ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আছে শুধুই বিসিবি গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ,স্বপদেই থাকছেন বুলবুল!

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • তদন্ত রিপোর্টে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি
  • চারটি কারণে তদন্ত কমিটির আহবানে সাড়া দেয়নি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টাে
  • আমার চেয়ারে আমিই বসবো

অন্তর্বর্তীকালীণ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন সরকারের এই সময় ঘটনার সত্যতা খুঁজতে গঠিত হয় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি।১৫ কার্যদিবসের পর আজ রোববার দেশের ক্রীড়া অভিবাবক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবে কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। জমাদেন স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। কি ছিলো এই তদন্ত রিপোর্টে! এ নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ছিলো রাজ্যের কৌতুহল।  কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধানের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে তদন্ত রিপোটের ফলাফল শুন্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞাবাদ করেছি। যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অভিযুক্ত না করে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। যা হয়েছে, যা হয়নি, এসব রিপোর্ট দিয়েছি।’

কাউকে দোষারোপ না করে তদন্ত কমিটি দেশের ক্রীড়া অভিবাবক সংস্থার সামনে একটি সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সেখানে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা সুপারিশ করা হয়েছে। এই নিয়ে এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপার আছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হচ্ছে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সবচে ধনী ফেডারেশন। যে ফেডারেশনের বাৎসরিক বাজেটই হচ্ছে দুই থেকে আড়াইশত কোটি টাকা। আর তাই বিসিবি’র উপর সবার শকুন দৃষ্টি থাকে।যে কারণে বিসিবি’র সভাপতি পদ পেতে সরকার দলীয় লোকজনের ভিতরেও চলতে দেখা যায় অন্যরকম এক প্রতিযোগিততা। আর এই পদটিও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্ধারন হয়ে থাকে। বাকি সবই অনেকটা নাটকীয়তার বহিপ্রকাশ মাত্র।

বিগত সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন সময়ের নির্বাচন সে বার্তাই বহন করছে। সরকার প্রধান থেকে যাকে পছন্দ করা হবে তিনিই হবেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও সেখানেও দেখা গেছে অন্তর্বর্তীর সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা যার পক্ষে ছিলেন তাকেই নিয়মের ভিতর দিয়ে বোর্ড সভাপতি হিসেবে পাশ করিয়ে আনা হয়। তবে নিয়মের ভিতর দিয়ে সভাপতি পদটি পাশ করানো হলেও সেখানেও সততার ব্যর্তয় ঘটেছে বলে জোরালো অভিযোগ ওঠেছিলো। বিশেষ করে ভোট‍ার বা কাউন্সিলর গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এখানে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে সরকারের পক্ষ থেকে যাদের চাওয়া হয়েছে তারাই নিয়মবর্হিভূতভাবে কাউন্সিলর বা ভোট প্রয়োগের ক্ষমতা পেয়েছেন বলে ক্রীড়া সংগঠকদের কাছ থেকে অভিযোগগুলো উঠে আসে। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পছন্দের হিসেবে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়ে যান বোর্ড সভাপতি।

সরকারের বদলের সংগঠকদের পক্ষ থেকে আদালতে মামলাও করা হয়। যা এখনো বিচারাধীন। আর এই সুযোগটি গ্রহন করেই তদন্ত কমিটির তদন্তের আহবানে সাড়া দেয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি তার ফেসবুক পোষ্টে পরিস্কার করে জানিয়ে দেন কেন তিনি তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি।

সেই পোস্টে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা লিখেছেন,‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি- প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরের বোর্ডে পরিচালকের পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকারের বিষয়ে জানানো হলো। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোনো সদুত্তর পাইনি। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, কীভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হবো না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেয়নি।’

প্রসঙ্গত, তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ ও নানান অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বড় একটি অংশ বিসিবির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। একইসঙ্গে তারা বয়কট করে আসছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। যে কারণে এখনও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ায়নি। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্রীড়া সংগঠকরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন এনএসসির কাছে।

এদিকে তদন্ত কমিটি কতৃক তদন্ত রিপোটের ফলাফল শুন্য দেখে বোর্ড সভাপতি ‌আমিনুল ইসলাম বুলবুলও নড়ে চড়ে বসেন।এত চাপের মুখেও নিজের পদ ছাড়তে রাজি নন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি মিডিয়াকে জানিয়ে দেন তিনি তার চেয়ারেই আছেন,সেই চেয়ারেই বসবেন। যা কিনা ক্রিকেটভিত্তিক  ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর এক প্রদিবেদনে উঠে এসেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার চেয়ারেই বসব, এছাড়া আমি আর কী করতে পারি? সবার শেষে যদি কেউ যায়, তবে আমিই হব সেই ব্যক্তি। আমার একটি অত্যন্ত নিবেদিত ও সৎ দল রয়েছে, তাদের নিয়ে আমি দেশের ক্রিকেটের সেবা করতে চাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কেউই অপরিহার্য নয়। আমি আইসিসিতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি। আমি বলছি না আমি বিশাল কিছু, কিন্তু অভিজ্ঞতার কারণেই আমি এখানে বসেছি। দেশের জন্য সবকিছু ছেড়ে এখানে এসেছি। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে, তবে অন্য পথ দেখব, কিন্তু আপাতত আমি দেশের পাশেই থাকতে চাই।’

তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে আমিনুল জানান, সময়ের সাথে সমন্বয় না হওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমেই কাউন্সিলরদের নাম আসার কথা। যখন আমরা দেখলাম মাত্র ৩টি নাম এসেছে, তখন আমরা জেলা ও বিভাগগুলোকে পুনরায় চিঠি পাঠিয়ে নাম পাঠাতে বলেছিলাম। এই একটি জায়গাতেই আমার সম্পৃক্ততা ছিল।’

২০২৫ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিসিবির দায়িত্ব নিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। শুরুতে একে টি-টোয়েন্টি ইনিংসের মতো সংক্ষিপ্ত সময় বললেও অক্টোবর নির্বাচনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সেই সময় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল আমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তদন্ত কমিটির রিপোর্টে আছে শুধুই বিসিবি গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ,স্বপদেই থাকছেন বুলবুল!

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • তদন্ত রিপোর্টে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি
  • চারটি কারণে তদন্ত কমিটির আহবানে সাড়া দেয়নি সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টাে
  • আমার চেয়ারে আমিই বসবো

অন্তর্বর্তীকালীণ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন সরকারের এই সময় ঘটনার সত্যতা খুঁজতে গঠিত হয় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি।১৫ কার্যদিবসের পর আজ রোববার দেশের ক্রীড়া অভিবাবক সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবে কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। জমাদেন স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। কি ছিলো এই তদন্ত রিপোর্টে! এ নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ছিলো রাজ্যের কৌতুহল।  কিন্তু তদন্ত কমিটির প্রধানের দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে তদন্ত রিপোটের ফলাফল শুন্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। নিরপেক্ষভাবে চেষ্টা করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞাবাদ করেছি। যা পেয়েছি, সেভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অভিযুক্ত না করে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। যা হয়েছে, যা হয়নি, এসব রিপোর্ট দিয়েছি।’

কাউকে দোষারোপ না করে তদন্ত কমিটি দেশের ক্রীড়া অভিবাবক সংস্থার সামনে একটি সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সেখানে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা সুপারিশ করা হয়েছে। এই নিয়ে এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপার আছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হচ্ছে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মধ্যে সবচে ধনী ফেডারেশন। যে ফেডারেশনের বাৎসরিক বাজেটই হচ্ছে দুই থেকে আড়াইশত কোটি টাকা। আর তাই বিসিবি’র উপর সবার শকুন দৃষ্টি থাকে।যে কারণে বিসিবি’র সভাপতি পদ পেতে সরকার দলীয় লোকজনের ভিতরেও চলতে দেখা যায় অন্যরকম এক প্রতিযোগিততা। আর এই পদটিও দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্ধারন হয়ে থাকে। বাকি সবই অনেকটা নাটকীয়তার বহিপ্রকাশ মাত্র।

বিগত সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন সময়ের নির্বাচন সে বার্তাই বহন করছে। সরকার প্রধান থেকে যাকে পছন্দ করা হবে তিনিই হবেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও সেখানেও দেখা গেছে অন্তর্বর্তীর সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা যার পক্ষে ছিলেন তাকেই নিয়মের ভিতর দিয়ে বোর্ড সভাপতি হিসেবে পাশ করিয়ে আনা হয়। তবে নিয়মের ভিতর দিয়ে সভাপতি পদটি পাশ করানো হলেও সেখানেও সততার ব্যর্তয় ঘটেছে বলে জোরালো অভিযোগ ওঠেছিলো। বিশেষ করে ভোট‍ার বা কাউন্সিলর গঠনের পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এখানে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে সরকারের পক্ষ থেকে যাদের চাওয়া হয়েছে তারাই নিয়মবর্হিভূতভাবে কাউন্সিলর বা ভোট প্রয়োগের ক্ষমতা পেয়েছেন বলে ক্রীড়া সংগঠকদের কাছ থেকে অভিযোগগুলো উঠে আসে। এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পছন্দের হিসেবে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল হয়ে যান বোর্ড সভাপতি।

সরকারের বদলের সংগঠকদের পক্ষ থেকে আদালতে মামলাও করা হয়। যা এখনো বিচারাধীন। আর এই সুযোগটি গ্রহন করেই তদন্ত কমিটির তদন্তের আহবানে সাড়া দেয়নি অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি তার ফেসবুক পোষ্টে পরিস্কার করে জানিয়ে দেন কেন তিনি তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া দেননি।

সেই পোস্টে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা লিখেছেন,‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি- প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড পরিচালকদের পরের বোর্ডে পরিচালকের পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে সাক্ষাৎকারের বিষয়ে জানানো হলো। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা তদন্ত করতে পারেন কি না জানতে চেয়ে কোনো সদুত্তর পাইনি। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, কীভাবে প্রজ্ঞাপন দিতে হয়, কোনটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কোনটা বিচারাধীন বিষয়, কোনটা আদালত অবমাননা এটা হয়তো আপনারা বোঝেন না অথবা তোয়াক্কা করেন না। আমি তো আর জেনে-বুঝে এসব নিয়মবহির্ভূত আর আদালত অবমাননার মতো কাজে শামিল হবো না। এজন্যই বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারের নোটিশে আমি সাড়া দেয়নি।’

প্রসঙ্গত, তৎকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ ও নানান অনিয়মের অভিযোগে ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের বড় একটি অংশ বিসিবির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। একইসঙ্গে তারা বয়কট করে আসছিল ঘরোয়া ক্রিকেট। যে কারণে এখনও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ায়নি। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্রীড়া সংগঠকরা বিসিবির নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেন এনএসসির কাছে।

এদিকে তদন্ত কমিটি কতৃক তদন্ত রিপোটের ফলাফল শুন্য দেখে বোর্ড সভাপতি ‌আমিনুল ইসলাম বুলবুলও নড়ে চড়ে বসেন।এত চাপের মুখেও নিজের পদ ছাড়তে রাজি নন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি মিডিয়াকে জানিয়ে দেন তিনি তার চেয়ারেই আছেন,সেই চেয়ারেই বসবেন। যা কিনা ক্রিকেটভিত্তিক  ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর এক প্রদিবেদনে উঠে এসেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার চেয়ারেই বসব, এছাড়া আমি আর কী করতে পারি? সবার শেষে যদি কেউ যায়, তবে আমিই হব সেই ব্যক্তি। আমার একটি অত্যন্ত নিবেদিত ও সৎ দল রয়েছে, তাদের নিয়ে আমি দেশের ক্রিকেটের সেবা করতে চাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কেউই অপরিহার্য নয়। আমি আইসিসিতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি। আমি বলছি না আমি বিশাল কিছু, কিন্তু অভিজ্ঞতার কারণেই আমি এখানে বসেছি। দেশের জন্য সবকিছু ছেড়ে এখানে এসেছি। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে, তবে অন্য পথ দেখব, কিন্তু আপাতত আমি দেশের পাশেই থাকতে চাই।’

তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে আমিনুল জানান, সময়ের সাথে সমন্বয় না হওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমেই কাউন্সিলরদের নাম আসার কথা। যখন আমরা দেখলাম মাত্র ৩টি নাম এসেছে, তখন আমরা জেলা ও বিভাগগুলোকে পুনরায় চিঠি পাঠিয়ে নাম পাঠাতে বলেছিলাম। এই একটি জায়গাতেই আমার সম্পৃক্ততা ছিল।’

২০২৫ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিসিবির দায়িত্ব নিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। শুরুতে একে টি-টোয়েন্টি ইনিংসের মতো সংক্ষিপ্ত সময় বললেও অক্টোবর নির্বাচনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সেই সময় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল আমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।