সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ফাইলে অনুমোদনের অভিযোগ, পাল্টা চ্যালেঞ্জ আসিফের
- আপডেট সময় : ০৯:২১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবে স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল নিজে সই করে নিয়েছেন বলে সাবেক উপদেষ্টারি বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম। শনিবার ২৩ মে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই জোর করে ফাইল অনুমোদন করেছিলেন । তিনি বলেন, ‘একটা ফাইল আমার নোটিশে এসেছে। অন্তবর্তী সরকারের সময় একজন উপদেষ্টা (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) সচিবের সই ছাড়াই জোর করে ফাইল নিয়েছেন, নিজে সই করে অনুমোদন দিয়েছেন। এরাও এই তদন্তের মধ্যে আসবে যেটি একদম রুলস অব প্রসিডিউর, রুলস অব বিজনেসের পরিপন্থি। কারণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবের সই ব্যতিরেখে কখনই মন্ত্রী একটি ফাইল অনুমোদন দিতে পারে না। এটি কখনই আইনে রুলস অব প্রসিডিউরে এবং রুলস অব বিজনেসে নেই।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, পিরোজপুর জেলায় বিগত ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে গত ১৫-১৭ বছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে পিরোজপুরে এক ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। বিগত সরকারের সময় কোনো বাস্তব কাজ সম্পন্ন না করেই শুধু ভুয়া বিল তৈরি করে ট্রেজারি থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডারের পরেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যার সঙ্গে তৎকালীন প্রভাবশালী সচিব ও কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ঠিকাদারদের অধিকাংশই বর্তমানে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিরোজপুরের অনেক প্রকল্প রাতের অন্ধকারে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন করা হয়েছিল।
দুর্নীতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেখানে কোনো সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ রোড নেই। ফলে জনগণ মই দিয়ে ব্রিজে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। পিরোজপুর জেলাটি গত ১৮ মাস ধরে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ও উন্নয়ন বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের পর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পিরোজপুর পরিদর্শন করবেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন প্রকল্পের বাইরে থাকা রাস্তা ও ব্রিজগুলোর সংস্কার কাজ সীমিত আকারে দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সমস্ত নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুম থেকেই এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
ইজি বাইক বা ইলেকট্রিক যানবাহনের শৃঙ্খলার জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বুয়েট কর্তৃক নকশা অনুমোদিত হলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো এসব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দিতে পারবে।
আসিফ মাহমদু সজিব ভুঁইয়ার চ্যালেঞ্জ
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। নিজের ভেরিফাইড ফেস বুকে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, আমার মনে হয় এটা নিয়ে ক্লিয়ারটি প্রয়োজন। এটজাস্ট কোন ফাইলটি সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। এটা তো অন পেপার থাকার কথা। ফাইলে স্বাক্ষর আমার আছে অথচ সচিবের নাই। তবে মাঝে মাঝে যেটা হয় সচিব যদি কখনো বিদেশ সফরে থাকে তখন তার কাজগুলো অতিরিক্ত সচিব সিনিয়রিটি হিসেবে করে থাকনে। তিনি সচিবের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সচিবের টেবিল ছাড়া উপদেষ্টার টেবিলে আসার কথা না। আসবেও না। এটা অনুমোদন দেয়া তো অনেক দূরের আলাপ।
আমি মি.শাহআলমের কাছে অনুরোধ করবো, তিনি যদি যথেষ্ট সৎ সাহস রাখেন তাহলে এটজাস্ট কোন ফাইল সেটা ক্লিয়ার করবেন। এটা ধোঁয়াশা রাখার বিষয় না। আমি এর উত্তর দিতে প্রস্তুত আছি। আমাকে উনার অফিসে কল করলে অবশ্য যাবো এবং এর সৎ উত্তর দিতে রাজি আছি। এমন কি এ ব্যাপারে আগামীকালই যেন আমাকে কল করা হয়, বিষয়টি পরিস্কার করা হয়। বিষয়টি মিডিয়ায় হতে পারে,পাবলিকলি হতে পারে। উনারা তদন্ত করতে পারেন। এবং করা উচিত। আমরাও একটা বিষয় নিয়ে করেছি। এখন উনারাও করতে পারেন।
উনি যদি বিষয়টি পরিস্কার না করেন তাহলে আমি ধরে নিবো উনারা আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমনটি করছেন। একটু পরিট্যাকেলি রঙ দেয়ার জন্য হয়ত এখানে আমার নামটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো বিয়টি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের তত্ববধানে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।



















