ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ভোটের আগে নেতাদের যে সব প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট যুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় দিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। সে সব বয়ানে আশ্বস্থ্য হয়ে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের পার্থীদের ভোট করবেন বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী। গত কয়েকদিন ধরেই রাজনীতিবিদদের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো শোনা যায়। দেখা যায় পরস্পর বিরোধী সমালোচনার ঝড়। তবে রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতিতে জনমনে ততোটা আশ্বস্থ্যতা দেখা না গেলেও ভোট দেয়ার একটা উচজ্ছাস ছিলো লক্ষণীয়।

তবুও রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি থেমে নেই। তাদের সেই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর কতোটা কার্যকর হবে সেটা নিয়েও থাকছে সংশয়। কারণ বিগত সময় রাজনীতিবিদদের গাল ভর্তি প্রতিশ্রুতি শোনায় অভ্যস্ত দেশের সাধারণ জনগন। তাই সবার মনে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে রাজনীতিবিদরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হবে তো? নিচে প্রধান দলগুলোর খন্ড বিশেষ প্রতিশ্রুতি ডেইলি ঢাকা মেট্রোর ‍পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো…

১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
বিএনপি তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা হ্রাসে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না – এমন বিধান চালুর কথা তারা বলছে। এছাড়া বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ প্রবর্তন, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তারা ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামী মূলত ইনসাফ কায়েম ও নৈতিকতাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে বেকারত্ব দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণ নয়, বরং ‘বিনাসুদে ঋণ’ বা করজে হাসানা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ইসলামী সমাজব্যবস্থার আলোকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণই তাদের মূল লক্ষ্য।

৩. ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)
এনসিপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মূলত তৃণমূল মানুষের অধিকার এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা প্রতিটি গ্রামকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং কৃষি উপকরণের দাম কমানোর অঙ্গীকার করেছে দলটি। এছাড়া তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করার কথা বলেছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য তারা উপজেলা পর্যায়ে কলকারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি ঘরে অন্তত একজনের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোটের আগে নেতাদের যে সব প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ০৯:০০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট যুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় দিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। সে সব বয়ানে আশ্বস্থ্য হয়ে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের পার্থীদের ভোট করবেন বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী। গত কয়েকদিন ধরেই রাজনীতিবিদদের সেই প্রতিশ্রুতিগুলো শোনা যায়। দেখা যায় পরস্পর বিরোধী সমালোচনার ঝড়। তবে রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতিতে জনমনে ততোটা আশ্বস্থ্যতা দেখা না গেলেও ভোট দেয়ার একটা উচজ্ছাস ছিলো লক্ষণীয়।

তবুও রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি থেমে নেই। তাদের সেই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর কতোটা কার্যকর হবে সেটা নিয়েও থাকছে সংশয়। কারণ বিগত সময় রাজনীতিবিদদের গাল ভর্তি প্রতিশ্রুতি শোনায় অভ্যস্ত দেশের সাধারণ জনগন। তাই সবার মনে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে রাজনীতিবিদরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন হবে তো? নিচে প্রধান দলগুলোর খন্ড বিশেষ প্রতিশ্রুতি ডেইলি ঢাকা মেট্রোর ‍পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো…

১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
বিএনপি তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা হ্রাসে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না – এমন বিধান চালুর কথা তারা বলছে। এছাড়া বেকারদের জন্য ‘বেকার ভাতা’ প্রবর্তন, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো বিতর্কিত আইন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তারা ‘রেইনবো নেশন’ গঠন এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামী মূলত ইনসাফ কায়েম ও নৈতিকতাভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইশতেহারে বেকারত্ব দূরীকরণে ক্ষুদ্র ঋণ নয়, বরং ‘বিনাসুদে ঋণ’ বা করজে হাসানা প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ইসলামী সমাজব্যবস্থার আলোকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণই তাদের মূল লক্ষ্য।

৩. ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)
এনসিপি তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মূলত তৃণমূল মানুষের অধিকার এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা প্রতিটি গ্রামকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনা এবং কৃষি উপকরণের দাম কমানোর অঙ্গীকার করেছে দলটি। এছাড়া তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করার কথা বলেছে। যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য তারা উপজেলা পর্যায়ে কলকারখানা স্থাপন এবং প্রতিটি ঘরে অন্তত একজনের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।