বিএনপি’র বিজয়ে যে সব আসনগুলো ছিলো এগিয়ে
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকা। যে কোন দিক দিয়ে বাংলাদেশের এই শহরটিকে এগিয়ে রাখছেন সবাই। হোক না সেটা আন্দোলন কিংবা সফলতা। সব কিছুর কেন্দ্র বিন্দুই হচ্ছে ঢাকা। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলটাও যেন এই ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঢাকার সফলতা মানেই যে সারা দেশের সফলতা। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সবার দৃষ্টি ছিলো এই ঢাকার দিকেই। যে দলই ঢাকায় সবচে বেশি আসন পায় তাদেরকেই দেখা গেছে শেষ নির্বাচনী বৈতরণী পার করে সরকার গঠেন করতে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। সারা দেশের নির্বাচনী ফলাফলটা এবারও ঢাকা নির্ভর হয়ে উঠেছে। জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি ২৯৯ আসনের মধ্যে জয়ী হয়েছে ২১২টি আসনে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই জিতেছে সর্বাধিক ১৩টি আসন। ৭টিতে জিতেছে জামায়াতে ইসলাম।
এছাড়া লক্ষীপুর, নোয়াখালী,ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম,সিলেট, বগুড়া, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল,ভোলা,টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ,জামালপুর,মাগুরাও নারায়নগঞ্জে ছিলো বিএনপির ভোট যুদ্ধে আধিপত্য। ভোট যুদ্ধে কোন কোন জেলায় বিএনপি‘র আধিপত্য ছিলো তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র ডেইলি ঢাকা মেট্রোর পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো…
ঢাকার ২০টি আসনের ১৩টি বিএনপি‘র
ঢাকায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টি আসনেই জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জয় পেয়েছে ৭টি আসনে।
ঢাকা-১
এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
ঢাকা-২
এ আসনে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৫৫ ভোট।
ঢাকা-৩
এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
ঢাকা-৪
এ আসনে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
ঢাকা-৫
এই আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট এবং বিএনপির নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
ঢাকা-৬
এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন
ঢাকা-৭
১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-৮
এই আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫ হাজার ২৩৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-৯
এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা (ফুটবল) পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
ঢাকা-১০
এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের চেয়ে ৩ হাজার ৩০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। শেখ রবিউল আলম পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
ঢাকা-১১
এ আসনে ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
ঢাকা-১২
বিএনপি জোটের প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫৩,৭৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি) সাইফুল হক (কোদাল) পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট।
ঢাকা-১৩
এ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। ববি হাজ্জাজ ২ হাজার ৩২০ ভোটে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-১৪
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।
ঢাকা-১৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩,৫১৭ ভোট। শফিকুর রহমান ২১ হাজার ৬১৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-১৬
এ আসনে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ঢাকা-১৭
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা-১৮
এনসিপির প্রার্থীকে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার৭১৫ ভোট। এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।
ঢাকা-১৯
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ঢাকার ২০
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এনসিপি প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট।
ঝালকাঠিতে সবগুলোতে বিএনপির জয়
তুমুল হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই করে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনের দুটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল পেয়েছেন ৬২ হাজার ১০ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০ ভোট। ব্যবধান ছিলো ৬ হাজার ৮৯০ ভোটের।
অন্যদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট। ইলেন ভূট্টো ৪৩ হাজার ২৯৫ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
মুন্সীগঞ্জের ৩ আসনই বিএনপি‘র
মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে বিশাল ভোটে জয়লাভ করেছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী একেএম ফখরুদ্দিন রাজি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ তার নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট।
সিরাজগঞ্জে ও বিএনপির জয়-জয়াকার
অন্যান্য জেলার ন্যায় সিরাজগঞ্জেও বিএনপি প্রার্থীদের জয়-জয়কার। এই জেলার ৬টি আসনের ৫টিতেই পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। একটিতে জয় এসেছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনে মোট ১৬৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত সেলিম রেজা জয়ী হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে। তিনি প্রতিপক্ষের চেয়ে ৮ হাজার ৪০০ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত মাওলানা শাহিনুর আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৭৩২ ভোট।সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে বিএনপি মনোনীত আইনুল হক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুর রউফ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০২ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত রফিকুল ইসলাম খান ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি মনোনীত এম আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণার আগে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলের সঙ্গে এই ভোট যোগ করা হয়।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে বিএনপি মনোনীত আমিরুল ইসলাম খান আলীমকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াতের আলী আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত এম এ মুহিত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির এস এম সাইফ মোস্তাফিজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট।
খুলনাতেও বেশি আসন পেয়েছে বিএনপি
খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপি এবং ২টিতে জামায়াত ইসলামী জয়লাভ করেছে।
খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান, খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে মোহাম্মদ আলি আসগর লবি এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়েছেন।
খুলনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির এজাজ খান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।
খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট।
খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৮ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।
খুলনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে আলি আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট।
এছাড়া খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট।
বরিশালের ৬টি আসনে ধানের শীষের জয়
বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টায় বেসরকারিভাবে জেলার ৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন।
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৯টি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। জহির উদ্দিন স্বপন ৫৪ হাজার ২৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪০টি। বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মন্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। সান্টু ৬৭ হাজার ৫৪০ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২৬টি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন ১৮ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩০৫ এবং না ভোট পড়েছে ৪০ হাজার ৬৩৬টি।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব আহসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তিনি ৫৩ হাজার ৬৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ এবং না ভোট পড়েছে ৬৪ হাজার ৫১১টি।
বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৬টি। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। সরোয়ার ৪০ হাজার ১০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ এবং না ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৯৪টি।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৩টি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট। আবুল হোসেন খান ২৬ হাজার ২২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪ এবং না ভোট পড়েছে ৪১ হাজার ৭০০টি।
নোয়াখালীতে ৫টি বিএনপি একটিতে এনসিপি জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অপর এক আসনে জয় পেয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের ১৪২টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. ছাইফ উল্লাহ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট।
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের ১১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ধানের শীষের জয়নুল আবদীন ফারুক ৮৫ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীকের সুলতান মাহমুদ জাকারিয়া পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৩৯ ভোট।
নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১৬৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলে ধানের শীষ প্রতীকে মো. বরকত উল্লাহ বুলু ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা বোরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮২৪ ভোট।
নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের ১৯৮টি কেন্দ্রের ভোটে মো. শাহজাহান ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট।
নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট, সদর আংশিক) আসনের ১৫৬টি কেন্দ্রের ভোটে বিএনপির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট। পোস্টাল ব্যালটসহ ২৭ হাজার ৩৫৫ ভোটের ব্যবধানে ফখরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০৪টি কেন্দ্রের ভোটে শাপলা কলি প্রতীকের আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯৫১ ভোট।
শরীয়তপুরের ৩টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীর বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর-১ সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী জালালুদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ১৪ হাজার ৬৮১ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর-২ সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান কিরণ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৮১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন পেয়েছেন ৭০ হাজার ৮৯২ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ৫৮ হাজার ৯২২ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর-৩ সংসদীয় আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৮৪ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ৩৭ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই বিএনপির জয়
আওয়ামী ঘাটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা, ডা. বাবর আলী ও এস এম জিলানী বেসরকারিভাবে জয় লাভ করেছেন।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।
গোপালগঞ্জ -২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. কেএম বাবর আলী ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়লাভ হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন।
লক্ষীপুরে খায়ের-এ্যানি-নিজান-সেলিমের বিজয়
লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের শাপলা কলির প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ছেন।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এ আসনের সাবেক ৩ বারের সংসদ সদস্য। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এ আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট পেয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপিরসহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এ আসনের সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এআর হাফিজ উল্যাহ ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট পেয়েছে।
কুমিল্লার ১১ আসনের ৮টিতে বিএনপির জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ৩টি আসনের মধ্যে একটি করে আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের জয় লাভ করেছে। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ও এলডিপি সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ ৩৬ বছর পর পরাজিত হন।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাউদকান্দি উপজেলা জামায়াতের আমির মনিরুজ্জামান বাহালুল পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৮৪৫ ভোট।
কুমিল্লা-২ (হোমনা- তিতাস) আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়া ৭৭ হাজার ৩৭ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দলটির কুমিল্লা উত্তর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও মুরাদনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হাকিম সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৪৯ হাজার ৬৯২ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-(এনসিপির) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৮।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১০ হাজার ১৬৯। ভোট ব্যবধান ৯ হাজার ৯৩৮।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে ২ লাখ ১হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. মনিরুল হক চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৫১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৮১ হাজার ৮৫৫।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৪৩ হাজার ১৮১।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মো. শফিকুল আলম হেলাল পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৬১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৪৭।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূইয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন ১লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩৯ হাজার ৯৩৪।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫৬ হাজার ৬৭০।
ফেনীর সব কয়টিতে জিতেছে বিএনপি
ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের সব কটিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। তিন আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ৪২৮টি। ভোট পড়েছে গড়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ।
ফেনী-১ আসনে মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন ভোটার। বিএনপির প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা) ৫ হাজার ৩২৩, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪০, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা (বটগাছ) ৩১০, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) ২১৫ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন) ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।
ফেনী-২ আসনে মোট ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ দলীয় জোট থেকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (ঈগল) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা) ৬ হাজার ৮৪৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা) ৮২০, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ৮০১, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া) ৭০৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক) ৪০৯, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি) ৩২২, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ) ৩০৪, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা) ২৪০ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল) ২৩৯ ভোট পেয়েছেন।
ফেনী-৩ আসনে মোট ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৭০১, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৪২৭, বাসদের আবদুল মালেক (মই) ৭৩১, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের (চেয়ার) ৫৩১, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল) ৩২৭ ও খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ) ৩২০ ভোট পেয়েছেন।
বগুড়ার ৭টি আসনেই বিএনপির জয়
বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের ছয়টিতে বিপুল ভোটে এবং একটি আসনে তুলনামূলক কম ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ১ লাখ ১২ হাজার ৯২৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মীর শাহে আলম ৫২ হাজার ৭০৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪৩৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪০ জন।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি) আসনে বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ১৬ হাজার ৩৮০।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৩ জন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৫ হাজার ৫১২।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এ আসনে তার জয়ের ব্যবধান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে বিএনপির মোরশেদ মিল্টন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট।
ফরিদপুরে চারটির তিনটিতে বিএনপির জয়
ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ফলাফলে তিনটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী খোন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট।
ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী পান ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট।
ফরিদপুর–৩ আসনে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুত তাওয়াব পান ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।
ফরিদপুর–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সারোয়ার হোসেন পান ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।
টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের ৭টিতে বিএনপির জয়ী
টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং একটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফী (দাঁড়ি পাল্লা) পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট।
টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে এক লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হক নাসির (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক লাখ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (হাঁস প্রতীক) পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছে ৮০ হাজার ২৮৩, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রবিউল আওয়াল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর একেএম আব্দুল হামিদ প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৯১ হাজার ৯১৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৭১ হাজার ৪০ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল হরিণ প্রতীকে পেয়েছে ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট।
পিরোজপুরে তিন আসনের ২টিতে ধানের শীষের জয়
পিরোজপুরে তিনটি সংসদীয় আসনের দুটিতে বিএনপি জিতেছে এবং অন্যটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর বিজয় হয়েছে।
পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর, পিরোজপুর সদর ও ইন্দুরকানী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া) আসনে বিএনপির আহম্মদ সোহেল মন্জুর এবং পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর রুহুল আমিন দুলাল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র দুইজন প্রার্থী একে অপরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট কেন্দ্র ১৬৭টি। এ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় মাসুদ সাঈদী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮২৮টি ভোট তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৫টি ভোট।
পিরোজপুর-২ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় বিএনপির প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামীম সাঈদীর মধ্যে। ১৬৬টি ভোট কেন্দ্রের ভোটে ধানের শীষের আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫টি ভোট পেয়ে জয়ী হন।জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামীম সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮৯৭ ভোট।
পিরোজপুর-৩ আসনে ১৬৭টি কেন্দ্রে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. রুহুল আমীন দুলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী শামীম হামিদী।
বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফল সূত্রে জানা, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. রুহুল আমীন দুলাল পেয়েছেন ৬৩ হাজার ১৩২ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬২৩ ভোট। এতে ২৭ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছে ধানের শীষ।
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ৮টি আসনের ৭টিতে বিএনপির জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং একটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফী (দাঁড়ি পাল্লা) পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট।
টাঙ্গাইল-২ (ভুঞাপুর-গোপালপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে এক লাখ ৭ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এস এম ওবায়দুল হক নাসির (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮২ হাজার ৭৬৯ ভোট।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন এক লাখ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (হাঁস প্রতীক) পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছে ৮০ হাজার ২৮৩, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. রবিউল আওয়াল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর একেএম আব্দুল হামিদ প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৯১ হাজার ৯১৪ ভোট।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৭১ হাজার ৪০ ভোট।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল হরিণ প্রতীকে পেয়েছে ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট।
মাগুরার দুই আসনেই বিএনপির জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা জেলার দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।
মাগুরা-১ (সদর – শ্রীপুর) আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মনোয়ার হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মতিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাজিরুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ৩৩৫ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৬৮.৪০ ভাগ। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৭৫ এবং ভোট কেন্দ্র ১৫৬টি।
মাগুরা ২ (মহম্মদপুর-শালিখা-সদরের ৪টি ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ২২৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৬৯ ভাগ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৩৪ এবং ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি।
নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনের ৪টি বিএনপি জিতেছে
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে চারটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং একটিতে ১১–দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ–১ (রূপগঞ্জ)
রূপগঞ্জ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া (দিপু) ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নারায়ণগঞ্জ–২ (আড়াইহাজার)
আড়াইহাজার আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ইলিয়াস মোল্লা পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৮৭ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। নজরুল ইসলাম আজাদ বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক। তিনিও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নারায়ণগঞ্জ–৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ)
এই আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম (মান্নান) ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। এখানে ভোটের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। এবারই তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নারায়ণগঞ্জ–৪ (নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার একাংশ)
এ আসনে ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরিক দলের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী, যিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট। আবদুল্লাহ আল আমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। এবারই তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।
নারায়ণগঞ্জ–৫ (শহর–বন্দর)
এ আসনে বিএনপির আবুল কালাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৬ ভোট।
জামালপুরে ৫টি আসনেই বিএনপির জয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরে ৫টি সংসদীয় আসনের সবগুলোতেই বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতদের মধ্যে দুইজন আগে সংসদ সদস্য থাকলেও অপর তিনজন প্রথমবারের মত সংসদে যাবেন।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজর ৬৫৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী দাড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট। তাছাড়া ৪ হাজার ১২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ তালুকদার।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির এ.ই সুলতান মাহমুদ বাবু ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মো. ছামিউল হক ফারুকী পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪৩৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু বিষয়কসহ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি আরও তিনবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করলেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। জামায়াতে ইসলামীর মো. মজিবুর রহমান আজাদী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী শুভ কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনেও বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী ম মাহবুব জামান জুয়েলপেয়েছেন ১ হাজার ৩১৪।
কিশোরগঞ্জের ছয়ে পাঁচ বিএনপি
কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ হাদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৮৮ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে মোট ১৭০টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ১৫১টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী ডা. কর্নেল জিহাদ খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ১১৯টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সবেক সভাপতি (বহিষ্কৃত) নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট।
রাজশাহীতে ছয়ে চার আসন পেলে বিএনপি
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের আসনের মধ্যে চারটি আসনে জিতেছে বিএনপি। অন্য দুটিতে জিতেছে জামায়াত।
রাজশাহী-১ (তানোর- গোদাগাড়ী) আসনে ১৬০টি কেন্দ্রের ভোটে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী মজিবুর রহমান ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে একটি পোস্টালসহ মোট কেন্দ্র ১১৬টি। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট।
রাজশাহী-৩ আসনে পোস্টালসহ মোট কেন্দ্র ১৩০টি কেন্দ্রের ভোটে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে একটি পোস্টালসহ মোট ১২২টি কেন্দ্রের ভোটে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবদুল বারী সরদার ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে একটি পোস্টালসহ মোট ১৩২টি কেন্দ্রের ভোটে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫ ভোট।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট- বাঘা) আসনের ১২০টি ভোট কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচতি হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।




















