উদ্বোধনী দিনে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার জয়
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
ঘরের মাঠে এর আগেও বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিলো মেক্সিকো। কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচে জিততে পারেনি। এবার নিজেদের দর্শকদের আশাহত করেনি দলটি। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শুভ সূচনা করেছে তারা। একই দিন জিতেছে এশিয়ার পরাশক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়াও। যদিও দলটি প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে শত ঝড়েও ভেঙ্গে পড়ে না দলটি সেটি যেন আবারও প্রমান করে ছাড়লেন দলটির ফুটবলাররা। চুম্বকের মতো পায়ে পায়ে লেগে থাকা দলটির ফুটবলাররা ঠিক বিজয় ছিনিয়েই তবে মাঠ ছাড়েন। চেক প্রজাতন্ত্রকে তারা ২-১ পরাজিত করে বিশ্বকাপে নিজেদের শুভ সূচনা করলো।
আজ (শুক্রবার) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ‘এ’ গ্রুপের দল দুটি। যেখানে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। নিজের চতুর্থ আসরে কোরিয়ানদের নেতৃত্ব দিতে নামা ৩৩ বছর বয়সী তারকা সন হিউং-মিনও একের পর এক আক্রমণ করছিলেন। তবে তিনি গোল পাননি।
চেক প্রজাতন্ত্রকে অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি ৫৯ মিনিটে এগিয়ে দেওয়ার পর দ. কোরিয়ার পক্ষে একটি গোল করেছেন হোয়াং ইন-বম এবং ওহ হিউয়ান-গিউ। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান দেশটি। বিপরীতে ২০ বছর পর হার দিয়ে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন হলো চেক প্রজাতন্ত্রের।
বিশ্বকাপে এখন সর্বশেষ সাত আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেবল একবারই হেরেছে কোরিয়ানরা। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে তাদের জয় আট ম্যাচে। এর মধ্যে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়া চার ম্যাচেই তারা প্রথমে গোল হজম করেছিল। এ ছাড়া চেকিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের মূলপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার আগের ৭ জয়ের ৬টিই ছিল ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো আরেকটি জয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচটি অবশ্য প্রথমার্ধে গোলশূন্য সমতায় ছিল। গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কেউ ফিনিশিং দিতে পারেনি। বিরতির পর আক্রমণ বাড়ে উভয় শিবিরে। ৫৯ মিনিটে চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি ডিফেন্ডার ভ্লাদিমির সুফালের লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন। চেক প্রজাতন্ত্রের উল্লাসের লাগাম টেনে ৮ মিনিটের মাথায় হোয়াং ইন-বম কোরিয়ানদের সমতায় ফেরান। চেক ডিফেন্ডার রবিন হ্রানাচকে কাটিয়ে গোলরক্ষক মাতেয় কোভারের ওপর দিয়ে বল তুলে দেন তিনি।
চেকিয়ারা আবারও লিডে ফিরছিল ৭৭তম মিনিটে। টমাস সৌচেক ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠানোর পর আরেক সতীর্থে অফসাইডে সেটি বাতিল হয়ে যায়। তিন মিনিট বাদে দারুণ ক্রস বাড়ানো বল পেয়ে কয়েক গজ দূর থেকে শট নেন ওহ হিউয়ান-গিউ। বল গোলরক্ষক কোভারের হাতে লেগে দূরের কোণ দিয়ে জালে জড়ায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে মেক্সিকো সিটির অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকরা জিতেছে ২-০ গোলে। কানায় কানায় পূর্ণ ৮০ হাজারের বেশি দর্শক ধারণ ক্ষমতার গ্যালারির সামনে ম্যাচের দুই অর্ধে একবার করে লক্ষ্যভেদের উল্লাস করে তারা। হুলিয়ান কিনিয়োনোনেস নবম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর ৬৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ তারকা স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ।
কোনো দলই পুরো ১১ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে রেফারি উইলতন সাম্পাইও দেখান তিনটি সরাসরি লাল কার্ড— দুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ও একটি মেক্সিকোকে। ৪৯তম মিনিটে স্ফেফেলো সিথোলে ও ৮৪তম মিনিটে থেম্বা জোয়েন মাঠ ছাড়লে নয় জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেজার মন্তেস লাল কার্ড দেখলে মেক্সিকো নেমে আসে ১০ জনের দলে।
এসব নাটকীয় ঘটনার অনেক আগেই মেক্সিকো দল তাদের সমর্থকদের আনন্দে ভাসায়। ম্যাচের মাত্র নবম মিনিটের মাথায় তারা প্রথম গোলটি করে। ডি-বক্সের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ট্যাকল করেন এরিক লিরা। বল গিয়ে পড়ে কিনিয়োনেসের সামনে। তার জোরালো শট গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ায়।
বিরতির ঠিক আগে কিনিয়োনেস ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শটটি ডান পাশের পোস্টের নিচের দিকে লেগে ফিরে আসে।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে সিথোলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। গোল করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাওয়া ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে তিনি ফাউল করে ফেলে দিয়েছিলেন। একজন খেলোয়াড় বেশি থাকায় আয়োজক মেক্সিকোর কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
পরের মিনিটেই ৩৫ বছর বয়সী হিমেনেজ মেক্সিকোর জয় অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলেন। রবার্তো আলভারাদোর ক্রস থেকে দূরের পোস্টে জোরালো হেডে তিনি জাল কাঁপান। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম গোল করার আবেগঘন মুহূর্তে তার চোখে পানিও চলে এসেছিল।
ম্যাচের শেষদিকে মেক্সিকোও একটি লাল কার্ড পায়। কারণ, ডি-বক্সের বাইরে মন্তেস ফাউল করে বসেন খুলিসো মাদাওকে। তবে শেষ বাঁশি পর্যন্ত হাভিয়ের আগুইরের শিষ্যরা তাদের দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখে আনন্দে মাতে।























