বিশ্বকাপ কর্ণার : উদ্বোধনী দিনে যতো ঘটনা
- আপডেট সময় : ০৮:২০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে গেলো ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ। এবারের আয়োজন তিন দেশ মেক্সিকো,কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকো পর্বের পর শুক্রবার রাতে কানাডা পর্বের। এরপর শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র পর্ব শুরু। উদ্বোধনী দিনেই অনুষ্ঠিত হয় দুটি ম্যাচ। আফ্রিকার বিপক্ষে জিতেছে স্বাগতিক মেক্সিকো (২-০), এবং কাজাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া (২-১)।
ফুটবলের সঙ্গে জমকালো অনুষ্ঠান ছিলো বেমানা ন। তবে বদলে গেছে পৃথিবী, বদলে গেছে ফুটবলের অনুষ্ঠান মালাও। ফুটবলের এই মহাযঞ্জের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এখন অন্য যেকোন ক্রীড়া গেমসের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে চায় না। দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু রঙিন আলোর ঝলকানি। নাচে-গানে ফুটবল ভক্তদের মাতিয়ে তুলেছিলেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শামিরা। তার সেই ওয়াক ওয়াক গানের মাদকতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দর্শকরা। চলতি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও বর্ণিল আয়োজন করেছে মেক্সিকো। সেখানেও ফুটবলের থি সঙ্গিত ‘দাই দাই’ গান শামিরা। সঙ্গে ছিলেন নাইজেরিয়ান পপ তারকা বার্না বয়। ফুটবলের উদ্বোধনী যখন ভিতরে চলছিলো উৎসবের বন্যা তখন স্টেডিয়ামে বাহিরের দৃশ্যে ছিলো মারামারি চিত্র। ছিলো লাল কার্ডের মতো ঘটনা। ডেইলি ঢাকা মেট্রোর পাঠকদের সামনে উদ্বোধনী দিনে ঘটে যাওয়া তেমনি কিছু ঘটনাবলী তুলে ধরা হলো …


বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড
৯৬ বছর ধরে চলছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবার আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ তাই লাল কার্ডের হিসাবেও ইতিহাসে নাম লেখাল। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ রাশিয়া এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজুড়ে ছিল কেবল ৪টি করে লাল কার্ডের নজির। এবার সূচনাই দেখানো হলো ৩ লাল কার্ড। তাও আবার সরাসরি লাল কার্ড। ৭২ বছর আগে হলুদ কার্ডের সতর্কতা ছাড়া বিশ্বকাপ ফূটবলে এভাবে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে ও থেম্বা জেওয়ানে ৫০ ও ৮৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন। ৯২ মিনিটে একই তিক্ততার মুখে পড়েন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস।

বিশ্বকাপের মাঠে দর্শক খরা
দীর্ঘ ৪ বছর পর পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্যা আর্থ’ এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকে অন্য যেকোনো কিছুর তুলনায় বেশি। বিশ্বকাপ ফুটবলের মত মঞ্চে যেখানে একটি টিকিট পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার সেখানে এবারের বিশ্বকাপে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। শেষ সময়ে টিকিটের দাম কমিয়েও মাঠে দর্শক আনতে ব্যর্থ হলো ফিফা।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকলেও এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেল বিশ্বকপের দ্বিতীয় ম্যাচেই। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যের ম্যাচে গ্যালারির অসংখ্য সিট খালি থাকতে দেখা যায়।
বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে ফিফা ঘোষণা দেয় তাদের অন্তত ১ লক্ষ ৮০ হাজার সিটের টিকিট অবিক্রীত রয়েছে যা খুবই কম মূল্যে তারা বিক্রি করতে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়।
মূলত দর্শকদের ভিসা না দেওয়া, টিকিটের অব্যবস্থাপনার কারণে এবারের বিশ্বকাপ সমর্থকদের জন্য এক দুর্বিষহ অবিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। আর সে কারণেই কোরিয়া-চেকিয়া ম্যাচে এমন সিট ফাঁকা দৃশ্যের কারণে সবাই ফিফার সমালোচনা করছে।

ফিফার বিরুদ্ধে ইরানের মামলা
বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন অভিযোগ করেছে, এই সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং সমর্থকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে মামলাটি দায়ের করে। ইরানিদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা এই সংগঠনটি এর আগেও সতর্ক করেছিল যে, ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ পতাকা নিষিদ্ধ করা হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবে।
প্রাক-বিপ্লবী ইরানি পতাকাটি বর্তমান জাতীয় পতাকার সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে এর মাঝখানে বর্তমান ইসলামী প্রতীকের পরিবর্তে সিংহ ও সূর্যের চিহ্ন রয়েছে। এটি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের শাহ শাসিত আমলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ফিফা সম্প্রতি আরেকটি একই ধরনের বিতর্কেও জড়িয়েছে। বিশ্বকাপের আগে হাইতিকে তাদের জার্সির নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দেয় সংস্থাটি। কারণ জার্সিতে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যেটিকে ফিফা ‘রাজনৈতিক’ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে। ফিফার কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।























