ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, উড়ন্ত সূচনায় আর্জেন্টিনা

বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / ৮৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডাগ আউটে মেসিকে আলিঙ্গনে কেঁদেছেন কোচ স্ক্যালোনি। প্রথম গোলে সুখের জলে সুখ তারার মতো দুচোখ ঝলমল করার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি হয়েছিলো মেসির। গুরু শীর্ষের এমন আবেগ ছড়ানো মূহুর্তগুলো ভাইরাল হয়ে যায় গোটা বিশ্বে। ম্যাচ শেষ হতে তখনো কুড়ি মিনিট বাকি। কোচ স্ক্যালোনিও মেসিকে নিরাপদ থাকতেই মাঠ থেকে তুলে নিলেন। পরের ম্যাচের জন্যেই প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা হয়ত!

এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কাঁদতে দেখা গেছে স্কালোনিকে

তবে মাঠ ছেড়ে ডাক আউটে যেতেই মেসিকে আলিঙ্গনে দু’চোখ ভিজে যায় কোচের। এটি ছিলো শিষ্যের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান। স্কালোনি বলেছেন, ‘আমি বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছি। আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরেছি, চুমু খেয়েছি, তারপর বলেছি—তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমি জানি না, এর বাইরে কী বলব।’

আর্জেন্টাইন কোচের বিশ্বাস এখনো দলের প্রাণ ভোমরা লিওলেন মেসি। সেই বিশ্বাসে চিড় ধরেনি একটুও। হতাশ করেন নি ফুটবলের এই সর্বোচ্চপ্রাপ্তিদাতা। বিশ্বকাপ জিতেছেন, গোল্ডেন বল জিতেছেন দুবার। ব্যালন ডি অ’র মতো সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছে সর্বাধিক। এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই পূরণ করলেন বাকি থাকা অপূর্ণতা,হ্যাটট্রিক গোল। এই হ্যাটট্রিক মেসিকে নিয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। ছুঁয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে এখন এ দুজনের নামের পাশেই রয়েছে সর্বাধিক ১৬ গোল করে।

অথচ ৩৯ ছুঁই ছুঁই বয়সের মিসিকে নিয়ে অনেকে ভেবেছিলেন, সবকিছু জিতে যাওয়ার পর এই বিশ্বকাপটাই হয়তো খেলবেন না। কিন্তু তিনি খেলেছেন, হ্যাটট্রিকও করেছেন। আজ কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা।  শুধু কি তাই, ফুটবলে যেন নতুন করে আরেক মহাকাব্য রচনা করতে চলেছেন ফুটবলের এই যাদুকর।

এই বয়সে (৩৮ বছর ৩৫৭দিন) খুব কম সংখ্যক ফুটবলারই হ্যাটট্রিকের রেকর্ড রয়েছে। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে রোনালদোর সেই রেকর্ড ভেঙেছেন, ছুঁয়েছেন আরেকটি। পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করার রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। গত বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রোনালদো। তাঁর ছিল টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল। মেসি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ আসর।

৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গোলদাতাদের তালিকায়ও ৩ নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। এখানে তাঁর সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুনের রজার মিলা ও পর্তুগালের পেপে।

কানসাসে আজ প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াও ছিলো তুমুল লড়াকু। বল পায়ে দ্রুতিগতিতে আক্রমনে যাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে দলটির। কিন্তু সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন লিও মেসি। অভিজ্ঞ এই ফুটবলার আলজেরিয়ার গোল রক্ষক জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদানকে একে একে তিনবার পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।

কিক অফের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন জাতীয় দলের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলা মেসি।। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে লাগলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়। এরপরের ২টি গোল দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ ও ৭৬ মিনিটে। আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন। ১৬ মিনিট পর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পুরাতন সব রেকর্ড ভাঙ্গা মেসির সামনে আছে কেবলই নতুনত্ব। নিজেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমন মাইলফলকের ম্যাচের পরও মেসির অনুভূতিটা ছিল বেশ সাধারণ, ‘আমার পরিবার, সতীর্থ, যারা সব সময় আমার পাশে থাকে, তাদের সঙ্গে মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমি খুব বেশি।’

৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০২২ সালে কাতারে। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে মেসির দল। আর প্রথম ম্যাচেই মেসির এমন হ্যাটট্রিক আর্জেন্টিনার সেই স্বপ্নকে করে তুলেছে আরও উজ্জ্বল। অধিনায়ক হিসেবে দল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘আমাদের দলটি গোছানো ও শক্তিশালী। আমার নিজেরও বেশ ভালো লাগছে। তবে ম্যাচটিতে জিতাটা ছিলো কঠিন। সৌভাগ্যবশত ম্যাচটা আমরা জিততে পেরেছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’

গোলের পর কেন কাঁদলেন মেসি? জানালেন নিজেই

এদিকে ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। খেলা শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনা কোচের মুখে ঝরল মেসির প্রতি মুগ্ধতা, ‘মেসিকে নিয়ে কী বলব, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

যদিও কানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরুটাতেই ছিল নাটকীয়তা। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া দু দলই গোল পায়। তবে কিক অপের ৫ ও ৮ মিনিটে হওয়া দুটি গোলই বাদ পড়ে যায় অফসাইডের কারণে।  লিওনেল মেসির বিপরীতে তাই আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবির আনন্দটাও মাটি হয়ে যাায়। তবে ১৭ মিনিটে ঠিকই পাখির মতো ডানা মেলে উড়ার আনন্দটা পেলেন মেসি। ডি বক্সের প্রায় ২৫ গজ বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান চেষ্টা করলেও বলটিতে পাওয়ার থাকায় প্রতিহত করতে পারেনি।

বিরতিতে যাওয়ার ৫ মিনিট আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আলজেরিয়া। চাইবি শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিরতি শেষে ৫৪ মিনিটে লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির ডিফেন্স চেরা পাস পেয়ে শটও নিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন জিনেদিন জিদানের পুত্র লুকা।

৬০ মিনিটে দলকে আরেকটি গোল এনে দেন মেসি। গোলটি করতে কোনো পরিশ্রম করতে হয়নি। শুধু ঠান্ডা মাথায় জালের পথ দেখিয়ে দিতে হয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন ম্যাক অ্যালেক্সিস ম্যাক- অ্যালিস্টার। সেটা ধরতে গিয়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন লুকা, সামনেই থাকা মেসি বাঁ পায়ে শুধু আলতো টোকা দেন। ৬৬ মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন তিনি। এবার আলজেরিয়ার গোলরক্ষক বাধা হন। কর্নারের বিনিময়ে দলকে তৃতীয় গোল হজম করা থেকে বাঁচান।

আরও একবার আর্জেন্টিনাকে হাসিয়েছে রদ্রিগো দি পল–লিওনেল মেসির জুটি। মেসির প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট ছিল দি পলের

৭৬ মিনিটে আর পারলেন না লুকা। মেসি তার অপূর্ণতা ঘুচালেন। ডি বক্সের কাছাকাছি থেকে আরেকটি দুর্দান্ত শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।  তার হ্যাটট্রিকেই পরে আলজেরিয়াকে গুঁড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। তাতে জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনও শুরু করল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এবার আলজেরিয়াকে হারিয়ে শুভসূচনার পর স্কালোনির লক্ষ্য এখন আগামী সোমবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। ম্যাচটি জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, উড়ন্ত সূচনায় আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ০৪:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ডাগ আউটে মেসিকে আলিঙ্গনে কেঁদেছেন কোচ স্ক্যালোনি। প্রথম গোলে সুখের জলে সুখ তারার মতো দুচোখ ঝলমল করার দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি হয়েছিলো মেসির। গুরু শীর্ষের এমন আবেগ ছড়ানো মূহুর্তগুলো ভাইরাল হয়ে যায় গোটা বিশ্বে। ম্যাচ শেষ হতে তখনো কুড়ি মিনিট বাকি। কোচ স্ক্যালোনিও মেসিকে নিরাপদ থাকতেই মাঠ থেকে তুলে নিলেন। পরের ম্যাচের জন্যেই প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা হয়ত!

এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কাঁদতে দেখা গেছে স্কালোনিকে

তবে মাঠ ছেড়ে ডাক আউটে যেতেই মেসিকে আলিঙ্গনে দু’চোখ ভিজে যায় কোচের। এটি ছিলো শিষ্যের প্রতি ভালোবাসার প্রতিদান। স্কালোনি বলেছেন, ‘আমি বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছি। আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরেছি, চুমু খেয়েছি, তারপর বলেছি—তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমি জানি না, এর বাইরে কী বলব।’

আর্জেন্টাইন কোচের বিশ্বাস এখনো দলের প্রাণ ভোমরা লিওলেন মেসি। সেই বিশ্বাসে চিড় ধরেনি একটুও। হতাশ করেন নি ফুটবলের এই সর্বোচ্চপ্রাপ্তিদাতা। বিশ্বকাপ জিতেছেন, গোল্ডেন বল জিতেছেন দুবার। ব্যালন ডি অ’র মতো সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছে সর্বাধিক। এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই পূরণ করলেন বাকি থাকা অপূর্ণতা,হ্যাটট্রিক গোল। এই হ্যাটট্রিক মেসিকে নিয়ে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। ছুঁয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে এখন এ দুজনের নামের পাশেই রয়েছে সর্বাধিক ১৬ গোল করে।

অথচ ৩৯ ছুঁই ছুঁই বয়সের মিসিকে নিয়ে অনেকে ভেবেছিলেন, সবকিছু জিতে যাওয়ার পর এই বিশ্বকাপটাই হয়তো খেলবেন না। কিন্তু তিনি খেলেছেন, হ্যাটট্রিকও করেছেন। আজ কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা।  শুধু কি তাই, ফুটবলে যেন নতুন করে আরেক মহাকাব্য রচনা করতে চলেছেন ফুটবলের এই যাদুকর।

এই বয়সে (৩৮ বছর ৩৫৭দিন) খুব কম সংখ্যক ফুটবলারই হ্যাটট্রিকের রেকর্ড রয়েছে। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে রোনালদোর সেই রেকর্ড ভেঙেছেন, ছুঁয়েছেন আরেকটি। পাঁচটি ভিন্ন আসরে গোল করার রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। গত বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন রোনালদো। তাঁর ছিল টানা পাঁচ বিশ্বকাপে গোল। মেসি গোল করেছেন ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে। ব্যতিক্রম শুধু ২০১০ আসর।

৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গোলদাতাদের তালিকায়ও ৩ নম্বরে উঠে এসেছেন মেসি। এখানে তাঁর সামনে আছেন শুধু ক্যামেরুনের রজার মিলা ও পর্তুগালের পেপে।

কানসাসে আজ প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াও ছিলো তুমুল লড়াকু। বল পায়ে দ্রুতিগতিতে আক্রমনে যাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে দলটির। কিন্তু সেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন লিও মেসি। অভিজ্ঞ এই ফুটবলার আলজেরিয়ার গোল রক্ষক জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদানকে একে একে তিনবার পরাস্ত করে বল জালে পাঠান।

কিক অফের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন জাতীয় দলের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলা মেসি।। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর বাঁ পায়ের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের হাতে লাগলেও শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়। এরপরের ২টি গোল দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ ও ৭৬ মিনিটে। আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের শট থেকে ফিরতি বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন। ১৬ মিনিট পর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক শটে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পুরাতন সব রেকর্ড ভাঙ্গা মেসির সামনে আছে কেবলই নতুনত্ব। নিজেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এমন মাইলফলকের ম্যাচের পরও মেসির অনুভূতিটা ছিল বেশ সাধারণ, ‘আমার পরিবার, সতীর্থ, যারা সব সময় আমার পাশে থাকে, তাদের সঙ্গে মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমি খুব বেশি।’

৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০২২ সালে কাতারে। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে মেসির দল। আর প্রথম ম্যাচেই মেসির এমন হ্যাটট্রিক আর্জেন্টিনার সেই স্বপ্নকে করে তুলেছে আরও উজ্জ্বল। অধিনায়ক হিসেবে দল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘আমাদের দলটি গোছানো ও শক্তিশালী। আমার নিজেরও বেশ ভালো লাগছে। তবে ম্যাচটিতে জিতাটা ছিলো কঠিন। সৌভাগ্যবশত ম্যাচটা আমরা জিততে পেরেছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।’

গোলের পর কেন কাঁদলেন মেসি? জানালেন নিজেই

এদিকে ম্যাচ শেষে বরাবরের মতোই মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। খেলা শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনা কোচের মুখে ঝরল মেসির প্রতি মুগ্ধতা, ‘মেসিকে নিয়ে কী বলব, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

যদিও কানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরুটাতেই ছিল নাটকীয়তা। আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া দু দলই গোল পায়। তবে কিক অপের ৫ ও ৮ মিনিটে হওয়া দুটি গোলই বাদ পড়ে যায় অফসাইডের কারণে।  লিওনেল মেসির বিপরীতে তাই আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবির আনন্দটাও মাটি হয়ে যাায়। তবে ১৭ মিনিটে ঠিকই পাখির মতো ডানা মেলে উড়ার আনন্দটা পেলেন মেসি। ডি বক্সের প্রায় ২৫ গজ বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান চেষ্টা করলেও বলটিতে পাওয়ার থাকায় প্রতিহত করতে পারেনি।

বিরতিতে যাওয়ার ৫ মিনিট আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আলজেরিয়া। চাইবি শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিরতি শেষে ৫৪ মিনিটে লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির ডিফেন্স চেরা পাস পেয়ে শটও নিয়েছিলেন লাওতারো মার্তিনেজ। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন জিনেদিন জিদানের পুত্র লুকা।

৬০ মিনিটে দলকে আরেকটি গোল এনে দেন মেসি। গোলটি করতে কোনো পরিশ্রম করতে হয়নি। শুধু ঠান্ডা মাথায় জালের পথ দেখিয়ে দিতে হয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন ম্যাক অ্যালেক্সিস ম্যাক- অ্যালিস্টার। সেটা ধরতে গিয়ে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলেন লুকা, সামনেই থাকা মেসি বাঁ পায়ে শুধু আলতো টোকা দেন। ৬৬ মিনিটে বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকও পেতে পারতেন তিনি। এবার আলজেরিয়ার গোলরক্ষক বাধা হন। কর্নারের বিনিময়ে দলকে তৃতীয় গোল হজম করা থেকে বাঁচান।

আরও একবার আর্জেন্টিনাকে হাসিয়েছে রদ্রিগো দি পল–লিওনেল মেসির জুটি। মেসির প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট ছিল দি পলের

৭৬ মিনিটে আর পারলেন না লুকা। মেসি তার অপূর্ণতা ঘুচালেন। ডি বক্সের কাছাকাছি থেকে আরেকটি দুর্দান্ত শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।  তার হ্যাটট্রিকেই পরে আলজেরিয়াকে গুঁড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। তাতে জয় দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনও শুরু করল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এবার আলজেরিয়াকে হারিয়ে শুভসূচনার পর স্কালোনির লক্ষ্য এখন আগামী সোমবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া। ম্যাচটি জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের।