসমাইল সাইবারি গোলটি করেন। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের সারা রাত জেগে থাকার ক্লান্তি এখানে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।  অবশেষে সেই ক্লান্তি দূর হয় ভিনিসিয়ুসের জাদুর ছোঁয়ায়। পিছিয়ে পড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিরতির আগেই ১-১ গোলে সমতায় ফিরে। তাতে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের ঘুমের ঘোর কেটে যাওয়াই স্বাভাবিক। দলটির সমর্থকরা নতুন করে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।

৩২ মিনিটের সময় ম্যাচে ফেরা গোলের পর ব্রাজিল নিজেদের শৈল্পিক ফুটবলের কিছুটা চমক দেখাতে সমর্থ হয়। তাতে বেশ কয়েকটি সুযোগও এসেছিলো। তবে মরক্কোর গোলকিপার বাইশ গজের অতন্দ্র প্রহরির ভূমিকায় সজাগ থাকায় বেশ কয়েকটি কঠিন আক্রমন বিফলে যায় ব্রাজিলের।

বিশ্বকাপের তৃতীয় দিনে এসে এই প্রথম বড় কোন দুটি দলের খেলা উপভোগ করলো বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা। ফিফা র‌্যাংকিয়ে সেরা দশের খেলা দেখলো সবাই। ম্যাচটিও হয়েছে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই। অনেকের মতে, গ্রুপ পর্বের এটাই বড় ম্যাচ।

তবে এটা প্রমানিত যে, কাগজে কলমের শক্তি কিংবা বিশ্বমঞ্চের অতীত ঐতিহ্য- কোন কিছুই মাঠের ফুটবলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে না। জিততে হলে মাঠেই প্রমান করে নিতে হবে।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা। ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এই দুজনকে তুলে ফাবিনিও ও দানিলোকে নামিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তারপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। কখনো পেরেছে, কখনো পারেনি।

গত চার–পাঁচ বছরে ফুটবলে ‘বিপ্লব’ ঘটানো ‘আটলাসের সিংহ’ মরক্কোও ব্রাজিলের অগোছাল মাঝমাঠের সুযোগ নিয়ে আর গোল করতে পারেনি। বরং বিরতির পর ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। তবে যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসন রুখে দিতে না পারলে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ থেকে আর পয়েন্ট পাওয়া হয়ত অসম্ভ হয়ে পড়ত ব্রাজিলের।

মরক্কোর মাঝমাঠের ক্ষুরধার খেলার সামনে ব্রাজিলের আসলে মাঝমাঠ বলতে তেমন কিছু ছিল না! এর মাঝেই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঝলকে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন ভিনিসিয়ুস। যেন অনেকটাই ‘কামথ দ্য আওয়ার, কামথ দ্য ম্যান!’

গোল হজমের ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম 1মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিউসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল। তবে আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে জমে উঠা ম্যাচে আর কোন গোল হয়নি। দুলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সম্মান নিযে টেন্টে ফিরলো।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভিনিসিয়ুসের গোলে লজ্জা এড়ালো ব্রাজিল

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

চোখ বড় বড় করেই টিভির পর্দায় দেখছিলেন সবাই, এটা কি ব্রাজিল খেলছে নাকি অন্য কোন দল। ভোর রাতে ঘুমের ঘোর কাটেনি ঠিক মতো। প্রিয় দল ব্রাজিলের খেলা বলে কথা। তাই খেলা মিস না হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দা টাঙিয়ে বেশ মজলিসের আড্ডার মতোই গিট্টু মেরে বসেছিলেন ফুটবল ভক্তরা। ম্যাচের আগে সমর্থকদের বাধভাঙ্গা উচ্ছাস, ব্রাজিল বড় ব্যবধানে জিতবে!  কিন্তু কিক অফের শুরু থেকেই সবার মধ্যে হতাশার বিষন্ন ছায়া ঘিরে বসেছে। মরক্কোর চাপে দিক বিদিক ব্রাজিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের টিপ্পনি হজম করাটা যে কতোটা কষ্টের, সেটা শাহজাহান পুরের শিল্পী হোটেলের গলিতে বড় পর্দায় দেখতে আসা ব্রাজিল সমর্থকদের চেহারায় ফুটে উঠেছিলো স্বচ্ছ আলোর মতো।

আমেরিকার নিউজার্সির ম্যাটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর ছোট পাসের নান্দনিক ফুটবলের সামনে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই যেন খুজে পাচ্ছিল না ব্রাজিল। ব্যস্ যা হওয়ার, ২১ মিনিটেই গোল আদায় করে ব্রাজিলকে আরো চাপের মুখে ঠেলে দেয় মরক্কো। ইসমাইল সাইবারি গোলটি করেন। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের সারা রাত জেগে থাকার ক্লান্তি এখানে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।  অবশেষে সেই ক্লান্তি দূর হয় ভিনিসিয়ুসের জাদুর ছোঁয়ায়। পিছিয়ে পড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিরতির আগেই ১-১ গোলে সমতায় ফিরে। তাতে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের ঘুমের ঘোর কেটে যাওয়াই স্বাভাবিক। দলটির সমর্থকরা নতুন করে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।

৩২ মিনিটের সময় ম্যাচে ফেরা গোলের পর ব্রাজিল নিজেদের শৈল্পিক ফুটবলের কিছুটা চমক দেখাতে সমর্থ হয়। তাতে বেশ কয়েকটি সুযোগও এসেছিলো। তবে মরক্কোর গোলকিপার বাইশ গজের অতন্দ্র প্রহরির ভূমিকায় সজাগ থাকায় বেশ কয়েকটি কঠিন আক্রমন বিফলে যায় ব্রাজিলের।

বিশ্বকাপের তৃতীয় দিনে এসে এই প্রথম বড় কোন দুটি দলের খেলা উপভোগ করলো বিশ্বের ফুটবল ভক্তরা। ফিফা র‌্যাংকিয়ে সেরা দশের খেলা দেখলো সবাই। ম্যাচটিও হয়েছে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই। অনেকের মতে, গ্রুপ পর্বের এটাই বড় ম্যাচ।

তবে এটা প্রমানিত যে, কাগজে কলমের শক্তি কিংবা বিশ্বমঞ্চের অতীত ঐতিহ্য- কোন কিছুই মাঠের ফুটবলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে না। জিততে হলে মাঠেই প্রমান করে নিতে হবে।

নেইমারকে ছাড়া মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামা ব্রাজিল শুরুতে ছিল ছন্নছাড়া। অন্যদিকে শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। আর ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল পেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে তারা। ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়েও যান মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে যান সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।

মরক্কোর শুরুর দাপট সামলে ক্রমেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের দেওয়া লফটেড পাসে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়েও উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের সঙ্গে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এই দুজনকে তুলে ফাবিনিও ও দানিলোকে নামিয়ে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ান ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তারপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। কখনো পেরেছে, কখনো পারেনি।

গত চার–পাঁচ বছরে ফুটবলে ‘বিপ্লব’ ঘটানো ‘আটলাসের সিংহ’ মরক্কোও ব্রাজিলের অগোছাল মাঝমাঠের সুযোগ নিয়ে আর গোল করতে পারেনি। বরং বিরতির পর ব্রাজিলই বেশি ভালো খেলার চেষ্টা করে। তবে যোগ করা সময়ে (৯৯ মিনিট) মরক্কো মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ির দুরপাল্লার শট ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসন রুখে দিতে না পারলে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ থেকে আর পয়েন্ট পাওয়া হয়ত অসম্ভ হয়ে পড়ত ব্রাজিলের।

মরক্কোর মাঝমাঠের ক্ষুরধার খেলার সামনে ব্রাজিলের আসলে মাঝমাঠ বলতে তেমন কিছু ছিল না! এর মাঝেই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঝলকে সতীর্থদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন ভিনিসিয়ুস। যেন অনেকটাই ‘কামথ দ্য আওয়ার, কামথ দ্য ম্যান!’

গোল হজমের ঠিক ১১ মিনিট পর দুর্দান্ত এক একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম 1মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বুলেট গতির শটে গোলটি করেন তিনি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিউসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল। তবে আক্রমন-পাল্টা আক্রমনে জমে উঠা ম্যাচে আর কোন গোল হয়নি। দুলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সম্মান নিযে টেন্টে ফিরলো।