ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হরমুজের তেলেসমাতিতে পুড়ছে বাংলাদেশ, নিত্যপন্যেও পড়ছে প্রভাব

বদরুল আলম চৌধুরী
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই রুট দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের জাহাজসহ নানা পন্যাদি সরবরাহ হয়ে থাকে। ইরাণের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খুলে দেয়ার কয়েকঘন্টার পর এই পথ দিয়ে নৌযান চলাচল আবারো বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না তোলা পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

ইরান অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা এক ধরণের ‘সমুদ্রদস্যুতা’।প্রণালীটি এখন আইআরজিসি (IRGC)-এর কঠোর তদারকিতে রয়েছে এবং বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বৈশ্বিক এই সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। প্রতিনিয়ত দেশের সকল পেট্রোলপাম্পে দেখা যাচ্ছে জ্বালানী তেলের জন্য দীর্ঘ এবং লম্বা লাইন। রীতিমতো হা হা কা র। যদিও বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। কিন্তু এরপরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং মানুষের কারণে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার শেষ বাধ্য হয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনটাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বৈশ্বিক সংকটের কারণে যদি জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধিই করতে হয় তাহলে সরকার শুরুর দিকেই করতে পারতো। আবার তার বিপরীতিতে যুক্তিটা হচ্ছে, একবার তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়া মানেই সব কিছুর দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া। যা কিনা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনাও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সরকার কতৃক জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে সেটাই হতে চলেছে দেশের। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের আগুনে পুড়ছে এখন বাংলাদেশের মানুষও। বাস মালিক সমিতি বাস ভাড়া বৃদ্ধি করার ঘোষনা দিয়েছে। সরকারের সাথে চলছে কথা চালাচালি। মালবাহী গাড়িগুলো মোচ পাকাচ্ছে। খাদ্যদ্রব্যের উপরও পড়ছে এর প্রভাব। মাছ,মুরগি,শাক সব্জি কোন কিছুই এর প্রভাব মুক্ত নয়। জনজীবন আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠছে। অল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে হা হা কা র বেশি। কল-কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ছে। চাকরি হারাচ্ছেন অনেকেই।

এদিকে তেলের প্রভাবটা এবার পড়েছে গ্যাসের উপরও। যে পরিমান দেশে মজুত গ্যাস আছে তাতে আর মাত্র এক যুগ চলার মতো ক্ষমতা রয়েছে বলে স্বয়ং বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছেন। শুধু তাই, ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ১৮দিনে বাড়লো ৬০০ টাকা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হরমুজের তেলেসমাতিতে পুড়ছে বাংলাদেশ, নিত্যপন্যেও পড়ছে প্রভাব

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই রুট দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের জাহাজসহ নানা পন্যাদি সরবরাহ হয়ে থাকে। ইরাণের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খুলে দেয়ার কয়েকঘন্টার পর এই পথ দিয়ে নৌযান চলাচল আবারো বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না তোলা পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

ইরান অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর অবৈধ নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা এক ধরণের ‘সমুদ্রদস্যুতা’।প্রণালীটি এখন আইআরজিসি (IRGC)-এর কঠোর তদারকিতে রয়েছে এবং বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বৈশ্বিক এই সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। প্রতিনিয়ত দেশের সকল পেট্রোলপাম্পে দেখা যাচ্ছে জ্বালানী তেলের জন্য দীর্ঘ এবং লম্বা লাইন। রীতিমতো হা হা কা র। যদিও বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। কিন্তু এরপরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং মানুষের কারণে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার শেষ বাধ্য হয়ে তেলের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনটাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বৈশ্বিক সংকটের কারণে যদি জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধিই করতে হয় তাহলে সরকার শুরুর দিকেই করতে পারতো। আবার তার বিপরীতিতে যুক্তিটা হচ্ছে, একবার তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়া মানেই সব কিছুর দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়া। যা কিনা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনাও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সরকার কতৃক জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে সেটাই হতে চলেছে দেশের। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের আগুনে পুড়ছে এখন বাংলাদেশের মানুষও। বাস মালিক সমিতি বাস ভাড়া বৃদ্ধি করার ঘোষনা দিয়েছে। সরকারের সাথে চলছে কথা চালাচালি। মালবাহী গাড়িগুলো মোচ পাকাচ্ছে। খাদ্যদ্রব্যের উপরও পড়ছে এর প্রভাব। মাছ,মুরগি,শাক সব্জি কোন কিছুই এর প্রভাব মুক্ত নয়। জনজীবন আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠছে। অল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে হা হা কা র বেশি। কল-কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ছে। চাকরি হারাচ্ছেন অনেকেই।

এদিকে তেলের প্রভাবটা এবার পড়েছে গ্যাসের উপরও। যে পরিমান দেশে মজুত গ্যাস আছে তাতে আর মাত্র এক যুগ চলার মতো ক্ষমতা রয়েছে বলে স্বয়ং বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছেন। শুধু তাই, ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ১৮দিনে বাড়লো ৬০০ টাকা।