ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিশ্বকাপ বয়কটে ক্ষতি ৩৩০ কোটি টাকা! আইসিসিকে রাজি করাতে বিসিবি‘র নতুন পদক্ষেপ

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৮০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ বয়কটে বাংলাদেশের ক্ষতি ৩৩০ কোটি টাকা এমনটি দাবি  করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনো প্রত্যাশা করছে তাদের দল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিবে। সেখানে আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যদি বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করে। কিন্তু আইসিসি‘র সভাপতি ভারতীয় হওয়ায় এমন কি আইসিসি পুরো বোর্ডটি ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বাংলাদেশের এই অভিযোগ কোনভাবেই আমলে না নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিকল্প দল খেলানোর কথা ভাবছে। আইসিসি‘র সভায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় না সরিয়ে ভারতের মাটিতে শর্ত সাপেক্ষে খেলাতে নানা ধরণের চাপ এবং কুটকৌশল করে চলেছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি আইসিসি‘র। বাংলাদেশের তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় থেকেছে।

ভারতে গিয়ে আইসিসি‘র নানাবিধ শর্ত সাপেক্ষে খেলানো টাইগারদের জন্য রীতিমতো অপমান জনক। আর তাই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইসিসিকে বারবার বুজানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। যদিও বিকল্প হিসেবে একের পর এক আল্টিমেটাম দিয়ে চলেছে আইসিসি।

মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশের কারণে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার আশ্রয় দাতা ভারতের সাথে বাংলাদেশ সরকারের দূরত্ব তৈরি শুরু হয়। যা কিনা ক্রিকেটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। প্রথম চোবলটা পড়েছে আইপিএলের নিলামে কোলকাতার হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজের ওপর। ভারতীয় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তার কারণে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। সে প্রভাবটা এবার বিশ্বকাপেও পড়েছে। এক মুস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না ভারত সরকার,সেখানে গোটা দলের নিরাপত্তার বিষয়টি আর জোরদার হয়ে উঠাই স্বাভাবিক নয়কি?

বৃহস্পতিবার  যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে স্রেফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো রকম সুযোগ নেই। অর্থাৎ আইসিসি ভেন্যু না বদলানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পরও বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে অটল আছে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের অটল অবস্থানের কথা জানিয়ে আবারও আইসিসি বরাবর ই-মেইল করেছে বিসিবি। তাতে অনুরোধ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠলে স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি সেটির সুরাহা করে।

বিসিবির আশা, তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠাবে। তবে আইসিসি এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু বলেনি। আর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নীরব। ফলে আইসিসি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানলে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড খেলার সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসরে বি গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপাল। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের দুই শহর—কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম মনে করছে বাংলাদেশ খেলা বয়কটে টাইগারদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩০ কোটি টাকা। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এতে তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং আর্থিক বছরের অন্যান্য আয় হারানোর কারণে এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশ বয়কট করলে র‌্যাংকিয়ের নিচে থাকা স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত আইসিসি থেকে স্কটল্যান্ডকে কোন কিছু জানানো হয়নি। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের যোগাযোগ প্রধান চার্লস প্যাটারসন পিটিআইকে বলেন, ‘এই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। পরিস্থিতি বদলালে আমাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।’

বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের মোট চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল—তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। কিন্তু আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে দল পাওয়া বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ‘চারপাশের অনির্দিষ্ট পরিস্থিতির উন্নয়ন’-এর কথা বলে বাদ দেওয়ার পরই বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যুটি তোলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপ বয়কটে ক্ষতি ৩৩০ কোটি টাকা! আইসিসিকে রাজি করাতে বিসিবি‘র নতুন পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপ বয়কটে বাংলাদেশের ক্ষতি ৩৩০ কোটি টাকা এমনটি দাবি  করছে ভারতীয় গণমাধ্যম। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনো প্রত্যাশা করছে তাদের দল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিবে। সেখানে আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যদি বাংলাদেশের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করে। কিন্তু আইসিসি‘র সভাপতি ভারতীয় হওয়ায় এমন কি আইসিসি পুরো বোর্ডটি ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বাংলাদেশের এই অভিযোগ কোনভাবেই আমলে না নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিকল্প দল খেলানোর কথা ভাবছে। আইসিসি‘র সভায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় না সরিয়ে ভারতের মাটিতে শর্ত সাপেক্ষে খেলাতে নানা ধরণের চাপ এবং কুটকৌশল করে চলেছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি আইসিসি‘র। বাংলাদেশের তাদের সিদ্ধান্তে অনঢ় থেকেছে।

ভারতে গিয়ে আইসিসি‘র নানাবিধ শর্ত সাপেক্ষে খেলানো টাইগারদের জন্য রীতিমতো অপমান জনক। আর তাই নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইসিসিকে বারবার বুজানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি। যদিও বিকল্প হিসেবে একের পর এক আল্টিমেটাম দিয়ে চলেছে আইসিসি।

মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় রাজনীতির অনুপ্রবেশের কারণে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট হাসিনার আশ্রয় দাতা ভারতের সাথে বাংলাদেশ সরকারের দূরত্ব তৈরি শুরু হয়। যা কিনা ক্রিকেটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। প্রথম চোবলটা পড়েছে আইপিএলের নিলামে কোলকাতার হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজের ওপর। ভারতীয় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তার কারণে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। সে প্রভাবটা এবার বিশ্বকাপেও পড়েছে। এক মুস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না ভারত সরকার,সেখানে গোটা দলের নিরাপত্তার বিষয়টি আর জোরদার হয়ে উঠাই স্বাভাবিক নয়কি?

বৃহস্পতিবার  যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে স্রেফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো রকম সুযোগ নেই। অর্থাৎ আইসিসি ভেন্যু না বদলানোর সিদ্ধান্ত জানানোর পরও বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার অবস্থানে অটল আছে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নিজেদের অটল অবস্থানের কথা জানিয়ে আবারও আইসিসি বরাবর ই-মেইল করেছে বিসিবি। তাতে অনুরোধ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবির বিষয়টি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠলে স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি সেটির সুরাহা করে।

বিসিবির আশা, তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠাবে। তবে আইসিসি এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু বলেনি। আর ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই নীরব। ফলে আইসিসি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানলে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড খেলার সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসরে বি গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও নেপাল। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের দুই শহর—কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স ও মুম্বাইয়ে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম মনে করছে বাংলাদেশ খেলা বয়কটে টাইগারদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৩০ কোটি টাকা। কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এতে তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং আর্থিক বছরের অন্যান্য আয় হারানোর কারণে এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশ বয়কট করলে র‌্যাংকিয়ের নিচে থাকা স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত আইসিসি থেকে স্কটল্যান্ডকে কোন কিছু জানানো হয়নি। ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের যোগাযোগ প্রধান চার্লস প্যাটারসন পিটিআইকে বলেন, ‘এই চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। পরিস্থিতি বদলালে আমাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।’

বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের মোট চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল—তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। কিন্তু আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সে দল পাওয়া বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ‘চারপাশের অনির্দিষ্ট পরিস্থিতির উন্নয়ন’-এর কথা বলে বাদ দেওয়ার পরই বাংলাদেশ নিরাপত্তা ইস্যুটি তোলে।