রংপুর, যশোর, কুড়িগ্রাম ও ঝিনাইদহে দাড়ি-পাল্লার চমক
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের ইতিহাসে একটি সুন্দর ঝামেলামুক্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৯ টি আসনের মধ্যে ২৯৬টি আসনের নির্বাচনী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনটি আসন যথাক্রমে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে, এই তিন আসনের ফলাফল পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি ২১১টি আসনে জয় লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ঐক্যজোট জিতেছে ৭৭টি আসনে। এছাড়া স্বতন্ত্র ৭ এবং হাতপাখা প্রতীকে ১ জন জয় লাভ করেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল সর্বোচ্চ আসনে জয়যুক্ত হয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় সুযোগ পাচ্ছে। তাদের এই বিজয়ে চমক ছিলো রংপুর,যশোর, কুড়িগ্রাম ও ঝিনাইদহের প্রার্থীদের ভূমিকা। এই অঞ্চলগুলো থেকে নিরঙ্কুষ বিজয় অর্জন করেছে স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকা এই দলটি। স্বাধীনতা গত ৪ বছরে জামায়াত ইসলামের এই অগ্রগতিটা অনেকটা র্যাপিড গতিতে হয়েছে।
রংপুরে জামায়াতের ছক্কা :
রংপুর হচ্ছে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টির দূর্গ। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির এই দুর্গ তছনছ করে দিয়েছে জামায়াতের ১১ দলীয় জোট। রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের ঘোষিত ফলাফলে ৬টি আসনের ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী এনসিপি।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক)
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুর আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
এ আসনে ১৩৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ)
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
রংপুর-২ আসনে ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৯। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ৫৬ হাজার ২০৩ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৬৪৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন)
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরের সাবেক আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট তৃতীয় হন।
রংপুর-৩ আসনটিতে ১৬৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ভোটার ছিলো ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৪ জন। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৫। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৭ হাজার ২০৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা)
এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
দুই উপজেলা নিয়ে গঠত এই আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর)
জামায়াতে ইসলামীর রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ ভোট।
১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৯ জন। এখানে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ৪০৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৮ দশমিক ৩১ শতাংশ।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ টি।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৫ জন। এখানকার ১১৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭৫ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৪৫২। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
যশোরে ছয় আসনের ৫টিই দাঁড়িপাল্লার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতে জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। একমাত্র যশোর-৩ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আশেক হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে জয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান। ১০২ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট। ২৫ হাজার ৫৫১ ভোট বেশি পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
যশোর-২ আসনে (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট। তিনি বিজয়ী ফরিদের চেয়ে ২৫ হাজার ৬৬৯ ভোট কম পেয়েছেন। এ আসনে ৮ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মোট ১৯০ কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪৭ ভোট। আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৯ ভোট। অর্থ্যাৎ ১৫ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের গোলাম রছুল বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৩। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ধানের শীষ প্রতীকের মতিয়ার রহমান ফারাজীর। ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭২ ভোট। ৪৯ হাজার ৩৬১ ভোটে হেরে গেছে ধানের শীষ। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট এক লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের রশীদ আহমাদ। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৬ জন।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোক্তার আলী। তিনি পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৫৩ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৭৯ ভোট। ১২ হাজার ২৭৪ ভোট বেশি পেয়েছে দাঁড়িপাল্লা। এ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫ জন।

কুড়িগ্রামেও জামায়াত জোটের নিরঙ্কুষ বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম জেলার চারটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই জামায়াতে ইসলাম জোট প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিটি আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও কোনো আসনে জয় পায়নি বিএনপি।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী) আসনে ২৩১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৪৯ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর-ফুলবাড়ী-রাজারহাট) আসনে মোট ২০৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির ড. আতিক মুজাহিদ শাপলা কলি মার্কায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির সোহেল হাসনাইন কায়কোবাদ ধানের শীষ মার্কায় পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৫ ভোট। ৮ হাজার ৫৩৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এনসিপি প্রার্থী আতিক মুজাহিদ।
কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী তাসভীর উল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৮২ ভোট।
কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। এ আসনে পোস্টাল ব্যালটে বৈধ ভোট পড়েছে ২ হাজার ৮৪৫টি। বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৬২ ভোট।
ঝিনাইদহের চার আসনের তিনটিতেই জামায়াতের জয়
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ঝিনাইদহের চারটি আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হয়েছে এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি।
ঝিনাইদহ-১ আসনে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট।
ঝিনাইদহ-২ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোটে জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল মজিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।
ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিয়ার রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেহেদী হাসান রনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ কাপ পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

চাপাই নবাবগঞ্জের সব কয়টিতেই জিতেছে জামায়াত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বিজয় লাভ করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ড. মিজানুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৮৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫১৫ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪৪ হাজার ৩৭৮।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৮৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৬ হাজার ১০৮।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ১৭২টি কেন্দ্র ছিল এবং সবকটি কেন্দ্র মিলিয়ে নুরুল ইসলাম বুলবুল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৫৯ হাজার ১৪৮।


















