র্যাবের নতুন নাম স্পেশাল ইন্টারভেশন ফোর্স, আদেশ জারির পর কার্যক্রম শুরু
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৯ বার পড়া হয়েছে
বদলে গেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম। এই বাহিনীর নতুন নাম হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজ থেকে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) র্যাবের নতুন নাম। প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। আদেশ জারির পর এ নামে কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু। পোশাকও পরিবর্তন হচ্ছে। হয়তো পরবর্তী সপ্তাহেই নতুন পোশাকে দেখা যাবে।
তিনি বলেন, দেড় বছরে র্যাবের কাজের মানে পরিবর্তন এসেছে। অনেকে আশাবাদী ছিলেন র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে, সেজন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, টিআইবি তাদের কনসার্ন জানিয়েছে। এখন পুলিশের মনোবল, কর্মক্ষমতা অনেক বেড়ে গেছে। সুতরাং নির্বাচনে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।
তিনি বলেন, আল্লাহ চাইলে খুব ভালোভাবে নির্বাচন হবে, এ ক্ষেত্রে কারো কোনো সন্দেহ থাকার দরকার নেই। নির্বাচন ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল ও উৎসবমুখর হবে।
এর আগে ২০০৪ সালে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। যার নাম ছিলো র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, সংক্ষেপে র্যাব। গঠিত হওয়ার বছরেই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলিট ফোর্স র্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
মূলত দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলার মানোন্নয়নে গঠন করা হয়েছিল র্যাব। আত্মপ্রকাশের পর র্যাবের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় । যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ে র্যাবের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন । কয়েকটি আলোচিত । হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য র্যাব যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দা সংস্থারও সহযোগিতা নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় র্যাবের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। যুক্তরাষ্ট্র র্যাবকে জঙ্গি দমনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। র্যাবের বেশ কিছু অস্ত্রও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থি দমনের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ দমনেও র্যাবের সাফল্য ঈর্ষণীয়। রাজশাহীর বাগমারায় জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামে একটি জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। সারা দেশসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তৎকালীন জোট সরকার দাবি করে, ‘বাংলা ভাই’, ‘ইংলিশ ভাই’ নামে কেউ এ দেশে নেই। তখন ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দাবি করলেন, এ দেশে ‘বাংলা ভাই’ নামে এক ভয়ংকর জঙ্গি রয়েছে।
২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের মুক্তগাছায় এক অভিযানে গ্রেফতার হয় জেএমবির শুরা কমিটির প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই। ঐ বছরের ২ মার্চ সিলেটের শাপলাবাগে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গ্রেফতার হয় জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ আব্দুর রহমান। এরপর থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি আব্দুর রউফসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা। এদের মধ্যে শায়খ রহমান, বাংলা ভাই, মুফতি হান্নানসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হয়। র্যাবই এ দেশে জঙ্গি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
এর আগে ২০০৪ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় দেশের মূর্তিমান আতঙ্ক ও ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন পিচ্চি হান্নান। সর্বশেষ র্যাব দেশের উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে সুন্দরবনে বনদস্যু দমন করে প্রশংসিত হয়েছে। ভয়ংকর মাদক ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক প্রতিরোধে র্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তবে বিগত পনের বছর এই বাহিনীর কর্মকান্ড কিছুটা বিতর্কিত হয়ে ওঠেছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে একটি দলের হয়ে কাজ করার মতো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে প্রবলভাবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলতে হাসিনা সরকারের পতনের পর তাই এই বাহিনীর নাম পরিবর্তনেরও প্রশ্ন উঠে। পরিশেষে সেই কাজটিই সম্পন্ন করলো অন্তর্বর্তী সরকার।









