ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্পেনকে আটকে দিয়ে বিজয়ী উল্লাসে কেপ ভার্দে

বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট্ট একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। দশটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই সুন্দর দেশটির রাজধানী হলো প্রাইয়া এবং পর্তুগিজ এখানকার সরকারি ভাষা। গড়ে তাপমাত্র ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পর্যটন, সঙ্গীত এবং চমৎকার সমুদ্র সৈকতের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কেপ ভার্দে বলা হলেও এর অফিসিয়ালি  নাম ‘কাবু ভের্দি’। 

কতিপয় ভ্রমন পিয়াসীর কাছে পরিচিত হলেও ফুটবল বিশ্বে একেবারে অপরিচিত নাম। মাত্র ৬ লাখ লোকের বসবাস। আজ সেই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটিই কিনা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে, স্পেনের সাথে গোলশুন্য ড্র করে। তাদের এই ফুটবল শক্তি যেন গোটা দুনিয়াকে বুজিয়ে দিলো- কেবল সামরিক পরাশক্তি কিংবা আর্থিক স্বচ্ছলতাই নয়, খেলা-ধুলাতেও পরিচিত লাভের আরেকটি চমতকার মাধ্যমও বটে।

ফুটবল বিশ্বে স্পেন বরাবরই হট ফেভারিট দল। তাদের মিশনেই থাকে কেবল চ্যাম্পিয়ন হবার। আর সেখানে কেপ ভার্দে নবাগত এক নাম। আসরের দ্বিতীয় ক্ষুদ্র দেশ মাত্র। ফুটবল শক্তিতে যোজন যোজন প্রার্থক্য,অনেকটা আকাশ-পাতাল।

কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চের চিত্রটা তো ভিন্ন। যোগ্যতা নিয়ে সব কয়টি দল ফুটবলের বিশাল এই মঞ্চে লড়াইয়ের সুযোগ পায়। তাই যে কোন কিছু ঘটে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। যা ঘটেছে এই ম্যাচে। তবে এর আগেও কাতার এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগির বাস্তব চিত্রের দেখা মিলেছে। এই ম্যাচের ফলাফল কিন্তু সব কয়টি ম্যাচের উত্তেজনাকে ছাড়িয়ে গেছে। দুর্ভেদ্য রক্ষণ আর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ নৈপুণ্যে স্পেন আটকে গেলো পয়েন্ট ভাগাভাগির আবর্তে। বলা যায় স্পেনিশদের রুখে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কেপ ভার্দে।

সোমবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম গোলশুন্য লড়াইটি দেখলো ফুটবল বিশ্ব। চোটের কারণে শুরু থেকেই বেঞ্চে ছিলেন স্পেনের দুই তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। তাদের ছাড়াই একাদশ সাজান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ম্যাচজুড়ে গোলের দেখা না পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে দুজনকেই মাঠে নামাতে বাধ্য হন তিনি। তবুও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তার সামনে স্প্যানিশদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

যদিও পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্পেনের। বল দখলে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ছিল স্পষ্ট। ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে মোট ২৫টি শট নেয় স্পেন, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা কিংবা কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ।

অন্যদিকে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও নিজেদের পরিকল্পনায় সফল ছিল কেপ ভার্দে। তারা ৬টি শট নেয়, যার মধ্যে মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নিজেদের জাল অক্ষত রেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তারা।

ম্যাচ শেষে তাই, প্রত্যাশার বিপরীতে এমন ফলাফলে স্পেনিশদের মধ্যে হতাশ ছাপ ছিলো স্পষ্ট। অন্যদিকে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। বিশ্বকাপের সৌন্দর্য তো এখানেই—যেখানে সামর্থ্য, পরিসংখ্যান আর পূর্বাভাসকে হার মানিয়ে জন্ম নেয় নতুন গল্প। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিখেছে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়।

যেখানে মহানায়কের ভূমিকায় ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। করেছেন ৭টি অসাধারণ সেভ, যার কয়েকটি ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানো। তাই তো শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। সেটি হতাশার নয়, বরং এক স্বপ্নপূরণের আনন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্পেনকে আটকে দিয়ে বিজয়ী উল্লাসে কেপ ভার্দে

আপডেট সময় : ০১:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কেপ ভার্দে। আফ্রিকার ছোট্ট একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। দশটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই সুন্দর দেশটির রাজধানী হলো প্রাইয়া এবং পর্তুগিজ এখানকার সরকারি ভাষা। গড়ে তাপমাত্র ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পর্যটন, সঙ্গীত এবং চমৎকার সমুদ্র সৈকতের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কেপ ভার্দে বলা হলেও এর অফিসিয়ালি  নাম ‘কাবু ভের্দি’। 

কতিপয় ভ্রমন পিয়াসীর কাছে পরিচিত হলেও ফুটবল বিশ্বে একেবারে অপরিচিত নাম। মাত্র ৬ লাখ লোকের বসবাস। আজ সেই ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটিই কিনা ফুটবল বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে, স্পেনের সাথে গোলশুন্য ড্র করে। তাদের এই ফুটবল শক্তি যেন গোটা দুনিয়াকে বুজিয়ে দিলো- কেবল সামরিক পরাশক্তি কিংবা আর্থিক স্বচ্ছলতাই নয়, খেলা-ধুলাতেও পরিচিত লাভের আরেকটি চমতকার মাধ্যমও বটে।

ফুটবল বিশ্বে স্পেন বরাবরই হট ফেভারিট দল। তাদের মিশনেই থাকে কেবল চ্যাম্পিয়ন হবার। আর সেখানে কেপ ভার্দে নবাগত এক নাম। আসরের দ্বিতীয় ক্ষুদ্র দেশ মাত্র। ফুটবল শক্তিতে যোজন যোজন প্রার্থক্য,অনেকটা আকাশ-পাতাল।

কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চের চিত্রটা তো ভিন্ন। যোগ্যতা নিয়ে সব কয়টি দল ফুটবলের বিশাল এই মঞ্চে লড়াইয়ের সুযোগ পায়। তাই যে কোন কিছু ঘটে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। যা ঘটেছে এই ম্যাচে। তবে এর আগেও কাতার এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগির বাস্তব চিত্রের দেখা মিলেছে। এই ম্যাচের ফলাফল কিন্তু সব কয়টি ম্যাচের উত্তেজনাকে ছাড়িয়ে গেছে। দুর্ভেদ্য রক্ষণ আর ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার অসাধারণ নৈপুণ্যে স্পেন আটকে গেলো পয়েন্ট ভাগাভাগির আবর্তে। বলা যায় স্পেনিশদের রুখে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কেপ ভার্দে।

সোমবার রাতে আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচে ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম গোলশুন্য লড়াইটি দেখলো ফুটবল বিশ্ব। চোটের কারণে শুরু থেকেই বেঞ্চে ছিলেন স্পেনের দুই তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস। তাদের ছাড়াই একাদশ সাজান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ম্যাচজুড়ে গোলের দেখা না পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে দুজনকেই মাঠে নামাতে বাধ্য হন তিনি। তবুও কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তার সামনে স্প্যানিশদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

যদিও পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল স্পেনের। বল দখলে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ছিল স্পষ্ট। ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে মোট ২৫টি শট নেয় স্পেন, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা কিংবা কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ।

অন্যদিকে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও নিজেদের পরিকল্পনায় সফল ছিল কেপ ভার্দে। তারা ৬টি শট নেয়, যার মধ্যে মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। তবে নিজেদের জাল অক্ষত রেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তারা।

ম্যাচ শেষে তাই, প্রত্যাশার বিপরীতে এমন ফলাফলে স্পেনিশদের মধ্যে হতাশ ছাপ ছিলো স্পষ্ট। অন্যদিকে কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। বিশ্বকাপের সৌন্দর্য তো এখানেই—যেখানে সামর্থ্য, পরিসংখ্যান আর পূর্বাভাসকে হার মানিয়ে জন্ম নেয় নতুন গল্প। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিখেছে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়।

যেখানে মহানায়কের ভূমিকায় ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশ আক্রমণের সামনে মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। করেছেন ৭টি অসাধারণ সেভ, যার কয়েকটি ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানো। তাই তো শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন ভোজিনিয়া। সেটি হতাশার নয়, বরং এক স্বপ্নপূরণের আনন্দ।