ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নাহিদ রানার বোলিং তোপে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের দারুণ জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সকালের সেশনে প্রায় হাত ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিলো মিরপুরের টেস্ট। আগের দিনের সকল হিসাব-নিকাষের জল্পনায় কেউ যেন এসে এক বালতি পানি ঢেলে দিলো! চতুর্থদিন শেষে  শান্তরা স্বপ্ন দেখালো কি, আর হতে যাচ্ছেটা কি! তাহলে কি পরাজয় নিশ্চিত ? দিনের শুরুতেই এই বিক্রিয়া শুধু মিরপুর মাঠেই নয়, যারাই ম্যাচটিকে চোখে চোখে রেখেছিলেন তাদের সবার মধ্যেই কম-বেশ এই প্রতিক্রিয়া জেগে উঠাই ছিলো স্বাভাবিক। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া আগের দিন ৩ উইকেটে ১৫২ রানের পূজি দাড়ালো কিনা শেষ ২৬৭ রানে। দিনের শুরু্তেই মাত্র বিশ ওভারেই টালমাটাল বাংলাদেশের উইকেটে। ৮৮ রান যোগ করতেই ৬ উইকেটের বিসর্জন। তবে তড়িগড়ি ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষনা দিয়ে বেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

পঞ্চম দিনের উইকেটের দখলটা যেহেতু বোলারদের অনুকুলে, সেখানে আর যাাই হোক এই পূঁজিতে ভর করে একটা ভালো ফাইট করা যেতেই পারে। কারণ বাংলাদেশেরও রয়েছে সময়ের সবচে গতিশীল দুই বোলার ন‍াহিদ রানা ও তাসকিন। তাদের নিয়ে অধিনায়কের ম্যাচ জয়ের নতুন সমীকরণ।শান্তর সিদ্ধান্তট‍া যেন বুজতে বাকি রাখেন নি এই দুই পেসার। মন উজাড় করে বোলিং করেছেন। পাকিস্তানীদের ম্যাচ জয়ের সহজ পথে  দুর্গম পাহাড় হয়ে দাড়িয়ে গেলেন । সত্যিকার অর্থে  এ সময় দলের ভরসার প্রতীক হয়ে দাড়িয়ে গেলেন নাহিদ রানা। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই  মাত্র ১৬৩ রানেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন কুপোকাত । ১০৪ রানের জয় পেলো বাংলাদেশ।

উইকেটের আচরন আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গর্জে ওঠতে পার‍াই হচ্ছে ম্যাচ জয়ের মূল চাবিকাঠি। সেখানে বল হাতে আক্রমনের প্রধান দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘাদেহী নাহিদ রানা। এক‍াই দখল করে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাকি পাঁচটি দুটি করে তাসকিন ও তাইজুল এবং বাকি এক উইকেট দখল করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পঞ্চম দিনে এই বোলারদের কৃতিত্বেই বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে।

এর আগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জয় পেয়েছিলো প্রায় ২৩ বছর পর। এবার ১-০ তে এগিয়ে থাকা টাইগারদের সামনে ঘরের মাঠেও আরেকটি টেস্ট সিরিজ জয় অপেক্ষা করছে। আগামী ১৬ মে সিলেট স্টেডিয়ামে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ।

মিরপুরের আজ জয়ের লক্ষ্যে বল করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটারদের উপর বিষাদের রঙ ছিটিয়ে দেন তাসকিন ও মিরাজ। টপাটপ দুই উইকেট তুলে নিয়ে সহযোদ্ধাদের সাহসী করে তোলেন। এরপরের ইতিহাসটা কেবলই গতিশীল পেসার নাহিদ রানার। তবে বাংলাদেশের বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরাতে থাকা আব্দুল্লাহ ফজলের উইকেটা তুলে নিয়ে পাকিস্তানীদের রানের গতি থামিয়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল। এই ব্যাটারটি থাকলে হয়ত ম্যাচের চিত্র অন্য রকম দেখাতো। ফজলের উইকেটটি তুলে নিতেই যেন বাংলাদেশের উপর ভর করা বিশাল ভয়টাও কেটে গেলো ক্রমাগত।

এরপরও ম্যাচে ফেরার প্রবল চেষ্টায় ছিলো পাকিস্তানী ব্যাটাররা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি।

মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে পঞ্চম দিনে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। তখনও তাদের হাতে ছিল ৭ উইকেট। সবাই ধরে নিয়েছিল, টেস্টটা ড্র হতে যাচ্ছে। কিন্তু গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা টেস্ট ক্রিকেট যে একটিমাত্র সেশনে পুরো ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারে। মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনটি এর স্বাক্ষী হয়ে থাকলো।

শেষ সেশনে পাকিস্তানের জিততে দরকার ছিল ১৫২ রান, বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। শেষ এই লড়াইয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে গেলো। শেষ সেশনে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। বাকি তিনটি ভাগাভাগি করে নেন তাইজুল ও তাসকিন আহমেদ।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাহিদ রানার বোলিং তোপে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের দারুণ জয়

আপডেট সময় : ০৭:২০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সকালের সেশনে প্রায় হাত ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিলো মিরপুরের টেস্ট। আগের দিনের সকল হিসাব-নিকাষের জল্পনায় কেউ যেন এসে এক বালতি পানি ঢেলে দিলো! চতুর্থদিন শেষে  শান্তরা স্বপ্ন দেখালো কি, আর হতে যাচ্ছেটা কি! তাহলে কি পরাজয় নিশ্চিত ? দিনের শুরুতেই এই বিক্রিয়া শুধু মিরপুর মাঠেই নয়, যারাই ম্যাচটিকে চোখে চোখে রেখেছিলেন তাদের সবার মধ্যেই কম-বেশ এই প্রতিক্রিয়া জেগে উঠাই ছিলো স্বাভাবিক। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া আগের দিন ৩ উইকেটে ১৫২ রানের পূজি দাড়ালো কিনা শেষ ২৬৭ রানে। দিনের শুরু্তেই মাত্র বিশ ওভারেই টালমাটাল বাংলাদেশের উইকেটে। ৮৮ রান যোগ করতেই ৬ উইকেটের বিসর্জন। তবে তড়িগড়ি ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষনা দিয়ে বেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

পঞ্চম দিনের উইকেটের দখলটা যেহেতু বোলারদের অনুকুলে, সেখানে আর যাাই হোক এই পূঁজিতে ভর করে একটা ভালো ফাইট করা যেতেই পারে। কারণ বাংলাদেশেরও রয়েছে সময়ের সবচে গতিশীল দুই বোলার ন‍াহিদ রানা ও তাসকিন। তাদের নিয়ে অধিনায়কের ম্যাচ জয়ের নতুন সমীকরণ।শান্তর সিদ্ধান্তট‍া যেন বুজতে বাকি রাখেন নি এই দুই পেসার। মন উজাড় করে বোলিং করেছেন। পাকিস্তানীদের ম্যাচ জয়ের সহজ পথে  দুর্গম পাহাড় হয়ে দাড়িয়ে গেলেন । সত্যিকার অর্থে  এ সময় দলের ভরসার প্রতীক হয়ে দাড়িয়ে গেলেন নাহিদ রানা। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই  মাত্র ১৬৩ রানেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন কুপোকাত । ১০৪ রানের জয় পেলো বাংলাদেশ।

উইকেটের আচরন আর সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গর্জে ওঠতে পার‍াই হচ্ছে ম্যাচ জয়ের মূল চাবিকাঠি। সেখানে বল হাতে আক্রমনের প্রধান দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘাদেহী নাহিদ রানা। এক‍াই দখল করে নিয়েছেন ৫ উইকেট। বাকি পাঁচটি দুটি করে তাসকিন ও তাইজুল এবং বাকি এক উইকেট দখল করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পঞ্চম দিনে এই বোলারদের কৃতিত্বেই বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে।

এর আগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে জয় পেয়েছিলো প্রায় ২৩ বছর পর। এবার ১-০ তে এগিয়ে থাকা টাইগারদের সামনে ঘরের মাঠেও আরেকটি টেস্ট সিরিজ জয় অপেক্ষা করছে। আগামী ১৬ মে সিলেট স্টেডিয়ামে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ।

মিরপুরের আজ জয়ের লক্ষ্যে বল করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটারদের উপর বিষাদের রঙ ছিটিয়ে দেন তাসকিন ও মিরাজ। টপাটপ দুই উইকেট তুলে নিয়ে সহযোদ্ধাদের সাহসী করে তোলেন। এরপরের ইতিহাসটা কেবলই গতিশীল পেসার নাহিদ রানার। তবে বাংলাদেশের বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরাতে থাকা আব্দুল্লাহ ফজলের উইকেটা তুলে নিয়ে পাকিস্তানীদের রানের গতি থামিয়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল। এই ব্যাটারটি থাকলে হয়ত ম্যাচের চিত্র অন্য রকম দেখাতো। ফজলের উইকেটটি তুলে নিতেই যেন বাংলাদেশের উপর ভর করা বিশাল ভয়টাও কেটে গেলো ক্রমাগত।

এরপরও ম্যাচে ফেরার প্রবল চেষ্টায় ছিলো পাকিস্তানী ব্যাটাররা। ষষ্ঠ উইকেটে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা চালান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু তাদের ক্রিজে থিতু দেননি টাইগার পেসার নাহিদ রানা। নিজের করা টানা দুই ওভারে শাকিল ও রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনি।

মিরপুর টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলে পঞ্চম দিনে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। তখনও তাদের হাতে ছিল ৭ উইকেট। সবাই ধরে নিয়েছিল, টেস্টটা ড্র হতে যাচ্ছে। কিন্তু গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা টেস্ট ক্রিকেট যে একটিমাত্র সেশনে পুরো ম্যাচের রঙ বদলে দিতে পারে। মিরপুর টেস্টের পঞ্চম দিনটি এর স্বাক্ষী হয়ে থাকলো।

শেষ সেশনে পাকিস্তানের জিততে দরকার ছিল ১৫২ রান, বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। শেষ এই লড়াইয়ে বাংলাদেশই এগিয়ে গেলো। শেষ সেশনে ৪ উইকেট নেন নাহিদ রানা। বাকি তিনটি ভাগাভাগি করে নেন তাইজুল ও তাসকিন আহমেদ।

এর আগে, প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৭৯ রানে এগিয়ে ছিল টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ ও মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। পঞ্চম দিন শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন দাস ১১, মেহেদি হাসান মিরাজ ২৪, তাইজুল ইসলাম ৩, তাসকিন আহমেদ ১১ রানে আউট হন। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন। এ ছাড়া আগের দিন মাহমুদুল হাসান জয় ৫, সাদমান ইসলাম ১০ ও মুমিনুল হক ৫৬ রানে আউট হন।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে শান্তর সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি পাকিস্তান তোলে ৩৮৬ রান। ২৮ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থেকে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে টার্গেট দাঁড়ায় ২৬৮ রান।