ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে ‍ওঠবে : তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা
  • শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান

শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তাঁকে কাছে পেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায়ও দক্ষ হতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা খুঁজে বের করে বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না; এর মধ্য দিয়েও একজন শিশু নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি তাদের প্রত্যেককে দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানোর দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব শিশু আর্থিক কিংবা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুযোগ পায় না, তাদের প্রতিভা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বপরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে হলে নতুন প্রজন্মকে বহুমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বিকাশ এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।

তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপি’র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে ‍ওঠবে : তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা
  • শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান

শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২৭’ (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরা প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তাঁকে কাছে পেয়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু পড়ালেখা করলেই চলবে না। প্রত্যেক শিশুকে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চায়ও দক্ষ হতে হবে। কারণ, শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় করা সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে।

শিশু-কিশোরদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেকের মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা খুঁজে বের করে বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না; এর মধ্য দিয়েও একজন শিশু নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি তাদের প্রত্যেককে দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানোর দায়িত্বও তাদের নিতে হবে।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব শিশু আর্থিক কিংবা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুযোগ পায় না, তাদের প্রতিভা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বপরিমণ্ডলে শক্তিশালী অবস্থানে নিতে হলে নতুন প্রজন্মকে বহুমুখী দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বিকাশ এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করে তাদের প্রশিক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তোমরা পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট কিংবা আইনজীবী হবে। কিন্তু এর পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, আর্ট ও কালচারও জানতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, তারা সব ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে পারে। দেশের অন্যান্য শিশু-কিশোরদেরও একইভাবে নিজেদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে এগিয়ে আসতে হবে। তোমরা পারো, ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা পড়ালেখা করতে পারো, খেলাধুলা করতে পারো, একইভাবে শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে পারো।

তিনি বলেন, ১৬ লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের মধ্যে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এখন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। আগামী জুন মাসে এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ৫০০টিরও বেশি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের শিশু-কিশোররা অনলাইনে এ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে।

শিশুদের তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে প্রত্যেক শিশুকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

একই সঙ্গে অনলাইনে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিকেএসপি’র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া চীনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত দেশটির ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন ড্যান্স ও লায়ন ড্যান্সও উপভোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।