ইরাকের বড় হারেও প্রশংসায় ভাসছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে ট্রাজেডি গল্পের নায়ক আয়ান
- আপডেট সময় : ০৬:১০:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ৪৬ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বকাপে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরাক,সেই ১৯৮৬ সালের পর। দীর্ঘ সময় পরে বিশ্বকাপে ফিরেও ইরাক পারেনি বড় কোন চমক দেখাতে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের সামনে ৪-১ গোলে উড়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। তবে ২৯ মিনিটে গোল হজম করে সমতায় ফিরার একটা স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল তারকা স্ট্রাইকার আয়নার দূর্দান্ত এক গোলে। মিনিট দশেক পরেই সমতায় ফিরান আয়মান। যার উঠে আসার পিছনে জড়িয়ে আছে এক ট্রাজেডি গল্প।
২০০৮ সালে আয়মানের বয়স ছিল ১২ বছর, ওই সময় তার বাবা বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী কিনতে যাওয়ার পথে আল-কায়েদা সদস্যদের গুলিতে নিহত হন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন ইরাকি সেনাবাহিনীর সদস্য। এর কয়েক বছর পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতার মাঝে অপহৃত হন আয়মানের বড় ভাই। পরবর্তীতে তার আর খোঁজ মেলেনি।
পরিবারের কঠিন সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে ইরাকি এই তারকা স্ট্রাইকার বলেছিলেন, ‘পরিবারের দেখাশোনা করার লক্ষ্যে আমি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু মা রাজি হননি।’ বরং আয়মানকে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে উৎসাহ দিয়েছেন জন্মধারিনী মা। যে স্বপ্ন তাকে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার ইরাককে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। এরপর গোল করলেন বিশ্বকাপের অভিষেকে।
সেটাই শেষ নয়, ৩০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার পথেও তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিমানবন্দরে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আয়মানকে সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে অনুমতি না পাওয়ায় নিজ দেশে ফিরতে হয়েছে ইরাক দলের ফটোগ্রাফার তালাল সালাহকে।
ইরাকের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আয়মান হুসেইনের অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। অস্থিরতার মাঝেও ওই সময় ফুটবলই সাধারণ মানুষের মাঝে ঐক্য ও সাময়িক স্বস্তির মুহূর্ত এনে দিতো। আয়মান ২০২৩ সাল থেকে মেসোপটেমিয়ার লায়ন্স নামে পরিচিত ইরাকি ক্লাবের ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। হেডের মাধ্যমে গোল এবং বক্সের ভেতর তার নিখুঁত শট নেওয়ার দক্ষতাও পরিচিত করিয়েছে আয়মানকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ঐতিহাসিক অভিযানে তিনি ইরাকের সেরা পারফর্মার ছিলেন, করেন ১২টি গোল।
নরওয়ের বিপক্ষে দলের একমাত্র গোলটি আয়মানের স্মরণীয় হলেও, তাকে হতাশায় ডোবায় নিজেদের জালে করা আত্মঘাতী গোলের জন্য। তবে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের কাছ থেকে, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে বক্সের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুবই খুশি ও গর্বিত। মৌসুমে তার বেশ কিছু চোট ছিল। এরপরও এত শক্তি নিয়ে ৯০ মিনিট খেলা এবং গোল করা অসাধারণ ব্যাপার।’





















