পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে উচ্ছাস মোদী-অমিত শাহের, আলোচনায় সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।এই বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২০৪ আসন এবং মমতার তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮৩ আসন। এছাড়া কংগ্রেস দুটি, সিপিএম একটি এবং অন্যান্য তিনটি আসন পেয়েছে।
এমন বিজয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনতার শক্তি জয়ী হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি বিজয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে প্রণাম জানাই।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতে, অনুপ্রবেশকারী পৃষ্ঠপোষকদের যোগ্য জবাব দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদী ও অমিত।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, আমার মতো প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। যে গঙ্গোত্রীতে মা গঙ্গার উৎস, সেখান থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির গেরুয়া পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে। বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ফল। সেই সব পরিবারের ধৈর্যের জয়, যারা হিংসা সহ্য করেও গেরুয়া পতাকা ছাড়েনি।
‘শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছানোর এই কঠিন যাত্রায় যে কর্মীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি, সেই সব কর্মী ও তাদের পরিবারকে প্রণাম জানাই। বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বিজেপির সেই সব ত্যাগী কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।’
অমিত শাহ আরও লেখেন, চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহাপুরুষের পবিত্রভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা ও ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে।
এদিকে বিজেপির জয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হতেই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়া নিয়ে চলছে রাজ্যের গুঞ্জন। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়েছিলেন যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন, যেন তৃণমূলের ‘বহিরাগতদের’ দল হওয়ার বয়ানকে খণ্ডন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, জনগণ বিজেপিকে এক বিশাল ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং আমি তাদের আশ্বস্ত করছি যে আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সব অংশের মানুষের জন্য সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত। প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে বার বার উঠে এসেছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার অনুপ্রবেশকারী সমস্যা ইস্যু করেন।
অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিভিন্ন জেলায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটি আসনটি তৃণমূলের দখলে থাকলেও সেখানে অটো ইউনিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। খরদহ আসনে বিজেপির জয়েয় পরেই সেখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি পার্টি অফিস ভাঙা হয়। সূত্র: আনন্দবাজার
মোদির ভাসন
মোদি তার ভাষণে বলছেন, এবারের ভোটের মাধ্যমে বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। বাংলা ভয় থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়ন দ্বারা রাজ্যটি পূর্ণ হয়েছে। মোদি বলেছেন, “বাংলায় বিজেপির এই সাফল্যের কৃতিত্ব আমি বাংলার সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করছি। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।“
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নারীরা তৃণমূল ও ডিএমকে-কে শাস্তি দিয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আমি কিছুদিন আগেই বলেছিলাম যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা যারা করবে, তাদের নারীশক্তির রোষানলে পড়তে হবে। আমাদের দেশের মা-বোনেরা এখন কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে সেই শাস্তিই দিয়েছে।”
“কেরালাতে বামপন্থীদের দশ বছরের কুশাসনের সুবাদে কংগ্রেস কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, আমার বিশ্বাস যে আগামী নির্বাচনে কেরালার বোনেরাও এই দলকে উচিত শিক্ষা দেবে। একইভাবে উত্তরপ্রদেশের নারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে সমাজবাদী পার্টিকেও… নারীবিদ্বেষী সমাজবাদী পার্টি যা-ই করুক না কেন, তারা তাদের পাপ কোনোভাবেই মুছে ফেলতে পারবে না।” সূত্র: এনডিটিভি










