ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এগিয়ে থেকেও আত্মঘাতী গোলে জয় হাতছাড়া মিশরের

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিশ্চিত পেনাল্টি বঞ্চিত হলেন মিশরীয়রা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে মিশরের ভাগ্যে ম্যাচ জয়ের সর্বশেষ সুযোগটি নষ্ট করে দিয়েছেন রেফরি। তবে তার আগের কষ্টটা ছিলো আত্মঘাতী গোল হজম করা। তা না হয় ফারাওরাদের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পথটাই ছিলো পরিস্কার। ইমাম আশুরের দূর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচটি শেষ ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়।

যদিও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা মেলেনি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ ছিল।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলে মিশর। মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। অন্যদিকে রোমেলু লুকাকুকে ছাড়াই মাঠে নামে বেলজিয়াম। ম্যাচের ১৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিসরকে এগিয়ে দেয়।

গোলের পর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মিসর। বেলজিয়াম বলের দখল বেশি রাখলেও আফ্রিকান দলটির সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১–০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মিসর।

বিরতির পর ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। ফ্রি-কিক থেকে তার দারুণ শট গিয়ে আঘাত হানে মিসরের পোস্টে। ভাগ্য সহায় হলে হয়তো তখনই সমতায় ফিরতে পারত ইউরোপের দলটি।

তবে অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম, যদিও গোলটি আসে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন মিসরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি।

আত্মঘাতী ওই গোলেই ১–১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকার পর এক মুহূর্তের ভুলে মিসর হারায় তাদের মূল্যবান লিড, আর নতুন করে জমে ওঠে ম্যাচের লড়াই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এগিয়ে থেকেও আত্মঘাতী গোলে জয় হাতছাড়া মিশরের

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নিশ্চিত পেনাল্টি বঞ্চিত হলেন মিশরীয়রা। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে মিশরের ভাগ্যে ম্যাচ জয়ের সর্বশেষ সুযোগটি নষ্ট করে দিয়েছেন রেফরি। তবে তার আগের কষ্টটা ছিলো আত্মঘাতী গোল হজম করা। তা না হয় ফারাওরাদের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার পথটাই ছিলো পরিস্কার। ইমাম আশুরের দূর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মিশর। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী এক গোলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মিশরকে।

সোমবার রাতে সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচটি শেষ ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়।

যদিও কাগজে-কলমে ম্যাচের ফেভারিট ছিল বেলজিয়াম। তবে মাঠের লড়াইয়ে দুই দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য দেখা মেলেনি। শুরু থেকেই মিশর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে এবং বেলজিয়ানদের সমানতালে চ্যালেঞ্জ ছিল।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ইমাম আশুরের পায়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশে মিশরকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বেলজিয়ামও হাল ছাড়েনি। ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকা ইউরোপিয়ানরা শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবানও হয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধে।

পরিসংখ্যানও বলে দেয় ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। তারা ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে মিশরও ১৪টি শট নেয় এবং ৩টিই ছিল লক্ষ্যে। দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ম্যাচটিকে জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত কেউই জয় তুলে নিতে পারেনি।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলে মিশর। মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। অন্যদিকে রোমেলু লুকাকুকে ছাড়াই মাঠে নামে বেলজিয়াম। ম্যাচের ১৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে বেলজিয়ামের জাল কাঁপান ইমান আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার প্রথম গোল, আর সেটিই বিশ্বকাপের মঞ্চে মিসরকে এগিয়ে দেয়।

গোলের পর আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মিসর। বেলজিয়াম বলের দখল বেশি রাখলেও আফ্রিকান দলটির সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১–০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মিসর।

বিরতির পর ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ায় বেলজিয়াম। ৫৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। ফ্রি-কিক থেকে তার দারুণ শট গিয়ে আঘাত হানে মিসরের পোস্টে। ভাগ্য সহায় হলে হয়তো তখনই সমতায় ফিরতে পারত ইউরোপের দলটি।

তবে অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম, যদিও গোলটি আসে কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন মিসরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি।

আত্মঘাতী ওই গোলেই ১–১ সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। চলতি বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। দীর্ঘ সময় এগিয়ে থাকার পর এক মুহূর্তের ভুলে মিসর হারায় তাদের মূল্যবান লিড, আর নতুন করে জমে ওঠে ম্যাচের লড়াই।