পিছিয়ে থেকেও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ঐতিহাসিক জয়
প্রথমে গোল করেও কানাডার টরন্টো স্টেডিয়াম জয় করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। তাদের কাঁদিয়ে জয়ের উল্লাসটা করলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ম্যাচটি ঘিরে ছিলো তুমুল উত্তেজনা। পেনাল্টি, ভিএআর (VAR) বিতর্ক, আর শেষ মুহূর্তের গোল—সব মিলিয়ে টরন্টোর এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ক্ল্যাসিক ছিল। তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, এই হারের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তি লুকা মদ্রিচের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের অবসান ঘটা।


ম্যাচের তিনটি গোলই হয়েছে বিরতির পর। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিসিচের গোলে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায়। স্তানিসিচের ক্রস থেকে বল পেয়ে অভিজ্ঞ উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ গোল করেন। পিছিয়ে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি পায়। সফল স্পট-কিকে গোল করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (১-১)। এই গোলের মাধ্যমে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের প্রথম গোল করার পাশাপাশি ইতিহাসের বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন।
ম্যাচের ঠিক শেষ দিকে রামোস ম্যাজিকে বিজয় উল্লাসে মেতে উঠে পর্তুগাল। ৮২ মিনিটে রোনালদোকে তুলে গনসালো রামোসকে মাঠে নামান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কোচের এই বাজি কাজে লাগে ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯৪ মিনিটে)। রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে উড়ন্ত হেডে গোল করে পর্তুগালকে উল্লাসে ভাসান রামোস।
তবে ম্যাচের একদম শেষ কিক থেকে ক্রোয়েশিয়ার ভার্দিওল গোল করলেও ভিএআর-এ তা অফসাইডের কারণে বাতিল হলে পর্তুগালের নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ষোলোতে তারা মুখোমুখি হবে স্পেনের!
৮৮ বছরের খরা কাটাল সুইজারল্যান্ড
কানাডার, বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার অনেকদিন মনে রাখবে সুইসরা। কারণ এই মাঠে বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে উঠেছে দেশটির ফুটবলাররা। আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে ম্যাচ জিতল। ৮৮ বছরের অভিশাপ মুক্ত হলো দলটি। ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপের প্রথম নক আউট পর্ব জিতেছিল সুইসরা। তাও দাপুটে ম্যাচ জিতে।

যদিও কিক অফের শুরুতেই বলের দখল ছিলো আলজেরিয়ার অনুকুলে। প্রথম দশ মিনিট বলের দখলে থাকলেও প্রথম সুযোগে আঘাত হানে সু্জারল্যান্ড। ২০ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বির চমৎকার ক্রস থেকে ১০ মিনিটে বল জালে জড়ান ব্রেল এমবোলো। এই ব্যবধানেই বিরতিতে যায় সুইজারল্যান্ড। বিরতি থেকে ফিরেই (৪৬ মিনিটে) ডি-বক্সের বাইরে থেকে নটিংহাম ফরেস্টের উইঙ্গার ড্যান এনদয়ে এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শটে গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করে দেন। ২-০ গোলের এই ব্যবধান দিয়েই ম্যাচের ইতি ঘটে।
যদিও আলজেরিয়া ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফলতা আসেনি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বেজে উঠার সাথে শেষ ষোলেতে প্রথমবারের মতো পা রাখলো মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা।

















