ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ কর বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তাসংস্থা রয়টার্স (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানোর কারণে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক বসানো হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস প্রস্তাব দিয়েছে।

সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বুধবার (৩ জুন) এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

ইউএসটিআরের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বাধা তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণেই নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তাবটি জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও অন্তত ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর আওতায় কয়েক মাস আগে বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং তাদের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় তদন্তে। এর ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক প্রস্তাব আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে। এরপর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাজারে যেসব দেশ বড় পরিসরে পণ্য রপ্তানি করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে এখনই এর প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ কর বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তাসংস্থা রয়টার্স (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানোর কারণে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক বসানো হবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস প্রস্তাব দিয়েছে।

সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) বুধবার (৩ জুন) এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রকাশ করেছে।

ইউএসটিআরের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বাধা তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণেই নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এই শুল্ক এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তাবটি জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও অন্তত ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর আওতায় কয়েক মাস আগে বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং তাদের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় তদন্তে। এর ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক প্রস্তাব আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে। এরপর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাজারে যেসব দেশ বড় পরিসরে পণ্য রপ্তানি করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে এখনই এর প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি