চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিএনপি‘র ভূমিধ্বস বিজয়
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুষ বিজয় অর্জন করেছে। ২৯৯ টি আসনের নির্বাচনে ২০৬ আসনে জয় লাভ করে এখন সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে একাধিক সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। বাবা এবং মায়ের পর দেশ শাসনের দ্বায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন ছেলে তারেক রহমান। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক ইতিহাস হয়ে থাকলো। সারাদেশ ব্যাপী এই বিজয়ের মধ্যে বিএনপি‘র চমকটা ছিলো সিলেটও চট্টগ্রাম বিভাগে। এই দুটি বিভাগে ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। নায়েবে আমীর ড.শফিকুর রহমানের দেশ সিলেটে বিএনপি ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পায়। বাকি আসিনটিতে জয় পেয়েছে খেলাফত মজলিস। সিলেটে জামায়াত ছিলো আসন শুন্য।
একই ভাবে চট্টগ্রাম বিভাগেও নিরঙ্কুষ জয় পেয়েছে জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং দুটিতে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই করে জিতেছে জামায়াতে ইসলামী দল।
সিলেটে বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্য :
সিলেট জেলা : সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী ও সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া সিলেট-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান বিজয়ী হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা : সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে কয়ছর এম আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নুরুল ইসলাম নুরুল ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে কলিম উদ্দিন মিলন বিজয়ী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলা : মৌলভীবাজারেরও সবকটি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনে শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-৩ আসনে এম. নাসের রহমান ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলা : সংসদীয় ৪টি আসনের সবকটিতে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউছ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে এসএম ফয়সল বিজয়ী হয়েছেন।

চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের ১৪টি বিএনপি‘র
চট্টগ্রামের আসনগুলোতে অনেকটা হেসে খেলেই জয় পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা। ১৬ সংসদীয় আসনে ১৪টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। বাকি দুটির মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে ধানের শীষ সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়েছেন এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুক। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বাঁশখালী আসনেও। প্রথমবারের মতো আসনটি নিজেদের করে নিয়েছে জামায়াত। আবার জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়-লোহাগাড়া) আসনে সহজ জয় পেয়েছে জামায়াত।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট। অর্থাৎ ৯৮ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। ফটিকছড়ির বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরও জিতেছেন বড় ব্যবধানে। তিনি জামায়াত প্রার্থী থেকে ৭৬ হাজার ৩৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নুরুল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট। তার সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট নিয়ে হেরেছেন জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। রাতে ঘোষিত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৮৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন। আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮১৭ ভোট। তবে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগের দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারি) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেলেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এতে গিয়াস কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৫৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান ভোটগণনার পর এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এই আসনে মোট ৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির এই প্রার্থী মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন। এই আসন তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. প্রার্থী আবু নাছের পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। ধানের শীষ নিয়ে মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫০৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফলে সাঈদ আল নোমান ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট পেয়েছেন। এখানে সাঈদ আল নোমান বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জিতলেন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের সব ভোট গণনা শেষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১৫ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. শফিউল আলমের ভোট ৭৭ হাজার ৯১৬।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের বেসরকারি ফলাফলে ১১৩ কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে বিএনপির মো. এনামুল হক ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি মার্কার সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ার ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সব কেন্দ্রের ফলাফল এসেছে। মোট ১১৯ কেন্দ্র। বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২। মোমবাতি মার্কায় ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন এস এম শাহজাহান। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩৫ হাজার ৩০ ভোট। আনোয়ারা উপজেলা সহকারী রিটানিং অফিসার তাহমিনা আক্তার ভোটের ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে আলোচিত কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের ছেলে ওমর ফারুককে (ছাতা মার্কা) হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপিতে নবাগত জসিম উদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম মিয়ার দেওয়া তথ্য মতে, ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। বিজয়ী জসিম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। এখানে বিএনপি প্রার্থী মাত্র ১০২৬ ভোটের জিতেছেন।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন। এই আসনে সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বড় ব্যবধানে জিতেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাশঁখালী) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের কাছে হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। এখানে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ১৬৭। ধানের শীষের প্রার্থীর ভোট ৮৩ হাজার ১০৫। বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের থাকা ফুটবল মার্কার প্রার্থী লেয়াকত আলীর প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪৯২টি। সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন।



















