হামজাদের বরণ করতে এখনো প্রস্তুত হয়নি জাতীয় স্টেডিয়াম, ২২ মে মাঠ বুঝে পাবে বাফুফে
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
- / ২০০ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ সিংগাপুরের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে খেলবেন হামজা চৌধুরীরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলুড়ে এই ফুটবলারের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে রীতিমতো একটা জোয়ার বইছে। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক ম্যাচটা মেঘালয়ের শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন হামজা। গোলশুন্য ওই ম্যাচের প্রধান আকর্ষনও ছিলেন হামজা। বাংলাদেশ চারটি সুযোগ কাজে লাগে ব্যর্থ হওয়ায় হামজার অভিষেকটা বিজয়ের বেশে হতে পারেনি। তবে তার নৈপুন্য যে সবার নজর কেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একাই ভারতের সকল আক্রমন সামাল দিয়েছেন। পাত্তাই পাননি ভারতীয় আক্রমনের কোন খেলোয়াড়। যোগ্য সতীর্থের অভাব অনুভব করেছিলেন বলেই আক্রমনে যাননি।
হামজার সেই অভাবটা ঘুচাতে মাঠে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। শুধু তাই নয়, বিশ্বের আনাচে কানাচে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলারদের খোঁজ শুরু করেন। এমন কি পেয়েও গেছেন বেশ ক’জন প্রতিভাবান আক্রমন ভাগের ফুটবলার। কানাডিয়ান লিগ খেলুড়ে শমিত সোমসহ বেশ ক’জন ফুটবলার। প্রত্যাশা করা হচ্ছে পরের ম্যাচের আগেই বাফুফে তাদের পেতে যাচ্চে। হামজা চৌধুরীর দেশপ্রেমে তারাও উদ্ভুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে রাজি হয়ে যান। শমিত সোম তো বলেই ফেলেছেন হামজা অনেক উচু মানের ফুটবলার। সে বাংলাদেশের জার্সিতে খেললে আমি নয় কেন।
আগামী ১০ জুন বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ। যা কিনা ঘরের মাঠে হামজা চৌধুরীর অভিষেক হতে যাচ্ছে। আসন্ন ওই ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবলাঙ্গনে উত্তেজনা চরমে। হামজার খেলার দেখতে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সবাই। প্রত্যাশা করা হচ্ছে ওই ম্যাচে হামজাসহ নতুন আরও তিনজনকে দেখা যেতে পারে। আর তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে সিংগাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ হটফেভারিট দল হিসেবেই মাঠে নামবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ওই ম্যাচে হামজাদের বরণ করতে কতোটা প্রস্তুত বাংলাদেশ জাতীয় স্টেডিয়াম? প্রায় চার বছরের অধিক সময় ধরে জাতীয় স্টেডিয়ামে সংস্কার কাজই শুধু চলছে। শেষ হয়েও যেন থেকে যাচ্ছে অনেক কাজ। মাঠটি প্রস্তুত থাকলেও গ্যালারিতে চলছে টুকটাক। তথ্যমতে জানা যায়, সিংগাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বাফুফে সাধারণ গ্যালারীতে ১৮ হাজার ৩০০ টিকিট অনলাইনে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে সংষ্কারের পর সাধারণ গ্যালারীর ১৮,৩০০ আসনই ছিল গ্যালারী শেডের নিচে। শোনা যায় এখন সেখান থেকে ৪০৫ টি চেয়ার সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
জাতীয় স্টেডিয়ামের পূর্ব-পশ্চিম দুই গ্যালারীতে বেশ কিছু অংশে বেশ গাদাগাদি করে চেয়ার বসানো হয়। দর্শক পরিপূর্ণ গ্যালারীতে সেই সকল আসনে ভালোভাবে যাতায়াত করাটা হব কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এ সমস্যা চিহ্নিত করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোঃ আজমুল হক বলেন, ‘৪০৫ টি চেয়ার বিদ্যমান জায়গা থেকে সরিয়ে মশাল গেটের পাশে দু’টি ফাকা জায়গায় বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’
২০২১ সাল থেকে জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলছে। প্রায় চার বছর হতে চলছে। এখন শেষ পর্যায়ে এসেও নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন বাফুফেকে ২২ মে’র মধ্যে স্টেডিয়াম পরিপূর্ণ প্রস্তত করার ডেডলাইন দিয়েছে। নির্ধারিত সময়েই বাফুফেকে হস্তান্তর করার ব্যাপারে আশাবাদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পরিচালকের, ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ফ্লাডলাইট স্থাপনও শেষ পর্যায়ের। আমরা পরিপূর্ণভাবে ২২ মে’র মধ্যে বাফুফেকে বুঝিয়ে দিতে পারব।’
ঘাসের মাঠের দায়িত্ব ইতোমধ্যে বাফুফে নিয়েছে। প্রেসবক্সসহ আরো অনেক বিষয়ে বাফুফে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে পর্যবেক্ষণ করতে দিয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই বিষয়গুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কাজ করছে।
১০ জুন হামজা চৌধুরির ঢাকায় অভিষেক হওয়ার কথা। সেই ম্যাচ উপলক্ষ্যে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। গ্যালারীর শেডের বাইরে চারশ চেয়ার সরলেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আশাবাদী বাফুফে শেডের বাইরে অন্যত্র চেয়ার স্থাপন করে সাধারণ দর্শক আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার। সাধারণ গ্যালারীর বাইরে ভিআইপি, ক্লাব হাউজে আসন সংখ্যা চার হাজারের বেশি। সেই চেয়ারগুলো বিদেশ থেকে এনে বসানো।






















