ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় ৩ মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
 কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এই মরদেহগুলোর সন্ধান পায় পুলিশ। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় এবং এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পান তারা। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় এবং পাহাড়ি পথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ভোরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল পাহাড়ে অভিযান চালাবে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। মালয়েশিয়ায় ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় লোকজনকে এখানে এনে জিম্মি করা হতো এবং মুক্তিপণ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধার হতে যাওয়া মরদেহগুলো পাচারের শিকার কোনো ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের নাকি অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন।

অভিযান চলাকালে ওই আস্তানা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকে পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ দিকে পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। সশস্ত্র অপরাধীদের আস্তানা নির্মূলে পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মানববন্ধনের বিষয়েও প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় ৩ মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১০:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
 কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এই মরদেহগুলোর সন্ধান পায় পুলিশ। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় এবং এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পান তারা। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় এবং পাহাড়ি পথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রাতের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার ভোরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল পাহাড়ে অভিযান চালাবে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্র আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। মালয়েশিয়ায় ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় লোকজনকে এখানে এনে জিম্মি করা হতো এবং মুক্তিপণ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধার হতে যাওয়া মরদেহগুলো পাচারের শিকার কোনো ভাগ্যবঞ্চিত মানুষের নাকি অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন।

অভিযান চলাকালে ওই আস্তানা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাসদস্য নিহতের ঘটনার পর থেকে পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ দিকে পাহাড়ে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। সশস্ত্র অপরাধীদের আস্তানা নির্মূলে পাহাড়জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধ করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মানববন্ধনের বিষয়েও প্রশাসন খোঁজখবর রাখছে।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।