ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কি হবে ইরান যুদ্ধ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবি ঘটেছে। প্রতিনিধি পরিষদের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটেরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কব্জায় নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ১০০টি আসনের সিনেটে ইতিমধ্যে তারা ৫১টি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

সিনেটের মোট ৩৫টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসনের ভোট গণনা শেষ হতেই ডেমোক্র্যাটরা অতিরিক্ত ৬টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মোট আসন সংখ্যা ৫১-এ নিয়ে যায়। বিপরীতে ৬টি আসন হারিয়ে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯টিতে (বাকি ১০টি আসনের হিসাব এখনও অসংখ্যালঘিষ্ঠ বা প্রক্রিয়াধীন)। এর মাধ্যমে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্যের অবসান ঘটল।

এদিকে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটদের অগ্রযাত্রা বজায় রয়েছে। ৪৩৫টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮৯টি আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮১টি আসনে (১২টি আসন বৃদ্ধি) এবং রিপাবলিকানরা ১০৮টি আসনে (১২টি আসন হ্রাস) জয় পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন, যার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষেই ডেমোক্রেটদের এই দ্বৈত জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও মেয়াদের ওপর এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কি হবে ইরান যুদ্ধ? 

এই হারের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়টি বারবার বিভিন্ন প্রসঙ্গে সামনে চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এখন থেকে কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ করা যায় তা নিয়েই বেশি আলোচনা হবে। তারা বলছেন কংগ্রেস এই বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা সুযোগ পাবে এবং এক্ষেত্রে ডেমেক্র্যাট সদস্যরা যুদ্ধ নিয়ে বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন বিশ্বাস করেন, বর্তমান প্রশাসনের জন্য এখন ইরানে যুদ্ধ সমাপ্তির কৌশল খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে আলজাজিরাকে অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় যে, সেই রূপরেখা বা কৌশল কেমন হবে তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একসাথে কাজ করার একটি সুযোগ এই কংগ্রেসের রয়েছে।’

অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেখানকার এই সামরিক অভিযানটি নিয়ে এতদিন বলতে গেলে তেমন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।’

ফ্রেডেরিকসেন জানান, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে কখনো সমর্থন করবে না বা দেশটিকে পারমাণবিক ক্ষমতাধর হিসেবে দেখতে চাইবে না, এবং এটিই ছিল যুদ্ধে জড়ানোর অন্যতম ‘ঘোষিত কারণ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত মাসগুলোতে যুদ্ধ গড়ালেও প্রশাসন বারবারই দাবি করে আসছিল যে এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের কেবল এমন কিছু বলা হচ্ছিল যা আদৌ সত্য ছিল না।

ফ্রেডেরিকসেন সবশেষে বলেন, ‘আবারও বলছি, যে প্রতিষ্ঠানটির নজরদারি চালানো উচিত এবং যার প্রশ্ন তোলা উচিত সেটি হলো কংগ্রেস; আর এখন ডেমোক্র্যাটরা ঠিক সেই কাজটিই করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কি হবে ইরান যুদ্ধ?

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবি ঘটেছে। প্রতিনিধি পরিষদের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেটেরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কব্জায় নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ১০০টি আসনের সিনেটে ইতিমধ্যে তারা ৫১টি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

সিনেটের মোট ৩৫টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসনের ভোট গণনা শেষ হতেই ডেমোক্র্যাটরা অতিরিক্ত ৬টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মোট আসন সংখ্যা ৫১-এ নিয়ে যায়। বিপরীতে ৬টি আসন হারিয়ে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯টিতে (বাকি ১০টি আসনের হিসাব এখনও অসংখ্যালঘিষ্ঠ বা প্রক্রিয়াধীন)। এর মাধ্যমে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্যের অবসান ঘটল।

এদিকে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ডেমোক্র্যাটদের অগ্রযাত্রা বজায় রয়েছে। ৪৩৫টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৮৯টি আসনের ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮১টি আসনে (১২টি আসন বৃদ্ধি) এবং রিপাবলিকানরা ১০৮টি আসনে (১২টি আসন হ্রাস) জয় পেয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন, যার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষেই ডেমোক্রেটদের এই দ্বৈত জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও মেয়াদের ওপর এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কি হবে ইরান যুদ্ধ? 

এই হারের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়টি বারবার বিভিন্ন প্রসঙ্গে সামনে চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এখন থেকে কীভাবে এই যুদ্ধ শেষ করা যায় তা নিয়েই বেশি আলোচনা হবে। তারা বলছেন কংগ্রেস এই বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করা সুযোগ পাবে এবং এক্ষেত্রে ডেমেক্র্যাট সদস্যরা যুদ্ধ নিয়ে বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন বিশ্বাস করেন, বর্তমান প্রশাসনের জন্য এখন ইরানে যুদ্ধ সমাপ্তির কৌশল খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে আলজাজিরাকে অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় যে, সেই রূপরেখা বা কৌশল কেমন হবে তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একসাথে কাজ করার একটি সুযোগ এই কংগ্রেসের রয়েছে।’

অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেখানকার এই সামরিক অভিযানটি নিয়ে এতদিন বলতে গেলে তেমন কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।’

ফ্রেডেরিকসেন জানান, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে কখনো সমর্থন করবে না বা দেশটিকে পারমাণবিক ক্ষমতাধর হিসেবে দেখতে চাইবে না, এবং এটিই ছিল যুদ্ধে জড়ানোর অন্যতম ‘ঘোষিত কারণ।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত মাসগুলোতে যুদ্ধ গড়ালেও প্রশাসন বারবারই দাবি করে আসছিল যে এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের কেবল এমন কিছু বলা হচ্ছিল যা আদৌ সত্য ছিল না।

ফ্রেডেরিকসেন সবশেষে বলেন, ‘আবারও বলছি, যে প্রতিষ্ঠানটির নজরদারি চালানো উচিত এবং যার প্রশ্ন তোলা উচিত সেটি হলো কংগ্রেস; আর এখন ডেমোক্র্যাটরা ঠিক সেই কাজটিই করবে।