ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

বিএনপি খারাপ হলে তখন জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি প্রশ্ন তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় একটি রাজনৈতিক দল ক্রমাগত বিএনপি’র বদনাম গেয়ে যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে তারা স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে। ঠিক স্বৈরাচার যেভাবে বলত, তাদের ভাষাই ব্যবহার করছে। বিএনপি নিয়ে তাদের বক্তব্য যে, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল্। তো বিএনপি যদি এতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এ জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে দল বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে! সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দিয়ে শুধু চলে আসলেই হবে না, ভোটের ফলাফল কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন; মুরুব্বি যারা আছেন, আমাদের বয়েসী যারা আছেন, তারা দেখেছেন—সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ অগাস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ। সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনই হোক, কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ—এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে।

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ—এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।

ময়সিংহের এই নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমানে সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।  তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিএনপি খারাপ হলে তখন জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি প্রশ্ন তারেক রহমানের

আপডেট সময় : ১০:০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় একটি রাজনৈতিক দল ক্রমাগত বিএনপি’র বদনাম গেয়ে যাচ্ছে। বিএনপির বিরুদ্ধে তারা স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে। ঠিক স্বৈরাচার যেভাবে বলত, তাদের ভাষাই ব্যবহার করছে। বিএনপি নিয়ে তাদের বক্তব্য যে, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল্। তো বিএনপি যদি এতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এ জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে দল বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে! সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট দিয়ে শুধু চলে আসলেই হবে না, ভোটের ফলাফল কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন; মুরুব্বি যারা আছেন, আমাদের বয়েসী যারা আছেন, তারা দেখেছেন—সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ অগাস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ। সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনই হোক, কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ—এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে।

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ—এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।

ময়সিংহের এই নির্বাচনী প্রচারণায় তারেক রহমানে সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।  তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।