ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার
- আপডেট সময় : ০৯:১২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৭ বার পড়া হয়েছে
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার এ কার্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করছে সরকার।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভাব্য উপকারভোগী পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা এবং কারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপযুক্ত, তা নির্ধারণের ভিত্তি তৈরি হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিপুলসংখ্যক পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা ও প্রয়োজন সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে। তবে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হলেই সব পরিবার কার্ডের সুবিধা পাবে, এমন নয়। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সূচনা উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্য সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চায় সরকার। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে চিহ্নিত করে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে কার্ডের সুবিধা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন করতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্ধারণ করা হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের গ্রেডিং করা হবে, যাতে তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে ভুলভ্রান্তি কমানো যায়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর আগে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলটিং সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যায়ে তথ্য ও উপকারভোগী নির্বাচনের সম্ভাব্য ত্রুটি যাচাই করা হয়েছে। ত্রুটির হার কোনো ক্ষেত্রেই ২ থেকে ৩ শতাংশ অতিক্রম করেনি। চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য যতটা সম্ভব নির্ভুল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য ও সম্ভাব্য উপকারভোগী
প্রাথমিক পরিকল্পনায় তথ্য সংগ্রহ এবং সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুটি পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ করা হবে ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৪ কোটি পরিবারের। এর মধ্যে সম্ভাব্য উপকারভোগী হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ পরিবার।
অর্থাৎ, তথ্য সংগ্রহের আওতায় আসা সব পরিবারকে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই; বরং যাচাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলোকে বাছাই করার কথা রয়েছে। তবে পরিবার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড, কার্ডের মাধ্যমে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং সুবিধা বণ্টনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা জানা গেলে কর্মসূচির কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে।
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উদ্যোগ
ফ্যামিলি কার্ডকে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সম্ভাব্য উপকারভোগীদের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা। পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও প্রয়োজনের সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা গেলে সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা আনা সহজ হবে।
তবে এত বড় পরিসরে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই একটি উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়েক কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সঠিকতা যাচাই, একই পরিবারের একাধিক নিবন্ধন প্রতিরোধ এবং প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও সহায়তাপ্রত্যাশী পরিবারগুলো যেন তালিকায় বাদ না পড়ে, আবার অযোগ্য কেউ যেন সুবিধা না পায়—তা নিশ্চিত করতে কার্যকর যাচাইব্যবস্থা প্রয়োজন। তথ্যের নির্ভুলতা ও উপকারভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছতার ওপরই এ কর্মসূচির কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা গেলে পরবর্তী পর্যায়ে পরিবার যাচাই ও উপকারভোগী নির্বাচনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে চূড়ান্তভাবে কত পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং কবে থেকে সুবিধা দেওয়া শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।






















