আইসিসির কোর্টে বিসিবি‘র বর্তমান কমিটির ভাগ্য
- আপডেট সময় : ১১:১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
গত বছর অক্টোবরে হওযা বিসিবি‘র নির্বাচনকে প্রহসন মূলক নির্বাচন বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্রীড়া সংগঠকরা। তাদের বক্তব্যে পরিস্কার ছিলো যে, অন্তর্বর্তীকালীণ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিলো বিসিবি‘র নির্বাচনে। আর তাই সরকার বদলের সাথে সাথে বিসিবি‘র প্রহসন মূলক নির্বচিত কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আহবান জানানো হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ৫ সদসের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাবেক বিচারপতি একে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি রোববার ৫ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যেখানে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ছিলো গঠনতন্ত্র সংস্কারের পরামর্শ।
যার প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদনের পরেই বিসিবি‘র নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তবে তদন্ত কমিটির ভাষাগত দিক যেন বাতলে দিচ্ছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ছিলো। কাউন্সিলর গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েই ছিলা সরকারের হস্তক্ষেপ। পছন্দের পার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য নানা অপকৌশল অবলম্বন করায় নির্কাচন বয়কট করেছিলেন ক্রীড়াসংগঠকরা। আর সেই সত্যতাই মিলছে তদন্ত কমিটি কতৃক গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশে। এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যাখ্যা ছিলো। বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সুন্দর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তদন্ত কমিটি সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত না করলেও জানা গেছে, তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে, তাতে বিসিবি নির্বাচনের অসচ্ছতা, অনিয়ম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিলেছে। কাজেই রিপোর্টে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করা না হলেও অনেক সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং যুক্তি-বিবৃতিতে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অসচ্ছতা, অনিয়ম এবং সরকারি হস্তক্ষেপের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, তদন্ত কমিটি বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করেছে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার পরামর্শ দিয়েছে। তার মানে পুরো প্রক্রিয়ায় গলদ ছিল এবং তদন্ত কমিটি সেই গলদ খুঁজে পেয়েই তা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে।
একটি গলদে ভরা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত কমিটি তাই হয়তো বৈধতা হারাতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নির্বাচিত কমিটি হয়েও গত প্রায় সাত মাসে দেশীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করতে না পারা এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে লিগ চালু না হওয়ার দায়ও বর্তমান বোর্ডের বড় ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেটিও এনএসসির গঠনতন্ত্র মোতাবেক বিসিবির বর্তমান কমিটির বৈধতা বাতিলের আরেকটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে দেশের ক্রীড়া অভিবাবক আমিনুল হক জানিয়ে দিয়েছেন তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদন আইসিসি‘র কাছে পাঠানো হবে। আইসিসি‘র গাইড লাইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে ধরেই নেওয়া যায়, আইসিসির কাছে বিসিবি ও এনএসসি এসব দালিলিক প্রমাণ পাঠালে এবং আইসিসির পক্ষ থেকে আর কোনো বাধা না থাকলে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভাঙতে আর কোনো আইনি বা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।
বিসিবি‘র নির্বাচিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার রেওয়াজ বাংলাদেশের অনেক পুরানো কালচার। তাই ধারনা করা হচ্ছে ২০১৮ সালের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ জনের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হতে পারে। তবে আইনি কোন জটিলতা আছে কিনা সেদিকে নজর রেখেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এগুচ্ছে। পাশাপাশি আইসিসি‘র সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।



















