নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় বন্যা,ভূমি ধসে নিহত ১০৩, নিখোঁজ ৮৪৪ জন
- আপডেট সময় : ১১:৫২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল, ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে এক হৃদয়বিদারক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সর্ব শেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৮৪৪ জন। বৈরী আবহাওয়া ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিখোঁজ
নেপাল পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৮টি দেশের প্রায় ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া চীন সীমান্তসংলগ্ন তিব্বত অংশ থেকেও ২৬৫ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানে নেমে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন নেপাল পুলিশ, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং ৪৪ জন সেনা সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্প ও হিমবাহ ধসকেই দায়ী করা হচ্ছে
নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখার সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে অঞ্চলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, উক্ত ভূকম্পনের ফলেই পাহাড়ি উঁচু চূড়ায় থাকা হিমবাহে হঠাৎ ধস নামে। সেখান থেকে নেমে আসা আকস্মিক তীব্র ঢলই নদ-নদীর পানি বহুগুণ বাড়িয়ে পুরো এলাকায় এই প্রলয়ঙ্করী বন্যার সৃষ্টি করেছে।
যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল আরও জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন চীনের তিব্বত অংশও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় দেশ যৌথভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ঝূঁকিপূর্ণ নদী ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।





















