প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতি, আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সময়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত উড়োজাহাজে বারবার কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। এসব ত্রুটির প্রকৃত কারণ কী, কোন পর্যায়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা কী, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ক্রয়চুক্তিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। প্রতিষ্ঠানের আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়।
অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত অর্থ এখনো অনাদায়ি রয়েছে এবং আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া এবং এখনো ঝুলে থাকা প্রতিটি অডিট আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণপত্রসহ একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর পরবর্তী নির্ধারিত সভায় বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি সম্পদ ও অর্থের সুরক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেবিচককে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।














