রানা-ইমরোজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ভেঙ্গে যাচ্ছে বিওএ কমিটি
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১০৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) প্রতিনিয়ত পদত্যাগ চলছে। ৩৭ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে এখনো পর্যন্ত নয়জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। যা কিনা বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ৪৭ বছরের ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা।
বৃহস্পতিবার বিওএর সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য ও সাবেক ক্রীড়াবিদ ফারহাদ জেসমিন লিটি এবং অলিম্পিয়ান কোটায় নির্বাহী সদস্য হওয়া শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি।
জানা যায়, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের বড় কয়েকটি পদের সদস্যের সিন্ডিকেটের কারণে বিওএ’র বাকি সদস্যরা অসন্তোষ হয়ে পদত্যাগ করছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে তেমনি অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগের তীর বিওএ’র মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও সহসভাপতি মেজর অব. ইমরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে।
ফারহাদ জেসমিন লিটি তার পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও বিওএর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। লিটি অভিযোগ করেন, মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও সহ-সভাপতি ইমরোজ আহমেদ নিজেদের ইচ্ছামতো বিওএ পরিচালনা করছেন। কমিটিতে আরও যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার বিভিন্ন বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। তার মতে, এভাবে বিওএর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা চলতে পারে না।
তথ্য মতে, প্রতিটি গেমস আয়োজক দেশ অংশগ্রহনকারী দলগুলোকে আবাসন হসপিটালিটি,যাতায়াতসহ বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। সে তথ্যগুলো বিওএ থেকে বরাবরই গোপন রাখা হয়। এর আগে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহনকারী দলগুলোকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আবাসন,হসপিটালিটি এবং নিজ দেশে থেকে যাতায়াতের ভাড়া পর্যন্ত প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু তখনকার কমিটি এই বিষয়টি মিডিয়ার কাছে গোপন রেখেছিল। যেহেতু তারা ছিল গেমসের এয়ার পার্টনার। পরবর্তীতে ইন্ডিয়ান এয়ার লাইনসের জিএম এর এক ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছিল গোপন তথ্য। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিটি দেশকে তারা (ইন্ডিয়ান এয়ার লাইনস) যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যে সব দেশে ইন্ডিয়ান এয়ার লাইনস যাতায়াত করে না,সে দেশগুলোকে তারা যাতায়াতের ভাড়া প্রদান করেছে।
এবার এশিয়ান গেমসেও দেখা গেছে জাপানিজ একটি এয়ার লাইনস এয়ার পার্টনার ছিল। তবে তারা কি ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছিল সেটা বিওএ কর্মকর্তারাই বলতে পারেন।
ক্রীড়াঙ্গনে তুমুল আলোচনা, টিভিতে টক শো থেকে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে মেজর অব. ইমরোজের আবির্ভাব। টেলিভিশনের পর্দা থেকে তিনি সরাসরি ক্রীড়া পরিচালনার মূল দায়িত্বে পৌছে যান। অন্যদিকে জোবায়দুর রহমান রানা শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিওএ উপ-মহাসচিব ছিলেন। সে সময়ও তার বিরুদ্ধে বিওএ’র পক্ষ থেকে একাধিকবার সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমনের অভিযোগ উঠেছিলো। বাংলাদেশ দলের ভালোমন্দ দেখবালের জন্য কর্মকর্তারা বিদেশ গেলেও ব্যস্ত হয়ে পড়েন ঘুরাঘুরিতে,ভ্রমনে। ২০১০ দিল্লি গেমসেও জোবায়দুর রহমান রানার বিরুদ্ধে মিডিয়াগুলোতে তেমনি অভিযোগ উঠতে দেখা যায়।
যদিও তখনকার সময় বিওএতে দেখা যায়নি ক্রমাগত পদত্যাগের ঘটনা। এমন কি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে এমন অসন্তোষও দেখা যায়নি। অথচ বর্তমান কমিটির মেয়াদ একবছর শেষ না হতেই কার্যনির্বাহী কমিটিতে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
সদস্যের অসন্তোষের কারণ হিসেবে যদি এভাবে ক্রমাগত পদত্যাগ চলতেই থাকে,তাহলে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কর্তমান কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে এডহক কমিটি গঠন করার বিধান রয়েছে আইওসি’র গঠনতন্ত্রে। কারণ সদস্যরাই সকল ক্ষমতার উৎস। তারা যদি কমিটির প্রতি অনাস্থা আনে সেখানে আইওসি তাদের পক্ষেই থাকবে। এছাড়া ক্রীড়া ফেডারেশনগেুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয় আইওসি। কারণ তারাই হচ্ছে বিওএ’র কাউন্সিলর বা সাধারণ সদস্য। বাৎসরিক সাধারণ সভায় যদি তারা অনাস্থা নিয়ে আনে তাহলে এই কমিটি বহাল থাকার কোন সুযোগ নাই।
তবে অলিম্পিকে যদি কোন রাজনৈতিক প্রভাব থাকে সে ক্ষেত্রে আইওসি কতৃক নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পড়তে পারে। যদিও আপাতত সে বিপদে পড়ার কোনই আশঙ্কা নেই।






















