মায়ের ভালোবাসা,ত্যাগ ও উদারতা থেকে আমরা শক্তি, ঐক্য, দেশপ্রেম খুঁজে পাই : তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬৭ বার পড়া হয়েছে
বিগত সরকারের রসাতলে পড়ে গত প্রায় সতের বছর প্রবাসী হয়ে থাকার পর মা বেগম খালেদা জিয়ার চরম অসুস্থতার খবরে দেশে ফিরেন তারেক রহমান। কিন্তু মা বেগম খালেদা জিয়া বেশিদিন বাঁচেন নি। আশি বছর বয়সে তিনি নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন পরপারে। তার মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকাহত।
একমাত্র ছেলে তারেক রহমানও মায়ের মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে আছেন। একমাত্র অভিবাবক হারিয়ে তারেক রহমান যেন শূন্যতায় ভাসছেন। মায়ের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজের ফেসবুক পোস্টে সে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেছেন, গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।
তারেক রহমান বলেন, অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে; তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
‘শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রাণপ্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।’
আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজ তার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা জুগিয়েছে।
‘আল্লাহ যেন আমার মায়ের রুহুকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’



















