দর্শকশুন্য মাঠে শুরু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, উদ্বোধনী ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয় পেল ভারত
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ৮৪ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। উদ্বোধনী ম্যাচেই রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে ভারত। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে তারা ৩-২ গোলে পরাজিত করে গ্রুপ পর্বের শীর্ষে থাকার অবস্থান মজবুত করে তুললো। মাঠের লড়াইয়ের আগে দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে বাকযুদ্ধে ছিল তুমুল উত্তেজনা। যদিও ম্যাচের প্রথম হাফে তার ছিটপটাও দেখা যায়নি। টপাটপ দুই গোল করে পাকিস্তানকে যেন বতলবন্দী করে ফেলেছিলেন ভারতীয় আক্রমন ভাগের সুহাইল আহেমেদ ভাট। শুধু কি তাই- ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য বিস্তার করে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত। তৃতীয় গোলটি করেন ভারতের এম কিপগেন। তবে পাকিস্তান শেষ দিকে জ্বলে উঠতেই জমে যায় ম্যাচ। নাজিব উল্লাহ ও এ. গাজী টপাটপ দুই গোল করে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ তৈরি করে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাপটা ভালোভাবেই সামলে নিয়ে ভারত বিজয়ের বেশে মাঠ ছাড়ে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বিস্ময়কর লেগেছে উদ্বোধনী ম্যাচে দর্শক শুন্যতায়। পাঁচশত দর্শক হয়েছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। একহাজার টাকার এক টিকিটে দুই ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও সাফ ফুটবলের আয়োজকরা মাঠে দর্শকদের টানতে পারেন নি। বর্তমান সময়ের আর্থিক দৈন্যতার জন্য অনেকে দায়ী করলেও মূলত দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে অবস্থান করে দুই ম্যাচ দেখার আগ্রহ ছিল না দর্শকদের। দুই ম্যাচ দুই মাঠে অনুষ্ঠিত হলেও হয়ত সেখানে দর্শক খরা কিছুটা হলেও কাটতো। দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় একটি ম্যাচের আয়োজন করা যেতো। তাতে দর্শকদের চিৎকার, পতাকার দোল কিংবা মুহুর্মুহু গর্জনে চারপাশে ফাঁকা আসনের সারি দেখা যেতো না।

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে দর্শক শুন্যতা থাকলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ঠিকই জমে উঠেছিল। যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ভারত। তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ তৈরি করেন দুই সুহাইল। চতুর্থ মিনিটে প্রথম কর্নারও আদায় করে নেয় দলটি। ১৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। উইং থেকে মুহাম্মদ সুহাইলের নিচু ক্রস বক্সে পেয়ে হেডে বল জালে পাঠান সুহাইল আহমেদ ভাট। গোলের পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউউ’ উদ্যাপনও করেন তিনি।
এর ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভাট। রিকির দারুণ থ্রু পাস ধরে পাকিস্তানের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোল করেন মোহনবাগানের এই ফরোয়ার্ড। ১৯ মিনিটেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।
৩২ মিনিটে ভারতের তৃতীয় গোলটি আসে। নুফালের বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে যান পাঞ্জাব এফসির মিডফিল্ডার এম. কিপগেন। পাকিস্তানের গোলরক্ষক এগিয়ে এসেও গোল ঠেকাতে পারেননি। ৩৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। পেনাল্টি আদায় করলেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় দলটি। শায়াক দস্তের নেয়া শট চলে যায় ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ভাট। তবে ৩৮ মিনিটে নুফালের ক্রস থেকে পাওয়া বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ভারতের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়।
বিরতির পরও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ভারত। ৫০ মিনিটে মুহাম্মদ সুহাইলের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় সুযোগ তৈরি করেন ভাট। তবে শেষ মুহূর্তে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলের সুযোগ নষ্ট হয়।
৫৮ মিনিটে চোটের কারণে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানের আবদুল রহমান। ৬০ মিনিটে ভারতের কোচ নওশাদ মুসা একসঙ্গে দুই পরিবর্তন আনেন। মাঠ ছাড়েন দুই সুহাইল, তাদের জায়গায় নামেন ফারুখ ও এবিন্দাস। ফলে ভাটের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময়েও ভারত বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। তবে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত। কিন্তু যোগ করা সময়ে ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনে পাকিস্তান।
৯০ মিনিটে জুনাইদের ক্রস থেকে দারুণ হেডে ব্যবধান কমান নাজিব উল্লাহ। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর ৯০ মিনিটের বেশি সময়ে দুর্দান্ত ভলিতে ভারতের জালে বল পাঠান এ. গাজী। মুহূর্তেই স্কোরলাইন ৩-২। শেষ কয়েক মিনিটে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে পাকিস্তানের। তবে শেষ পর্যন্ত আর সমতাসূচক গোল পায়নি তারা। ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।
এই জয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ বি-তে তিন পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শুরু করল ভারত। তবে শেষ দিকে দুই গোল হজম করায় গোল ব্যবধানের সুবিধা কিছুটা কমেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
ভারতের পরবর্তী প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে হার এড়ানোর লক্ষ্য থাকবে নওশাদ মুসার দলের।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টে রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত গ্রুপ বি-তে রয়েছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপের সঙ্গে। অন্যদিকে গ্রুপ এ-তে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান।




















