লিটনের সেঞ্চুরির দিনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আফগানিস্তান
- আপডেট সময় : ০৯:০২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনটিও বাংলাদেশের অনুকুলে। সেই প্রথম দিন থেকেই ব্যাটে-বলে দুটিদেকই টাইগাররা দৌদন্ড দাপট দেখিয়ে আসছেন। আজ ম্যাচের চতুর্থ দিনেও টাইগারদের সে দাপুটে ক্রিকেট ছিল লক্ষণীয়। রানে ফিরা লিটন কুমার দাসের ব্যাটে সেঞ্চুরির দেখা, ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা শেষে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ দাড় করানো, সবই দেখিয়েছেন দুবাই টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।।
চা-বিরতি পর্যন্ত আফগানিস্তান: ২৪০ ও ৫১/২ (রহমত ১৪, সিদ্দিকুল্লাহ ১৪); জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৪২৮ রান। বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ (লিটন ১০২, শান্ত ৮২, মুশফিকুর ৮১, জিয়া ২-৮৬)।
এরপর বল হাতে আফগানিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ ১৩২ রানে। দিন শেষে স্বাগতিক আফগানিস্তান এখনো ৩৪৭ রানে পিছিয়ে আছে। জয়ের লড়াইয়ে তাদের পুরোদিন ব্যাট করার সুযোগ রয়েছে। তবে হাতে থাকা ৭ উইকেট নিয়ে সে যাত্রায় কতোটা টিকে থাকতে পারবেন আফগান ব্যাটাররা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে দিনের শেষ বিকালে আফগানদের ব্যাটিং নির্ভর রহমত শাহকে বিদায় করাতে তাদের ব্যাটিং লাইন কিছুটা নড়বড়ে হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চা-বিরতির আগেই ১৫ ওভার ব্যাটিংয়ে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। স্বাগতিকরা চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় ৫১ রানে হারায় ২ উইকেট। এরপর আফগানিস্তানের ক্ষীণ আশায় থাকা অধিনায়ক রহমত শাহও পারেন নি দিন পার করতে। হাফসেঞ্চুরি হাাঁকিয়েই বিদায় নেন তিনি।
তার আগে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরপরই সফরকারী বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ৩৭২ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ঘোষণা করে। মোহাম্মদ সালিমের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০২ রানে আউট হন লিটন। ওই ওভারেই তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের সপ্তম এবং উইকেটকিপার হিসেবে ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেছিলেন। একটি চমৎকার ‘পুল শট’ খেলে লিটন ৯৪ থেকে ৯৮ রানে পৌঁছান এবং এরপর ‘পয়েন্ট’ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে শট খেলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথম ইনিংসে করা ফিফটি এবং এই ম্যাচে এখন পর্যন্ত উইকেটকিপার হিসেবে পাঁচটি ডিসমিসালের (ক্যাচ ও স্টাম্পিং) পাশাপাশি এই সেঞ্চুরিটি তাঁর নামের পাশে যুক্ত হলো। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট সিরিজে টানা তিনবার শূন্য রানে আউট হওয়ার পর লিটন এই সিরিজে খেলতে নেমেছিলেন।
দিনের শুরুর দিকে ফিল্ডিংয়ের সময় একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ নিশ্চয়ই আফগানিস্তানকে পোড়াবে। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে অনেক দূরে থাকা অবস্থায় মেহেদীকে রান-আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করেন কাইস। এরপর আব্দুল মালিক ‘গালি’ অঞ্চলে মেহেদীর একটি ক্যাচ ফেলেন, যখন তিনি ৪০ রানে ব্যাট করছিলেন।
ব্যাট করতে নেমে মালিকের দিনটি আরও খারাপ হয়ে যায়—রান তাড়া করতে নেমে ইবাদত হোসেনের করা প্রথম বলেই উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন। এই ম্যাচে আগেরবার ব্যাট করার সময়ও অফ-স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছিলেন। পরের বলটি ছিল আরও কাছে, তবে শেষ পর্যন্ত লিটনের জন্য এটি একটি সহজ ক্যাচেই পরিণত হয়।
এরপর আউট হন শহীদুল্লাহ; হাসান মাহমুদের বলে ‘হুক’ শট খেলতে গিয়ে তিনিও উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন। এর আগে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে তিনি দ্রুত ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ঠিক যে শটটি খেলে তিনি আউট হয়েছিলেন, এবারও সেই একই শট খেলতে গিয়েই তিনি আউট হন।
দিনের শুরুর সেশনে লিটনের নান্দনিক সব শটের পাশাপাশি আফগানিস্তানের ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতাও ছিল চোখে পড়ার মতো—তারা বেশ কয়েকটি ক্যাচ ও রান-আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে। আবুধাবি টেস্টের এ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ দিনে আফগান বোলারদের যেন অনায়াসেই সামলাচ্ছিলেন লিটন; তিনি চমৎকার সব কাট, ড্রাইভ ও পুল শট খেলেন।
লিটন ব্যক্তিগত ১৪, ২৬ ও ৬৭ রানে জীবন পাওয়ায় আফগানিস্তানের হতাশা আরও বেড়ে যায়। স্লিপে শহীদুল্লাহ একটি কঠিন ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন এবং এরপর কাইস বোলারকে দেওয়া একটি সহজ ক্যাচ (রিটার্ন ক্যাচ) হাতছাড়া করেন। ৬৭ রানে ব্যাট করার সময় লিটনের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল গেলেও আম্পায়ার তাকে আউট দেননি; এদিকে আফগানিস্তানের রিভিউয়ের কোটাও ততক্ষণে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজকেও রান-আউট করার সুযোগ তারা হাতছাড়া করে এবং স্লিপে তারও একটি ক্যাচ পড়ে যায়; সব মিলিয়ে বাংলাদেশ তাদের লিড ৪০০ রানে নিয়ে যায়।



















